২০ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ২৮শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ০৯জুল – ১৫জুল ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 28th issue: Berlin,Sunday 09Jul– 15Jul 2017

‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ :: সমাজ বিপ্লবের মহাকাব্য

জয় হোক সকল মেহনতি–শ্রমিক–কৃষক–মজদুর–সর্বহারার।

প্রতিবেদকঃ মাহবুব হাসান তারিখঃ 2015-07-15   সময়ঃ 15:06:29 পাঠক সংখ্যাঃ 940

আজ ১৬৪ বছর একদিন পর আবারো কার্ল মার্কস ও ফেড্রিক এঙ্গেলস’র লেখা মানবমুক্তির শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য `কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’কে নিয়ে দু’একটা কথাই পাঠক আপনার সাথে ভাগ করে নিব। জগৎএর সকল মেহনতি, শ্রমজীবি, মজদুরের লাঞ্ছনারবঞ্চনার, আধিপত্যের কড়ালগ্রাসে দাসত্বের অমানবিক শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সভ্যতা গড়ে উঠার সাথে সাথে সুবিধাভোগীরা শ্রেণী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জমিফসলের মালিকানা থেকে শুরু করে সকল গোষ্ঠীয় আইনকানুন, অর্থনৈতিক কাঠামো, এমন কি নিজেদের ইচ্ছে মতন তারা একটি জীবনমানও তৈরী করেছে। যার প্রতিটি ক্রিয়াই নিম্নশ্রেণীর ওপর এক কসাঘাত। যারাই যখন সমস্ত ক্ষমতা কাঠামোটি নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারাই কৃত্রিমভাবে এক ধরণের সামাজিক শিক্ষাব্যবস্থাকে সুকঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে সমাজের মধ্যে শ্রেণী বৈষম্যকে একটি স্থায়ীরূপ দিয়ে কতগুলো সুবিধা অনুযায়ী মূল্যবোধ তৈরী করে সামগ্রিক জনগণকে নিষ্পেষিত করেছে। আর এই মানব সভ্যতায় এক আশ্চার্যজনক ঘটনা হলোযারাই সমাজ বা গোটা পৃথিবী ব্যবস্থা নিয়ে ভেবেছেন বা চিন্তার ইতিহাসকে বিভিন্নভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তাদের কারোর ভাবনা জগতেই এ ব্যপারটা কাজ করেনি যে আসলে এ মহাবিশ্বের মূল কার্যকারণটি কি? কিসের ভিত্তিতে তা অগ্রসরমান বা স্থির?

এক দ্বান্ধিক অবস্থার মধ্য দিয়ে সকল কিছুই নতুন এক উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। এ ছিলো নব এক আবিষ্কার। যা মানব জাতির চিন্তার ইতিহাসকে এক অনন্য ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ মহাকাব্যের উপহার দিয়েছিলো। মার্কসএঙ্গেলস’র আবিষ্কারটি কি? পুঁজিবাদী উৎপাদনপদ্ধতির এবং এই পদ্ধতি যে বুর্জোয়া সমাজ সৃষ্টি করেছে, তার গতি প্রকৃতির বিশেষ নিয়মগুলো তারা অর্ন্তদৃষ্টি সম্পন্ন এক যৌক্তিক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সকলের সামনে উপস্থিত করেছেন। পুরোনো যুক্তি কাঠামোর প্রক্রিয়া ও প্রবনতাগুলোকে সুনিপুন ও ঐতিহাসিকভাবে লব্ধ জ্ঞানকে খারিজ না করে তার থেকে বিভিন্ন প্রযোজনীয় উপাত্ত নিয়ে এক নতুন শক্তিশালী ও প্রখর যুক্তি কাঠামো উপস্থাপন করেছেন। যা বৈজ্ঞাণিকভাবেও সিদ্ধ। কমিউনিস্ট ইশতেহার পাঠ করার সময় আমাদের একটা কথা খুব ভালভাবে মনে রাখতে হবে যে মার্কস নিজেই একজন বিপ্লবী ছিলেন। তিনি তাঁর সমস্ত চিন্তা কাঠামোটিকে কাজে লাগিয়ে ছিলেন পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাটির চূড়ান্ত উচ্ছেদ করা। এবং সে সংগ্রামে সমস্ত জীবন তিনি ব্যয় করেছেন তাঁর সকল কাজে ও রচনাবলীতে। ইশতেহারের শিক্ষার আরো একটি প্রধান দিক হলোসমগ্র প্রলেতারিয়েতের স্বার্থ থেকে বিচ্ছিন্ন স্বতন্ত্র কোন স্বার্থ নেই। সর্বহারাশ্রেণী বা শোষিত শ্রেণীকে তার মুক্তির জন্য ‘উৎপাদনের প্রচলিত শক্তিগুলো এবং বিদ্যমান সামাজিক সম্পর্ক আর পরস্পরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকবে না। উৎপাদনের উপায়গুলোর মধ্যে বিপ্লবী শ্রেণী নিজেই সবচেয়ে শক্তিশালী উৎপাদিকা শক্তি। বিপ্লবী উৎপাদনগুলোকে একটি মাত্র শ্রেণীতে সংগঠিত করার পূর্বশর্ত হল ঐসব উপাদান থেকে পুরানো সমাজ কাঠামোর মধ্যে যেসব উৎপাদিকা শক্তি সৃষ্টি হওয়া সম্ভব…… আমরা কি তবে এই ধারণা নিয়ে ঘুরে বেড়াবো যে সাম্প্রতিক সমাজের উৎখাতের পর আর একটি আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে? নতুন এই আধিপত্য নতুন এক রাজনৈতিক ক্ষমতার সৃষ্টি করবে? কখনও না। শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির আবশ্যিক শর্ত হলোসমস্ত শ্রেণীরই অবসান ঘটবে।’ (মার্কস, ‘দর্শনের দারিদ্র’)

A scene from the German March Revolution in Berlin, 1848, Photo wikipedia.orgবিপ্লবী শ্রমিকশ্রেণীর প্রতি তার এই যে গভীর আস্থা, তা তিনি ইশতেহার রচনাকালীন সময় বিভিন্ন সময় এঙ্গেলসের সাথে আলোচনাও করেছেন। সকল শ্রেণী আধিপত্যের বিরুদ্ধে এটি হলো এক অসম ইশতেহার। সমগ্র মানব জাতিকে একটি সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গির ভেতর উসকে দিয়ে এক মানবিক সমাজ বিনির্মানের দিকে দ্বান্দ্বিক এক অবস্থার ভেতর দিয়ে ক্রম আরো উন্নত সমাজের দিকে যাত্রা জয়ের যে প্রক্রিয়া, কৌশল ও কৌশলগত অবস্থানের স্বরূপ তা ইশতেহার খুব মনোযোগ সহকারে পাঠ করলেই আমরা অনুধাবন করতে পারি। (A scene from the German March Revolution in Berlin, 1848, Photo: wikipedia.org) মানুষকে তার একক সত্ত্বার সৃষ্টিশীল বিকাশের মধ্য দিয়ে একজন সামাজিক মানুষ হয়ে উঠার শিক্ষা লাভ করতে হয়। আর সেই সমাজিক মানুষই পারে সমাজ বদলেরর হাতিয়ার হয়ে উঠতে। সকল বৈষম্য, অধিপত্য, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার যে নগ্নতা, তা দিন দিন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যারা একদিন বলেছিল কমিউনিস্ট ইশতেহারের মৃত্যু হয়েছে, আজ তারাই তার থেকে পাঠ নিয়ে ভঙ্গুর পুঁজিতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় মগ্ন। এবং সারা পৃথিবীর দিকে তাকালেও আজ আমাদের সামনে এটা পরিষ্কার যে মার্কসএঙ্গেলস’র ইশতেহারটি প্রতিটি দিন শেষে আরো কতোটা জীবন্ত হয়ে উঠছে। একটা ব্যাপার একেবারেই স্বচ্ছ যে, সকল ধরণের বৈষম্যকে পরাস্ত করার জন্য এখনো পর্যন্ত ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’র নতুন কোন বিকল্প আমাদের সামনে হাজির হয়নি। তাই রচনার ১৬৪ বৎসর পরও লাখো লাখো শোষণবঞ্চণাহীন একটা পৃথিবীর স্বপ্ন যারা দেখেনে এবং সে কাজে যারা নিজেদের নিবিষ্ট করেছেন, সেই সব বিপ্লবীরদের পুনঃপুনঃ পাঠের মধ্যে দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানাবিধ মার্কসীয় বিশ্লেষণের অনন্য দলিল ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টু’ এক শোষণহীন সমাজ বা পৃথিবী গড়তে যুগ যুগ ধরে সংগ্রামে উৎসাহ দেখিয়ে যাবে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌচ্ছানো পর্যন্ত। কেননা সত্য এক অনন্য ও শ্বাসত বিষয় যা ঘটনা বা পরিস্থিতি স্বাপেক্ষে কৌশলগত রূপ বদলাতে পারে কিন্তু তার মূল প্রতিপাদ্য উপাদান কখনোই বদলায় না। (“শ্রমিক বিপ্লবের প্রথম ধাপই হল সর্বহারাশ্রেণীকে শাসকশ্রেণীতে পরিণত করা।”এ মূল প্রতিপাদ্য) তাই বলে সব সময়ে তা অপরিবর্তনশীল থাকবে তা নয়, কৌশলগত কারণে তা পরিবর্তনশীল।

সমাজ পরিবেশ, পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে শ্রমজীবি মানুষের পক্ষেই তার ক্রিয়া পরিচালিত হতে থাকবে। শ্রমজীবীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তার ক্ষমতার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠাই পারে এক শ্রেণীহীন সমাজের উদ্ভব ঘটাতে। ইশতেহারে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এই ‘গণতন্ত্র’ বলতে ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ নয়, ‘সর্বহারার গণতন্ত্র’ বুঝতে হবে; এর দ্বারা এতোটা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল বোঝায়, যার দ্বারা শ্রেমিকশ্রেণীর পূর্ণতম রাজনৈতিক মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়। শ্রমিকশ্রেণীর গণতন্ত্র সম্পত্তিহীন ব্যাক্তিদের গণতন্ত্র; বুর্জোয়া শ্রেণীর গণতন্ত্র সম্পদশালী ব্যাক্তিদের গণতন্ত্র। এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাদী সমাজে রূপান্তর প্রক্রিয়ার সমস্ত সুবিধাভোগীরা যারা অন্যায়ভাবে কৃত্রিম বল প্রয়োগের মধ্য দিয়ে সমস্ত সম্পদ নিজেদের করাত্ত করে নেয়। তাদের সংখ্যা সমাজে যতো বাড়তে থাকবে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে নিপীড়ন, বিভিন্ন আঙ্গিকে দাসত্ব ও শোষণের মাত্রাও যেমন নির্দয়ভাবে বাড়তে থাকবে ঠিক তেমনি শ্রমিকশ্রেণীর মধ্যও ক্রমাগত ক্ষোভের সংঞ্চার হতে থাকবে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তারা শৃঙ্খলিতভাবে একত্রিত হবে। “পুঁজির নেতৃত্বেই যে উৎপাদন পদ্ধতি জন্ম লাভ করেছে এবং ধনতান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির কলাকৌশলের মধ্য দিয়ে যা বিকাশ লাভ করেছে, সেই একচেটিয়া পুঁজিই শেষ পর্যন্ত তার নিগড় হয়ে দাড়ায়। উৎপাদনের উপায়গুলো কেন্দ্রীয়করণ আর শ্রমের সমাজিকরণ এমন এক স্তরে পৌঁছায়, যখন সেগুলো পুঁজিবাদী খোলসের সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিহীন হয়ে পড়ে। ঐ খোলশ তখন ফেটে চৌচিড় হয়ে যায়। পুঁজিবাদী ব্যক্তিগত সম্পত্তির মৃত্যুর ঘন্টা বেজে উঠে। বঞ্চণাকারীরা উৎপাদিত হয়।” কার্ল মার্কস ও ফেড্রিখ এঙ্গেলস হাজার হাজার বছর ধরে বুর্জোয়া সভ্যতা যে গোলকধাঁধা তৈরী করে বৈষম্যের এক আরোপিত মূল্যবোধ সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছিল। তার নাড়ি ধরে টানলেন। শোষণ, নিপিড়ণের ইতিহাসকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞান সম্মতভাবে ক্ষমতা কাঠামো নিয়ন্ত্রকদের বিকৃত সামাজিক মিথ্যাগুলোর আড়াল থেকে মানবিকচৈতন্যের মধ্য দিয়ে খুঁড়ে বের করে আনলেন শোষণ প্রক্রিয়ার আসল উৎস। শ্রেণী তৈরীর পেছনের গল্প। শ্রেণী আধিপত্য তৈরীর আসল ও প্রকৃত কারণসমূহ।

বুর্জোয়া সামাজ মানুষের সকল সৃষ্টিশীল মূল্যবোধকে একেবারেই নির্মূল করে দিয়ে মানুষের যা কিছু সৃজনশীল অর্জন তার সবটাকেই পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। মানুষকে তার স্বকীয়তায় মূল্যায়িত করার বদলে পণ্য করে তোলেছে। শব্দ ছন্দের নানাবিধ বিভ্রান্তির প্ররোচনা চাপিয়ে দিয়ে বঞ্চণার পথকে সব সময়ই সামলে বিকশিত করার অপপ্রয়াসকে খোলা রেখেছে। কিন্তু ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেষ্টু’ সকল আগ্রাসন আর দাসত্বের হাঁড়ি ভেঙ্গে দিয়ে শ্রমজীবীর উন্নত চেতনা তৈরীর পথকে যেমন বিকশিত করেছে, তেমনি হাজার বছরের এক দীর্ঘ পর্যালোচনার ভিত্তিতে শ্রেণীগত সকল বৈষম্যের কারণগুলো উৎঘাটন করার মধ্য দিয়ে এক শ্রমিকশ্রেণীর আদর্শ ক্ষমতা কাঠামো তৈরীর অসম উপায়ের পথ বাতলে দিয়েছেন।

তাই আমাদের বলতেই হচ্ছে পুঁজিবাদের একমাত্র বাস্তব ও বৈজ্ঞাণিক যুক্তি সমৃদ্ধ বিকল্পই হলো সমাজতন্ত্র। আর সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ আমাদের শোষণহীন সমাজ নিমার্ণের সংগ্রামের সকল হাতিয়ারের চেয়ে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, তথা পথপ্রদর্শক। আর আমাদের পথ চলার পাথেয় হিসেবে ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ প্রতিদিন পাঠ্য একটি সমাজ বদলের মহাকাব্য, সর্বহারা সংস্কৃতির মূল; যার মন্ত্রে আন্দোলিত হয়ে আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষে পৌচ্ছাবোই। ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেষ্টু’র ১৬৪ তম প্রকাশনী বার্ষিকীতে আমরা আমাদের নিজেদের ভেতর গড়ে উঠা সকল আত্মবৈষম্য ও আধিপত্যবাদী মানসিকতাকে পরিহার করে ইশতেহারের বাস্তবানুগ সত্যগুলোকে গভীর অনুশীলনী পাঠের মধ্য দিয়ে আজকের যে সংকট, অস্থিরতা, বিভাজন তা সঠিক ও নীতিনিষ্ঠ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সম্মিলিত এক ঝড় হয়ে পুঁজিবাদের সমস্ত কুটচাল আর তার আধিপত্যবাদী সকল শাখাপ্রশাখার জটলাগুলো উন্মোচন করে এক চূড়ান্ত আঘাতের প্রস্তুতিতে নির্ভুল প্রস্তুত হই। সেই সাথে সকলের মধ্যে গড়ে উঠা নানা ধরণে আস্থাহীনতা, বৈরিতা, বিভাজন, আত্মগরিমার শিক্ষা কোনভাবেই আমরা ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ থেকে পাই না, বরং পাই সকল বুর্জোয়া মানসিকতা ও আচরণ, ক্রিয়াকলাপের উচ্ছেদের মন্ত্রনা। যা এক সম্মিলিত চেতনার সংস্কৃতি তৈরী করে, শ্রেণী বিলুপ্ত হতে থাকে আর একজন মানুষ নিজস্ব না হয়ে, হয়ে উঠে পুরোপুরি সামাজিক মানুষ। আর এর ফলশ্রুতিতে গড়ে উঠে বিকশিত এক সমাজ কাঠামো। যে কাঠামোর প্রধান নিয়ন্ত্রক হবেই সর্বহারাশ্রেণী।

বুর্জোয়া চিন্তাকাঠামোর তৈরী করা সম্পত্তিকে ব্যাক্তিকতার অবিচ্ছেদ্য করার যে কূটচাল এবং তারা যেমনি করে সম্পত্তি, ব্যাক্তিসত্ত্বা, ব্যাক্তিকেন্দ্রিক সব কিছুকে একই ছাঁচে নিজেদের স্বার্থ মুনাফাখোরী, ক্ষমতাকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আঁটকে ফেলেছিলো সেখানেই ইশতেহারের এক অনন্য ভাষার কারবার, ‘আমি’র অহমিক ও আগ্রাসী আস্ফালনের উন্নাসিকতার বাইরে মার্কস ও এঙ্গেলস সমগ্রের ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে সকল কিছুর মালিকানা ‘আমরা’তে প্রতিষ্ঠিত করলেন। এক একটা একককে সামষ্টিক এককে রূপান্তরিত করে এক অপ্রতিরোধ্য সৃষ্টিশীল সমাজ ব্যবস্থার রুপরেখা আমাদের সামনে হাজির করলেন। যার রেখা ধরে আমরা চলছি অবিরাম সেই বাস্তবভাবেই অবশ্যম্ভাবী সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে। শত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। শত বাঁধা, বুর্জোয়া শসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন, অত্যাচার, গুম, হত্যা, ক্রসফায়ার সকল কিছুকেই উপেক্ষা করে। কেননা আমরা জানি, মানবমুক্তির এ সামগ্রিক দৃষ্টি সম্পন্ন দলিলই আমাদের সকলের মুক্তির একমাত্র আধার। তাই সহযোদ্ধাগণ, ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেষ্টু’র এ ১৬৪ বৎসরে আসুন সকল বিভেদ রেখা মুছে দিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য এক সুষম পৃথিবী গড়ে তুলতে একত্রিত হই, সম্মিলিত হই, হয়ে উঠি প্রকৃত কর্মনিষ্ঠ সমাজ বিপ্লবের গেরিলা। আর আমরা জানি– ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেষ্টু’ প্রতিটি বিপ্লবী কর্মীর পকেটে থাকা এ কাব্যটি সকল যাতনার মলম হয়ে দিন শেষে আরো উজ্জ্বীবিত, আরো প্রনোদিত, আরো নিষ্ঠ করে তুলছে আজও এবং সাম্যের সুষম পৃথিবীটা গড়ে উঠা পর্যন্ত এ মহাকাব্য সকল মানবমুক্তির সংগ্রামে আমাদের সংগ্রামী হিসেবেই গড়ে তুলবে।।

জয় হোক সকল মেহনতিশ্রমিককৃষকমজদুরসর্বহারার।।

জয় হবেই ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেষ্টু’র।।

দুনিয়ার মজদুর এক হও।।

সম্মিলিতভাবে আসুন লড়ি।।

সাম্যের সুষম পৃথিবীটা গড়ি।।

(লেখাটি লিখতে কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলে বা কিছু লেখা শেয়ার করে সাহায্য করেছেন কামরুস সালাম সংসদ ও প্রেমাশু মজুমদার; আপনাদের প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা।– লেখক )



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ