২০ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ০৪র্থ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২২ জানু –২৮ জানু ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 04th issue: Berlin, Sunday 22 Jan–28 Jan 2017

কাদের সিদ্দিকীর নারীতত্ত্ব আর ষড়যন্ত্রের যোগসূত্রগুলো

কাদের সিদ্দিকীর নূরানী চেহারা

প্রতিবেদকঃ শারমিন শামস তারিখঃ 2017-01-24   সময়ঃ 08:20:04 পাঠক সংখ্যাঃ 289

দেশের রাজনীতিতে লুজার হিসেবে খ্যাত কাদের সিদ্দিকী নাকি বলেছেন, দেশকে উদ্ধার করতে এখন দরকার পুরুষশাসিত সরকার। তিনি নাকি আরো বলেছেন, যে দেশে দীর্ঘদিন নারীশাসিত সরকার থাকে সে দেশের পুরুষ আর পুরুষ থাকে না। খবরটা পড়ে প্রথমেই মনে প্রশ্ন জাগলো, কাদের সিদ্দিকীর সেই দেশের পুরুষরা পুরুষ যদি না থাকে, তবে তারা কীসে রূপান্তরিত হয়? নারীতে? তৃতীয় লিঙ্গে? কীসে? কাদের সিদ্দিকীর নূরানী চেহারাটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। উনি পুরুষ থেকে রূপান্তিত হয়ে নারী কিংবা তৃতীয় লিঙ্গে পরিণত হয়ে যাচ্ছেন কী না, চেহারা দেখে তা বোঝা গেলো না। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে ক্রমে একজন লুজার রাজনীতিবিদ হিসেবে তার পরিণতি জানতে আর কারো বাকি নেই। রাজনীতির মাঠে তার মন্তব্য, আচরণ, কর্মকাণ্ড বহু আগে থেকেই হাস্যরস জুগিয়ে আসছে। নারী পুরুষ নেতৃত্ব নিয়ে তার এই বক্তব্য নতুন হাসি, মজা যুক্ত করেছে মাত্র। আর কিছু নয়। কাদের সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। আওয়ামী লীগ বিএনপি’র সমালোচনা করেছেন। তারপর সেই সমালোচনা শেষে তিনি এই উপসংহারে পৌঁছেছেন যে, সব নষ্টের মূল ওই নারী। দীর্ঘদিন নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে বলেই পুরুষ আর পুরুষ নাই। পুরুষ সব কাপুরুষ হয়ে গেছে। এখন তিনি সবাইকে এই ব্যাপারে এগিয়ে আসতে বলেছেন। আমি কেন কাদের সিদ্দিকীর মত একজন হতাশ, পরাজিত ব্যক্তিকে নিয়ে লিখতে বসেছি? বসেছি কারণ, আমারো বিনোদনের অভাব হচ্ছিল ক’দিন ধরে। এর বাইরে তার কথা, তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা সমালোচনা বৃথা সময় ব্যয়। শুধু তিনি নন, রাজনীতির মাঠে শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়াকে যারা নারী পুরুষের শ্রেণিবিভাগে ফেলে ফায়দা লুটতে চায়, তাদের চেয়ে বড় নাদান আর কিছুই হতে পারে না। বস্তুত, এই ২০১৭ সালে নারী পুরুষ টেনে এনে যারা এখনো প্রকাশ্যে সেক্সিস্ট আচরণ বা বক্তব্য রেখে ভাবে, সে এবার খুব জনসমর্থন পাবে, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো নিয়েও রীতিমত গবেষণা হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে। সেই হিসেবে, ‘বীর’ খেতাব পাওয়া অথচ বাতিলের খাতায় থাকা একজন ব্যক্তির এ ধরনের সেক্সিস্ট কথাবার্তা কোনোখানেই খুব বেশি বেল পাবে না। তবে হ্যাঁ, সাঈদীর ওয়াজে, শফি হুজুরের ওরশে তিনি বেশ জাঁকিয়ে বসতে পারবেন, সেই সম্ভাবনা তার এখনো আছে। কে জানে, সর্বত্র ব্যর্থতার পর হয়তো এই শেষ বয়সে সেখানেই তার শেষ চেষ্টার ইচ্ছে দেখা দিয়েছে। আসলে মনের ভিতরে থাকা বিষ্ঠা লুকিয়ে রাখা বেশ কঠিন। এই যেমন দেখুন, জ্যোতি নামের ছেলেটা। তার বাবা দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মন্ত্রী। সে হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই ফেসবুকে লিখে দিল, কোন এক নাস্তিকের সে ফাঁসি চায়। তো আমরা অবাক। অথচ ভেবে দেখলেই বোঝা যাবে, লুকোনো বিষ্ঠা চাপা থাকে বটে, তবে তা খুবই সাময়িক। ঠিক যেমন পাঠ্যপুস্তক নিয়ে নোংরামি। ও’তে ওড়নার দাপট আর সাম্প্রদায়িকতার বাতাস কেমন হুড়মুড়িয়ে নেমে এসেছে। অবাক হয়েছেন? কেন? শিক্ষামন্ত্রীর এই দুঃসাহস আপনাকে ব্যথিত করেছে? কেন? বিস্মিত বা ব্যথিত হবেন না। বিষ্ঠা থিওরি মনে করুন। জেনে রাখুন, আজ অবধি এই দেশকে ভালোবেসে রাজনীতি করেছে, ক্ষমতায় গিয়েছে, পদে বহাল হয়েছে- এমন মানুষ এই দেশ খুব একটা পায়নি বলাই চলে। হাতে গোনা দু’একটি মানুষ যখনি দেশকে ভালোবেসে কাজ করতে চেয়েছেন, বাকবাদি স্বার্থলোভী দুর্জন তাকে পেছন থেকে টেনে ধরেছে। কাজ করতে দেয়নি। আর ষড়যন্ত্র? এই দুঃখী বাংলা মায়ের কপাল থেকে ষড়যন্ত্রের ছায়া কোনদিন সরে যায়নি। সে চলছেই। তাই বলি, সবই এক সূত্রে গাঁথা। কাদের সিদ্দিকী বলেন, হেফাজতের দাবি বলেন, চরমোনাইয়ের পীর বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সদাবিনয়ী হাসি বলেন, পাঠ্যপুস্তকে হুমায়ুন আজাদের কবিতা ভ্যানিশের ঘটনা বলেন, ও তে ওড়না বলেন, নারী নেতৃ্ত্ব নিয়ে রুচিহীন কথা বলেন, মন্ত্রীপুত্রের নাস্তিকের ফাঁসির দাবি বলেন- এর কোনোটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সবই পরস্পর পরস্পরকে শক্তি যোগাচ্ছে। এদের চিন্তা আর পরিকল্পনার জালটা অনেক লম্বা। সেই জালে আমরা জড়াচ্ছি নাকি জড়াবো তা সময়ই বলে দেবে। সেই পর্যন্ত কি আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবো আর অপেক্ষাই করবো? নাকি একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিকমনস্ক জাতির পতাকা খাঁমচে ধরা শকুনদের সমূলে উৎখাতে এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তুমুল প্রতিবাদ জানাবো, সে সিদ্ধান্ত আমাদেরকেই নিতে হবে! লেখক : লেখক : প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা । এইচআর/এমএস



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ