২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ২৩শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ০৪জুন – ১০জুন ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 23rd issue: Berlin, Sunday 04 jun – 10 Jun 2017

বার্লিনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ১৫৫ তম জন্ম জয়ন্তী

ঘরোয়া পরিবেশে এক আনন্দঘন মুহুর্তে বেশ কিছু বিদেশী ও বাঙালির সমাবেশ

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2016-06-05   সময়ঃ 20:40:42 পাঠক সংখ্যাঃ 547

জার্মানিতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই এক চেনা মানুষ ছিলেন। বিশ্বকবি তিনবার জার্মানি সফর করেন; ১৯২১, ১৯২৬ এবং ১৯৩০ সালে৷

১৯২১ সালে জার্মানি ভ্রমণে এসে  রবি ঠাকুর বার্লিনের বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন ৷ কবিগুরুর সেই ভাষণের মূল রেকর্ডিং খুঁজে পাওয়া গেছে সম্প্রতি৷ ওই বছর ২ জুন জার্মানির রাজধানী বার্লিনের হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, তৎকালীন ফ্রিডরিশ ভিলহেল্ম ইউনিভার্সিটিতে এই ভাষণটি দিয়েছিলেন জার্মানি সফররত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷

১৯১৩ সনে সাহিত্তে নোবেল পুরস্কার বিজয়ের পরথেকেই জার্মানি সহ পুরো ইউরোপে রবীন্দ্রনাথের পরিচিতি ক্রমস্য বৃদ্ধি পায় - কবি, দার্শনিক এবং চিন্তাবিদ হিসেবে তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবীতে। তাঁর ব্যাপারে ইউরোপের আগ্রহ তখন তুঙ্গে৷ প্রাচ্যের ওই ঋষিপ্রতিম মানুষটি কী বলছেন, সবাই সেটা শুনতে চান৷

ফ্রিডরিশ ভিলহেল্ম ইউনিভার্সিটিতে (বর্তমানে হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়)  প্রথমবার এই ভাষণটি রবীন্দ্রনাথ দিয়েছিলেন ১লা জুন ১৯২১ সালেএক অনুষ্ঠানে৷ কলকাতার জার্মান কনসাল জেনারেল রাইনার শ্মিডশেন দুবছর আগে রেকর্ডটি খুঁজে বের করেছেন। সেসময় যত মানুষ সেদিন তাঁর ভাষণ শুনেছিলেন, তার থেকে বেশি লোক সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন৷ সমবেত অনুরোধে, পরদিন, ২ জুন আবার কয়েক হাজার শ্রোতার সামনে ভাষণটি দেন রবীন্দ্রনাথ৷ সেই সময় ফ্রিডরিশ ভিলহেল্ম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা প্রথা ছিল, যত বিখ্যাত মানুষজন এসে ওখানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে এসে বক্তৃতা দিতেন, তাঁদের ভাষণের অংশবিশেষ রেকর্ড করে রাখা হতো৷ সেই মতো, ৪ঠা জুন বার্লিনের হোটেল এসপ্ল্যানেড-এ রবীন্দ্রনাথের ভাষণের শেষ অনুচ্ছেদটি রেকর্ড করা হয়েছিল৷ জার্মানিতে রবীন্দ্রনাথ দ্বিতীয় সফর করেন ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে। সেবারের সফরের সময় আইনস্টাইনের সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে।

তাই এবার ২০১৬ তে বার্লিনে রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠান ৪ ঠা জুন একটি বিশেষ মহেন্দ্রক্ষণ ছিল   

এক ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় রবীস্মরণ অনুষ্ঠান। শুরু হয় মিতালি মুখোপাধ্যায় এর  গান দিয়ে, প্রথম আদি তব শক্তি। গানের পর আসে আবৃত্তি, এপর্বে মহিন আবৃত্তি করে দুই বিঘা জমি কবিতাটি। আলোচনায় শাহ আলম শান্তি বাংলায় এবং  জার্মান ভাষায় ছোট করে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের জন্ম, তাঁর সাহিত্য ও তার বিকাশ আর তাঁর সাহিত্যের ধারা, নোবেলপুরস্কার কবে ও কেন পেয়েছিলেন তা উল্লেখ করে উপস্থাপন করে। কবি দাউদ হায়দার আলোচনা করেন রবীন্দ্রসংগীতে কবির বিভিন্ন স্থান কাল ব্যক্তি জীবনের প্রভাব নিয়ে। অনেক উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর আলোচনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। অনুষ্ঠানের সংগীত পর্বে  গান করে তনিমা লায়লা তার সুললিত কন্ঠে। পিটুর  উদ্দাত্ত কণ্ঠে, গাওয়া "ক্লান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু" গানের সাথে মিতালীর করীয়গ্রাফ্য় নৃত্য  সকলকে মুগ্ধ করে । এছাড়াও সাংবাদিক নাজমুন্নেসা বহু আলোচিত রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় এর কাদম্বরীর সুইসাইড নোট বইটির কিছু অংশ পড়ে শোনান দর্শকদের।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দর্শকদের অনুরোধে আরো কিছু গান পরিবেশন করে মিতালি - পরিশেষ আলোচনায় মিতালি তাঁর রবিঠাকুরের প্রতি অনুরাগ ও ভালবাসায় ভানুসিংহের পদাবলীর রচনায় কবির  অনুপ্রেরণার কারণ জানিয়ে "সজনি সজনি রাধিকা." গানটি পরিবেশন করে। আরো গান করের তাহ মিনা হক, তনিমা লায়লা এবং নাজমুন্নেসা। তারপর পিটুর সাথে সবাই সমবেত সংগীত পরিবেশন করে। শেষ হয় পরিকল্পনা ছাড়াই মিতালীর দুটি ধ্রুপদী নৃত্য দিয়ে । 

ঘরোয়া পরিবেশে হলেও এক আনন্দঘন মুহুর্তে বেশ কিছু বিদেশী ও বাঙালিরা একত্র হয়ে এভাবেই  এবার  বার্লিনে আডডা ও নাচ-গান দিয়ে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করে।  



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ