২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ১৭ম সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২৩এপ্রি – ২৯এপ্রি ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 17th issue: Berlin, Sunday 23 Apr – 29 Apr 2017

ঘাম ও ছত্রাক সমস্যা, এই গরমে

গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ছত্রাক আক্রমণের হার শীতপ্রধান দেশের চেয়ে বেশি

প্রতিবেদকঃ বৈচিত্র তারিখঃ 2016-04-27   সময়ঃ 05:09:13 পাঠক সংখ্যাঃ 376

বৈচিত্র ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে আক্রমণের হার শীতপ্রধান দেশের চেয়ে বেশি। ধারণা করা যায় আমাদের দেশে অন্তত ৭০-৮০ হাজার লোক প্রতি বছর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। রোগের ক্ষেত্রে একটি হতাশার দিকও আছে, এ রোগটির চিকিৎসা দেয়া হলে খুব সহজেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই ফের দেখা দেয়। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটু ভালো হওয়া মাত্রই রোগী ওষুধটি বন্ধ করে দেন। আবার যারা ঠিকমতো ওষুধ ব্যবহার করেন, তারাও কিন্তু ঠিকমতো ব্যবহারজনিত কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করেন না। ফলে খুব সহজেই ব্যবহারজনিত কাপড়-চোপড় থেকে ফের ছত্রাক দেহে প্রবেশ করে এবং সে কারণেই এ রোগটি কিছু দিনের মধ্যে আবার দেখা দেয়।
ছত্রাকজনিত যেসব চর্মরোগ আমাদের দেশে দেখা যায়, সেগুলোকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন : (১) দাউদ, (২) ছুলি ও (৩) ক্যানডিডিয়াসিস। এ তিন ধরনের ছাত্রাক প্রজাতির সবাই মূলত ত্বকের বাইরের অংশকে আক্রমণ করে এবং সেই আক্রমণ স্যাঁতসেঁতে, নোংরা, ঘর্মাক্ত দেহে সবচেয়ে বেশি হতে দেখা যায়।
দাউদ : দাউদ দেহের যেকোনো স্থানে দেখা দিতে পারে। যে স্থানে দেখা দেয় সেই স্থানটিতে গোলাকার চাকার মতো দাগ দেখা যায়। যার মধ্যখানের চামড়া প্রায় স্বাভাবিক আকারে দেখতে হলেও গোল দাগের পরিধিতে ছোট ছোট গোটা দেখা যায় এবং দাগের পরিধিতে উঁচু বর্ডার লাইন আকারে থাকে এবং চুলকালে সেখান থেকে কষ ঝরতে থাকে। শরীরের যে কোনো স্থানে এর আক্রমণ ঘটতে পারে। তবে দেখা গেছে সাধারণত তলপেট, পেট, কোমর, পাছা, পিঠ, মাথা, কুঁচকি প্রভৃতি স্থানে বেশি আক্রান্ত হয়। আক্রমণের স্থান লক্ষ্য করে একে স্থানভিত্তিক বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়েছে। যেমন : মাথায় যখন Dermatophyte জাতীয় ছত্রাকের আক্রমণ হয়, তখন তাকে বলা হয় TINCA CAPITIES. ঠিক তেমনিভাবে যদি দাড়িতে হয়, তখন বলা হয় Tinea Barbae, আবার যদি পায়ে হয় তখন বলা হয় Tinea Pedis, যদি কুঁচকিতে হয় তখন তাকে বলা হয় Tinea Cruris, হাতে হলে বলা হয় Tinea Manus, নখে হলে তখন তাকে বলা Tinia unhuoum, শরীরের অংশবিশেষ আক্রান্ত হলে বলা হয় Tinea Corporis.
রোগ নির্ণয় : আক্রান্ত স্থানে চামড়া একটু ঘষে তুলে নিয়ে একটি গ্লাস স্লাইডের ওপরে রাখতে হবে। তার সাথে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (১০-৩০ পারসেন্ট পর্যন্ত) মিলিয়ে একটি কভার স্লিপ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। তার পর একটু হালকা গরম করে নিতে হবে। তার পর মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখলে হাইফি দেখা যাবে, যা দেখে এটি যে ফাংগাস বা ছত্রাক, তা খুব সহজেই নিরূপণ করা সম্ভব।

টিনিয়া ভারছিকলার বা ছুলি : এটিও একটি ছত্রাকজনিত রোগ। ছত্রাকের যে জীবাণু দিয়ে এটি হয়, তার নাম Malasayia Furfur, গরমে এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়, শীতকালে এমনিতেই যেন মিলিয়ে যায়। গরম এলে গায়ের চামড়া ঘামে ভেজা থাকে। তখন আবার দেখা দেয়। হালকা বাদামি, সাদা গোলাকৃতি দাগ দেখা যায়। বুকে, গলার দুই পাশে, ঘাড়ের পেছনে, পিঠে, বগলের নিচে, এমনকি পুরো শরীরেও হতে পারে। এতে ত্বক দেখতে সাদা হয়। তাই অনেকেই আবার একে শ্বেতী ভাবতেও শুরু করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শ্বেতীর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ক্যানডিডিয়াসিস : এটাও একটি ছত্রাকজনিত চর্মরোগ। যে ছত্রাকজাতীয় জীবাণু দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম ক্যানডিডা এলবিক্যানস। যাদের শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন- শিশু বৃদ্ধ কিংবা রোগাক্রান্ত, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, দীর্ঘ দিন ধরে যারা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেছেন কিংবা যাদের ত্বকের ভাঁজ পানিতে অথবা ঘামে সব সময় ভেজা থাকে, তাদেরই এ রোগটি বেশি হয়। যারা সব সময় পানি নড়াচড়া করেন, তাদের আঙুলের ফাঁকে, হাতের ভাঁজে, শিশুদের জিহ্বায়, মহিলাদের যোনীপথে এবং গর্ভবতী মহিলারা এতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এতে ত্বকের আক্রান্ত স্থান একটু লালচে ধরনের দেখা যায় এবং সাথে প্রচণ্ড চুলকানি থাকে।

চিকিৎসা : চিকিৎসানির্ভর করে আক্রমণের স্থান ও আক্রমণের তীব্রতার ওপর। ক্যানডিডিয়াসিসের ক্ষেত্রে কেটোকোনাজল ও ফ্লুকোনাজল ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়। ছুলির ক্ষেত্রে একই ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। তবে দাউদের ক্ষেত্রে গ্রাইসিমিওফুলভিনসহ উপরোল্লিখিত দুটি ওষুধের যেকোনোটি ব্যবহার করলেই ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। > সৌজন্যে সূত্র: বৈচিত্র নিউস



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ