১৮ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৪৫শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ০৫নভে–১১নভে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 45th issue: Berlin,Sunday 05Nov-11Nov 2017

ট্র্যাম্প নির্বাচিত হয়েছেন: বিশ্ববাসীর জন্যে এর অর্থ কি?

"গণতন্ত্র" নির্ধারিত হয়ে যায়, অল্প কিছু লোকের ইচ্ছায়

প্রতিবেদকঃ আসাদ খান তারিখঃ 2016-11-09   সময়ঃ 21:05:25 পাঠক সংখ্যাঃ 356

বিশ্ববাসীর বহু জল্পনা কল্পনা শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা অবশেষে সেই রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করলো যার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বিগত সপ্তাহগুলোতে ডেমোক্র্যাটস প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে অনেক নিচে ছিল। তাই তার বিশেষ অর্থ খুঁজতে আসাদ খান এর এই রাজনৈতিক বিশ্লেষণটি আজকের সম্পাদকীতে প্রকাশিত হলো।

১) বেশীরভাগ শাদা পুরুষেরা এখনো কোন নারীকে তাদের কমান্ডার ইন চীফ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। হিলারি একজন নারী, এটা তাঁর একটি অযোগ্যতা। সৌদি পিতৃতন্ত্র এক ধরনের, ভারতীয় পিতৃতন্ত্র আরেক ধরনের, এবং আমেরিকান পিতৃতন্ত্র আরেক ধরনের। কিন্তু পিতৃতন্ত্র আছে।

২) খৃস্টান মৌলবাদরা, মরাল মেজরটি ও টি-পার্টি টাইপের সংগঠনগুলো অনেক দিন ধরেই গ্রামাঞ্চলে কাজ করেছে। তাদের সাংগঠনিক কাজের একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে, যা রক্ষণশীল ও ফ্যাসিস্টদের অনুকূলে যাবে।

৩) পুঁজিবাদী ব্যাবস্থায় সাধারন মানুষ দোদুল্যমান থাকে, সমাজকল্যাণমূলক সংস্কার ভালো, নাকি বাজারের হাতে মানে বড়লোকদের হাতে পুঁজি ও ক্ষমতা থাকা ভালো, তা নিশ্চিত হতে পারেনা। কোন কিছুতেই তাদের আস্থা নেই।

৪) "গণতন্ত্র" নির্ধারিত হয়ে যায়, অল্প কিছু লোকের ইচ্ছায়। যদি বামেরা ও লিবার্তারিয়ানরা লিবারেলদের সাথে এক হতো, তাহলে, রক্ষণশীল ও ফ্যাসিস্টদের হারানো সম্ভব হত। নির্বাচনে কারা জিতবে তা আসলে অনেক অনেক লোক নির্ধারন করেনা। নির্ধারন করে কিছু লোক।

৫) আমেরিকান সমাজে, বিশেষ করে সংস্কৃতিতে খৃস্টান মৌলবাদের প্রভাব বাড়বে। প্রতিক্রিয়ায় নৈরাষ্ট্রবাদীদের (এনারকিস্ট) আন্দোলনও বাড়বে। কিন্তু তা সমাজ প্রগতির বিবর্তনে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা বলা মুশকিল। তবে রক্ষণশীলদের শাসনে, নারী, দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের অবস্থা ভালো হবেনা।

৬) ওয়ার অন্ টেরর শুরু করেছে রিপাবলিকানরা। অবাক ব্যাপার এর দায় ডেমোক্রেটদের নিতে হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডায় রক্ষণশীলেরা এখনো অনেক এগিয়ে, লিবারেলদের চেয়ে। বর্নবাদ ও জঙ্গিবাদ এখনো আকর্ষনীয়। ওয়ার অন্ টেরর অব্যাহত থাকবে, এবং ওবামার চেয়ে খারাপ ভাবে চলবে।

৭) পুঁজিবাদের সংকট সারা দুনিয়ার মানুষ দেখছে, বুঝছে, কিন্তু পুঁজিবাদউত্তর সমাজ (সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদ যাই নাম দিন না কেন) কি ধরনের নীতি ও নেতৃত্বের দ্বারা সম্ভব, সে ব্যাপারে মানুষের ধারনা এখনো অস্পষ্ট। আমেরিকায় সত্যিকার বাম বিকল্প গড়ে উঠেনি। পুঁজিবাদের বিকল্প রাজনীতি নিয়ে এগুতে হলে, কেবল লিবারেলদের দায়ী করে লাভ নেই, এবং কেবলমাত্র রাজনৈতিক আন্দোলনই নয়, সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শগত আন্দোলনও দরকার।

ট্র্যাম্প জিতে যাওয়ায় যারা খুশি, তারা অচিরেই হতাশ ও ক্রোধান্ধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। ওবামাও কিন্তু অনেক আশার জন্ম দিয়েছিল। সিস্টেম বলে একটা ব্যাপার আছে, ডীপস্ট্রাকচার বলে একটা ব্যাপার আছে। এই ব্যাবস্থাটা বদলাতে হবে। ব্যাক্তি বদল দিয়ে, বা দল বদলিয়ে কিছু আসবে যাবে না, মৌলিক সমস্যার - দারিদ্য, বঞ্চনা ও সহিংসতার।



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ