২৩ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ২৪শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১১জুন – ১৭জুন ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 24th issue: Berlin, Sunday 11 jun – 17 Jun 2017

বর্ষার প্রথম দিন আজ - আজি বর্ষা রাতের শেষে

ঋতু পরিবর্তনের দেশ এই বাংলাদেশ

প্রতিবেদকঃ শীর্ষ খবর তারিখঃ 2016-06-15   সময়ঃ 01:35:03 পাঠক সংখ্যাঃ 1331

ঋতু পরিবর্তনের দেশ এই বাংলাদেশ - আজ বর্ষা ঋতুর প্রথম দিন কবির ভাষায় ‘বাদল-দিনের প্রথম কদমফুল করেছ দান’ বর্ষা নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই আবেগময়, প্রেমসিক্ত গান শুধু বাঙালিদের জন্যই রচনা করেছেন তিনি। আজ ১ আষাঢ়, ১৪২৩ সবাইকে বর্ষার শুভেচ্ছা জানিয়ে রবীন্দ্রসংগীত টি দিয়েই লেখাটি প্রকাশিত হলো - "আজি বর্ষা রাতের শেষে "

বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা বর্ষাকে অভিহিত করেন ‘সেকেন্ড সামার’ হিসেবে। অর্থাৎ গরম থেকে জনজীবনের রেহাই নেই। বৃষ্টি হলেও ভাপসা গরমের অস্বস্তি মানুষকে ঠিকই ভোগায়। আবার মৌসুমি বায়ু প্রবাহের কারণে টানা দুই মাস থেকে থেকে বৃষ্টিপাত, প্রকৃতি অন্য রকম এক আদলে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। তবুও বর্ষাই ঋতুর রানী।
‘বাদল-দিনের প্রথম কদমফুল করেছ দান/আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’ বর্ষা নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই আবেগময়, প্রেমসিক্ত গান শুধু বাঙালিদের জন্যই প্রযোজ্য। শুধু রবীন্দ্রনাথই নন, বাংলা সাহিত্যের খ্যাত-অখ্যাত বহু কবিই বর্ষার রূপ-ঐশ্বর্যে মোহিত ও মুগ্ধ, বর্ষার আবাহনে উচ্ছ্বসিত ও মুখর। বর্ষাবিহীন বাংলাদেশ ভাবাই যায় না। বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র। বর্ষা ঋতু কাব্যময়, প্রেমময়। বর্ষার প্রবল বর্ষণে নির্জনে ভালোবাসার সাধ জাগে, চিত্তচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। শত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিড়েও কোথায় যেন মেলে এক চিলতে বিশুদ্ধ সুখ। কদম ফুলের মতো তুলতুলে নরম, রঙিন স্বপ্ন দুই চোখের কোণে ভেসে ওঠে, ঠিক যেমন করে আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়।
কবির কবিতায়, শিল্পীর সুরে-গানে, চারুশিল্পীর তুলির অাঁচড়ে, চলচ্চিত্রের সেলুলয়েডে, নকশিকাঁথার ফোঁড়ে ফোঁড়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ ভা-ারে বর্ষার অপরূপা রূপবর্ণনা, স্থিতি ও ব্যাপ্তি মূর্ত ও চিরকালীন হয়ে আছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত ও কবিতার ভাষায় ‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে।/ওগো আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।/বাদলের ধারা ঝরে ঝরো ঝরো, আউশের ক্ষেত জলে ভরো-ভরো,/কালিমাখা মেঘে ওপারে অাঁধার ঘনিয়েছে দেখ চাহি রে,…।’
বর্ষা ফুল ফোটায়। বর্ষার এই শীতল আবহাওয়ায় গাছে গাছে কদম ফুলের সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের অগ্রদূত কদমফুল। যেন কদমফুল আষাঢ়কে স্বাগত জানায়। বর্ষার আগেই গাছে গাছে কদমফুল ফুঠেছে।
বর্ষা কবিদের ঋতু। বর্ষা নিয়ে কবিরা লিখেছেন অসংখ্য কবিতা-গল্প-গান। বর্ষা মানেই সময়-অসময়ে ঝমাঝম বৃষ্টি, কর্দমাক্ত পথঘাট, খাল-বিলে থইথই পানি, নদীতে বয়ে চলা ছবির মতো পালতোলা নৌকার সারি। বর্ষার নতুন জলে স্নান সেরে প্রকৃতির মনও যেন নেচে ওঠে। ফুলে ফুলে শোভিত হয় প্রকৃতি। তাল তমাল শাল পিয়াল আর মরাল কপোতের বন বীথিকায় চোখে পড়ে বকুল, কদম, জারুল, পারুল, কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়াসহ অসংখ্য ফুল।
রবীন্দ্রনাথের ‘বর্ষামঙ্গল’ এবং কালীদাসের ‘মেঘদূত’ কাব্যের কথা উল্লেখ না করলে বর্ষা ঋতুর স্বাদই অপূর্ণ থেকে যাবে। রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’-এর পাতায় পাতায় ভরে আছে বর্ষার ঘনঘটা, গুরুগম্ভীর বৃষ্টির কথা। রোমান্টিক ঋতু বর্ষাকাল; এবং এই ঋতু বাঙালির একান্ত নিজস্ব। ‘বর্ষণমুখর সন্ধ্যা বা বৃষ্টিভেজা রাত বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও মিলবে না। শীতপ্রধান দেশে কিংবা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের কবিরা বর্ষার সঙ্গে পরিচিতই নন। কবিগুরু বলেছেন, ‘এমন দিন তারে বলা যায়/এমন ঘনঘোর বরিষায়।’
মহাকবি কালীদাস তার ‘মেঘদূত’ কাব্যে আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে বিরহকাতর ‘যক্ষ মেঘ’কে দূত করে কৈলাসে পাঠিয়েছিলেন তার প্রিয়ার কাছে। যক্ষের সেই বিরহ বারতা মেঘদূত যেন সঞ্চারিত করে চলেছে প্রতিটি বিরহকাতর চিত্তে, যুগ থেকে যুগান্তরে। তাই রবীন্দ্রনাথ কালীদাসের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘কবির কবে কোন আষাঢ়ের পুণ্য দিবসে লিখেছিলে মেঘদূত। বৃষ্টির শব্দে যক্ষের মতোই বাঙালির হৃদয় এক অজানা বিরহে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। কেতকীর মন মাতানো সুগন্ধ আর কদম ফুলের চোখ জুড়ানো শোভা অনুষঙ্গ হয়ে আছে আষাঢ়ের। কদম কেতকী ফুটবে, আকাশজুড়ে চলবে মেঘের আনাগোনা, দ্রিমিকি দ্রিমিকি রবে।’ এমন দিনে ‘মুহূর্তে আকাশ ঘিরি রচিল সজল মেঘস্তরদ আর তাতে রিক্ত যত নদীপথ’ ভরে যাবে ‘অমৃতপ্রবাহে’। মরুবক্ষে তৃণরাজি/পেতে দিল আজি/শ্যাম আস্তরণ। গুরুগুরু মেঘ গর্জে ভরিয়া উঠিল বিশ্বময়। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ আষাঢ়কে বলেছেন, ‘ধ্যানমগ্ন বাউল-সুখের বাঁশি’। আষাঢ়ে জলভারানত ঘনকৃষ্ণ মেঘরাশি আকাশ ছেয়ে রাখে। কখনো বা ‘প্রাণনাথ’-এর মতো প্রকৃতিতে নামে বারিধারা।
অন্যান্য বারের মতো এবারো রাজধানীতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বর্ষাকে বরণ করে নেয়া হবে।



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ