১৮ জুন ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ১২ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১৯মার্চ –২৫মার্চ ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 12 issue: Berlin, Monday 19Mar-25Mar 2018

সন্ত্রাসের অর্থায়নে ইবিএল, মাসোহারা দিয়ে রক্ষা

সন্ত্রাসী গ্রুপের পক্ষে অর্থায়নে প্রমাণ পাওয়ার পর লাখ টাকা জরিমানা

প্রতিবেদকঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর তারিখঃ 2013-03-19   সময়ঃ 18:44:30 পাঠক সংখ্যাঃ 717

 

ঢাকা: জরিমানা থেকে রেহাই পেতে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা অবৈধভাবে মাসোহারা দিতে রাজি হয়। এর জন্য জোর চেষ্টা চালাতে হয় ইবিএলের কর্তাদের। শেষ পর্যন্ত সাফল্য আসে। ঘটনার জের ধরে প্রতিমাসে দুই লাখ টাকা হারে এক ব্যক্তির পেছনে খরচ করছে ব্যাংকটি। এছাড়া মোটা অংকের এককালীন সুবিধা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তাকে।
সন্ত্রাসী গ্রুপের পক্ষে অর্থায়নে প্রমাণ পাওয়ার পর লাখ টাকা জরিমানা থেকে রেহাই পাওয়ার রহস্য উদঘাটনে চালানো বাংলানিউজের অনুসন্ধানে এমন সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাংলানিউজকে এসব জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্র এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। 
এর আগে এ নিয়ে প্রথম অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলানিউজ। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংক পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপরই সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বাংলানিউজকে ব্যাংকিং খাতের বড় অংকের জরিমানার ঘটনার পেছনে থাকা তথ্য বিস্তারিত জানাতে বাংলানিউজের প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
সূত্রগুলো জানায়, ইস্টার্ন ব্যাংকের জরিমানার বিষয়টি সরাসরি গভর্নরের দপ্তর থেকে নির্ধারিত হয়। তবে ফাইলটি গভর্নরের দপ্তরে যাতে না যায় সেজন্য আর্থিক সুবিধা পেয়ে তদারকি করতে থাকেন বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি অধস্তনদের নির্দেশ দেন, এ ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। কিন্তু তারই বিভাগের আরেক কর্মকর্তা এই অনৈতিক কাজের বিপক্ষে দাঁড়ান। সঙ্গে পান আরো কিছু মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে। তারা জোট বেঁধে ওই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিদেশে সফরে গেলে তড়িঘড়ি ফাইলটি গভর্নরের দপ্তরের উপস্থাপন করে।
সূত্রগুলো বলছে, এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান নিজে এই জরিমানা ঠিক করে ব্যবস্থা নিতে বলেন তৎকালীন একজন ডেপুটি গভর্নরকে। বর্তমানে তিনি অবসরে চলে গেছেন। ওই ডেপুটি গভর্নর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসেন জরিমানার বিষয়টি। তিনি এবং গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা মিলে জরিমানা থেকে ইবিএলকে রেহাই দেওয়ার কথা জানান। শর্ত দেওয়া হয়, ওই ডেপুটি গভর্নরের এক ভাইকে ব্যাংকের উর্ধ্বতন কোনো পর্যায়ে বসাতে হবে। তার নাম কামরুল হাসান সিদ্দিকী। ওই ডেপুটি গভর্নরের নামের সঙ্গেও সিদ্দিকী টাইটেল রয়েছে। ইবিএল বিনা বাক্যে রাজি হয়ে যায়। কারণ রক্ষা পাবে একটি কলংক থেকে। কামরুল হাসান মাসে দুই লাখ টাকা বেতনে যোগ দেন ইবিএলে। অপর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা এককালীন মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে জরিমানার ফাইলটি গায়েব করে ফেলেন।
সূত্র জানায়, কামরুল হাসান এখনও ইবিএল চাকরি করে যাচ্ছেন। তবে তিনি বড় কোনো পদে নেই। অনেকটা সম্মানজনকভাবে শুধু চাকরিতে তাকে বহাল রাখা হয়েছে। আর ব্যাংকিং ইতিহাসে দুর্নীতি করে মোটা অংকের একটি জরিমানা থেকে ভালোভাবেই রক্ষা পেলো ইবিএল।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বাংলানিউজে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গভর্নর ফাইলটি আবার দপ্তরে তৈরি করে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগকে।



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ