২০ জানুয়ারী ২০১৮ ইং

একই আদর্শে নিন্দিত তসলিমা, সম্মানিত রোকেয়া

প্রতিবেদকঃ তারিখঃ 2016-12-09   সময়ঃ 08:22:00 পাঠক সংখ্যাঃ 112

ইতু ইত্তিলা: ৯ ডিসেম্বর। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস। বেগম রোকেয়া ও তসলিমা নাসরিন উভয়েই নারীর অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন। বেগম রোকেয়া তাঁর সময়কালে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিন্দা কুড়িয়েছিলেন, বর্তমানে তসলিমা নাসরিন কুড়াচ্ছেন। তসলিমা নাসরিন ও বেগম রোকেয়ার লেখার মূল অর্থ বা উদ্দেশ্য এক হলেও তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশে একটি নিষিদ্ধ নাম, আর বেগম রোকেয়া মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে সম্মানিত। পাঠ্যবইয়ে বেগম রোকেয়ার বাছাই করা কিছু লেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রোকেয়া হল, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নারী অধিকারের পক্ষে তসলিমা নাসরিনের কোনও লেখা উল্লেখ করলে লোকে বলে তসলিমা নয়, বেগম রোকেয়া পড়ো। বেগম রোকেয়াকে অনুসরণ করো। বেগম রোকেয়াকে আমাদের সমাজে একজন মুসলিম নারীর ইমেজ দেয়া হয়েছে। ঘোমটা পরা, স্বামী-পিতা-ভাইদের সকল আদেশ মাথা পেতে নিয়ে কেবল স্কুলে যাওয়ার অধিকার চায় এমন। যদিও বেগম রোকেয়ার বইগুলো ঘাঁটলে তাঁর লেখা ভয়ংকর সব সত্য বেরিয়ে আসে- ধর্ম সম্পর্কে, পুরুষ সম্পর্কে। এতে বোঝা যায় রোকেয়া ও তসলিমার আদর্শ ভিন্ন নয়, বরং এক। বেগম রোকেয়া মৃত। তসলিমা জীবিত। জীবিত তসলিমাকে কবর দিতে মৃত বেগম রোকেয়াকে টেনে আনা হয় নিজেদের মত করে। ভবিষ্যতে হয়তো নতুন কোনও প্রতিবাদী নারী আসবে যাকে নিষিদ্ধ করতে তসলিমাকে হিজাব পরিয়ে মুসলিম নারী সাজানো হবে। একথা তসলিমা নাসরিন তাঁর ‘সেই সব অন্ধকার’ বইটিতেও উল্লেখ করেছিলেন। তসলিমা নাস্তিক, বেগম রোকেয়া আস্তিক। কাজেই বেগম রোকেয়াকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা যায়। এরকম একটি ধারণা প্রচলিত আছে। চলুন দেখি বেগম রোকেয়া ধর্ম সম্পর্কে কী লিখে গেছেন- "আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্য পুরুষগণ ঐ ধর্মগ্রন্থগুলিকে ঈশ্বরের আদেশপত্র বলিয়া প্রকাশ করিয়াছেন।... তবেই দেখিতেছেন, এই ধর্মগ্রন্থগুলো পুরুষ রচিত বিধি ব্যবস্থা ভিন্ন আর কিছুই নহে। ...কোন স্ত্রী মুনির বিধানে হয়তো তাহার বিপরীত নিয়ম দেখিতে পাইতেন।..যেখানে ধর্মের বন্ধন অতিশয় দৃঢ় সেইখানে নারীর প্রতি অত্যাচার অধিক।..." ( গ্রন্থঃ মতিচুর) এখানে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় রোকেয়া ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন না। বেগম রোকেয়ার মত তসলিমা নাসরিনও মনে করেন, নারীকে দমনের উদ্দেশ্যে পুরুষের সৃষ্ট কিছু বিধান। যেখানে ধর্মের প্রভাব বেশি সেখানে নারীর প্রতি অত্যাচার ও বেশি। এ কথা রোকেয়া বলেছিলেন, তসলিমা তাঁর বিভিন্ন লেখায় নানান তথ্য হাজির করে প্রমাণও করেছেন। ‘অলঙ্কার না Badge of Slavery’ প্রবন্ধে রোকেয়া লিখেছেন “ ধর্মগ্রন্থসমূহ ঈশ্বর-প্রেরিত বা ঈশ্বরাদিষ্ট নহে। যদি ঈশ্বর কোন দূত রমণী শাসনের নিমিত্ত প্রেরণ করিতেন, তবে সে দূত কেবল এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকিত না । ... যে কথা পুরাকালে অসভ্য বর্বরগণ বিশ্বাস করিয়াছিল, তাহা বর্তমান কালের সুসভ্যগণ যদি বিশ্বাস করেন, তবে সভ্যতা ও অসভ্যতায় প্রভেদ কি ? যাহা হউক আমরা আর ধর্মের নামে নতমস্তকে নরের প্রভুত্ব সহিব না।”



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ