২৩ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৪৪শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২৯অক্টো–০৪নভে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 44th issue: Berlin,Sunday 29Oct-04Nov 2017

বাংগালী কি প্রতিবছর জেল হত্যা দিবস শুধু পালন করেই দায়িত্ব শেষ করবে?

অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি প্রয়োজন

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2016-11-03   সময়ঃ 16:02:32 পাঠক সংখ্যাঃ 254

আজ ৩ নভেম্বর,জেল হত্যা দিবস, জাতীয় ৪ নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো, সেই সাথে প্রশ্ন থেকে যায়, বাংগালী কি প্রতিবছর জেল হত্যা দিবস শুধু পালন করেই দায়িত্ব শেষ করবে? দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৫ বছর, এর পর জাতির পিতার হত্যা এবং ৪ নেতাকে হত্যা করে সেই পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসর যারা একাত্তরে পারেনি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামকে স্তব্ধ করতে। ৭৫ এর পরে বাঙালি কি শুধুই দিবস গুলো পালন করেই দায়িত্ব শেষ করবে?

আমরা ইতিহাস থেকে কি শিখি? দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে ৭০ বছর পেরিয়ে গেছে, ইউরোপে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের পুনর্জন্ম হয়নি, হবেও না, তার কারণ নুরেনবার্গ ট্রাইবুনালের মাধ্যমে যুদ্ধোপরাধীদের শুধু ফাঁসিই হয়নি বরং পরাজিত শক্তিকে সমূলে ধ্বংস করা হয়েছে পুরা ইউরোপের দেশ গুলো থেকে, আইনের মাধ্যমে। নাৎসি ও ফ্যাসিবাদী দলগুলোকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাই ইউরোপে সম্ভব হয়েছে তাদের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবার। যে ইউরোপ ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত ৯৯% মানুষ নাৎসি ও ফ্যাসিবাদী দলগুলোকে সমর্থন করেছিল, কিন্তু যুদ্ধ শেষে সেই জনগণই আবার সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়ালো, সেটা কি ভাবে সম্ভব হলো সে ইতিহাস আমাদেরকে জানতে হবে।

সেই ইতিহাস থেকে আমরা বাঙালিরা কি কিছুই শিখলাম না? আমরা কি শুধু ট্রাইবুনালে যুদ্ধপরাধীদের বিচার করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে মনে করি? এখনো কি শুধুই ৩ নভেম্বর ও ১৫ অগাস্ট দিবস গুলো পালন করেই আর অনুশোচনা করেই কাটাবো?

সরকার দেশের উন্নতির সংজ্ঞা নিজের মতো করে রপ্ত করেছেন, বলাহচ্ছে আমরা প্রতিবছর ৬ থেকে ৭% অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছি, অর্থাৎ বাংলাদেশ ২০২১ সনে আগেই মধ্যম আয়ে দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে, আমরাও হয়তো তাতেই খুশি। সত্যি কি তাই, শুধু কি ৭% প্রবৃদ্ধি দিয়েই একটা দেশের উন্নতির মাপকাঠি নির্ণয় করা যায়? কোথায় গেলো আমাদের সাংস্কৃতিক ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা? এখনো ব্লগার, লেখক, প্রকাশ এবং শিক্ষক প্রতিবছর খুন হচ্ছে (২০১৩ এর গণজাগরণের পরে ৪৮ জন কে হত্যা করেছে জঙ্গিরা), জাতিসংহের হিসেবে অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর ২১ হাজার মানুষ সড়ক দূঘটনায় প্রাণ দিচ্ছে (যখন সমস্ত ইউরোপিয়ান দেশ গুলি মিলে দূঘটনায় প্রাণ হানির সংখ্যা ১২ হাজার), জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির হিসেবে অনুযায়ী ২০১৫ সালে ১৮৫৭ নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং সহিংসতার শিকার হয়ে ৩০১ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

সংবাদপত্রে প্রকাশ প্রতিদিন ১৫ জন বা তার বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার। লম্বা এই হত্যা যজ্ঞের ফর্দ আর না বাড়িয়ে আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক, দেশটাকে অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষে সভ্যতার পথে এগিয়ে যাওয়ার সাধনায় সমস্ত বাঙালিকে দায়িত্ব নিতে হবে, তাহলেই এই ৩ রা নভেম্বর ও ১৫ অগাস্ট এর দিনগুলির প্রকৃত মূল্যায়ন হবে। -মোনাজ হক, বার্লিন



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ