২০ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ১০ম সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ০৫ মার্চ – ১১ মার্চ ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 10th issue: Berlin, Sunday 05 Mar – 11 Mar 2017

আজ ঐতিহাসিক ৫ই ফেব্রুয়ারী - শাহবাগ আন্দোলন দিবস

শাহবাগে নতুন করে দেশের ইতিহাস লেখা হয়েছে

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2017-02-05   সময়ঃ 11:10:09 পাঠক সংখ্যাঃ 376

এইতো মাত্র ৪ বছর আগের ঘটনা ঐতিহাসিক ৫ ই ফেব্রুয়ারী ২০১৩ নিশ্চই মনে আছে সবার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের জন্য আনীত ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে দোষী সাব্যস্ত করেন কাদের মোল্লাকে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্বাধীনতাবিরোধী বাহিনী আল বদরের সদস্য কাদের মোল্লাকে ৩৪৪ জন নিরীহ ব্যক্তি হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।

প্রথমে ১০/১২ জন ব্লগার স্বরব হয়, "না এই বিচার মেনে নেওয়া যায় না" এই প্রতিবাদের ঝড় বইতে থাকে সামাজিক মাধ্যম গুলোতে, তারপর রাজধানীর শাহবাগ ও তার চারপাশের সড়কে সমবেত হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানায় ছাত্র-শিক্ষক, লেখক, অধ্যাপকসহ সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ।

দেশ স্বাধীনের জন্য অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের বিরুদ্ধে লড়াই করা মুক্তিযোদ্ধারা যেমন এই সমাবেশে হাজির হন, তেমনি বাবার কাঁধে চড়ে মুষ্টিবদ্ধ হাতে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবি তোলে শিশুরাও।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালতের ১৯৯২ সালের রায় বাস্তবায়নের দাবি তোলেন সব প্রজন্মের প্রতিনিধিরাই। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করারও দাবি তোলেন তারা।

এক-এগারোর সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্বাবধায়বক সরকারের সময় মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতিদের সংগঠন ‘সেক্টর কমান্ডারর্স ফোরাম’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে জনমত তৈরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরই প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এই বিচার করার অঙ্গীকারে গত নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেয়। সেখানেও মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলো শাহবাগের তরুণরাই, অথাৎ নতুন ভোটার, বয়স ১৮+ ।

কিছু ঘটনাপঞ্জি :

  • ১৯৯২ সালের ১৯ ই জানুয়ারী ক্যানসারের সাথে যুদ্ধকরা অসম্বভ প্রাণশক্তির অধীকারি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি গঠন। আওয়ামীলীগের ব্যাপক সমর্থন।
  • ১৯৯২ সালের ২৬ শে মার্চ ঐতিহাসিক সহ্ִরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে “প্রতীকী বিচারে” গোলাম আজমের ঐতিহাসিক বিচারের রায়, ফাঁসী ঘোষনা।
  • ২৬শে জুন ১৯৯৪, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জাহানারা ইমামের মৃত্যু! এর পর ১৪ টি বছর পেরিয়ে গেছে মাঝখানে আওয়ামীলীগ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকলেও আর কোনোদিন যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে কেউ কোনো দাবি তোলেনি।
  • ২০০৭ সালে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকে বেগবান করতে মুক্তিযুদ্ধের জীবিত সেক্টর কমান্ডাদের নিয়ে ২০০৭ সালে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম গঠনহয়।
  • ২০০৮ সনের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টে আওয়ামীলীগ আবার যুদ্ধপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গটি অন্তর্ভুক্তি করে
  • ২০০৯ জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসে আওয়ামীলীগ সরকার ২০১০ সনে আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইবুনাল গঠন করে এবং চিহ্নিত যুদ্ধপরাধীদের গ্রেফতার করে
  • ২০১৩ ফেব্রুয়ারী মাসের ৫ তারিখে ট্রাইবুনাল প্রথম বিচারে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রায় প্রকাশ করে - যাবৎ জীবন কারাদণ্ড

কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে আন্দোলনটি গড়ে না ওঠায় ‘অরাজনৈতিক’ মঞ্চটিকে সাধারণ মানুষ, চলতি কথায়– যাদের ‘আমজনতা’ বলা হয়, তারা মনে করেছেন, এটি আমার নিজের মঞ্চ, এখানে এসে আমি গণস্বাক্ষর দিতে পারি, শ্লোগানে, শ্লোগানে চিৎকার করে বলতে পারি, বিচার চাই!  শান্তির পায়রা, রঙিন বেলুন আকাশে উড়িয়ে ও মোম জ্বালিয়ে ছড়াতে পারি আমার শুভ বুদ্ধির চেতনার আলো। দৃশত্:ই আন্দোলনের প্রধান সারিরা নেতা-সংগঠকরা [এমনকি চলতি লেখকও] যারা ১৯৭১ এর দ্বিতীয় প্রজন্মের, তারা কেউ-ই মুক্তিযুদ্ধটি সরাসরি প্রত্যক্ষ করেননি ঠিকই, কিন্তু তারা বড়োদের কাছ থেকে শুনেছেন, ১৯৭১ সালে কি নৃশংস হত্যাযজ্ঞ এ দেশে ঘটেছে! তারা বই পড়ে, ভিডিও ফুটেজে, স্থির চিত্রে জেনেছেন, ৪২ বছর আগে ঘটে যায়া রক্তাক্ত বাংলার ইতিহাস।

বিকাল ৩টায় শাহবাগ মোড়ে সমাবেশের মূলমঞ্চ থেকে চরমপত্র পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় লাখো মানুষের এ সম্মিলিত প্রতিবাদ। চরমপত্র পড়ে শোনান ব্লগার শহীদুল ইসলাম রাজু।

এরপর সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। হাজারো কণ্ঠে উচ্চারিত হয় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি।

এ সময় চারদিক থেকে মানুষের ঢল নামতে থাকে শাহবাগের সমাবেশস্থলে। কিছুক্ষণের মধ্যে শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর, বাংলামটর, কাটাবন ও মৎস্যভবন পর্যন্ত চারপাশের সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

সমাবেশের মূলমঞ্চে অঞ্জন রায়ের উপস্থাপনায় এবং মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর সহযোগিতায় একে একে বক্তব্য দিতে আসেন মুক্তিযোদ্ধা, তাদের স্বজন ও বিভিন্ন অঙ্গনের বরেণ্য ব্যক্তিরা। তাদের অনেকেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্লোগান ধরেন, ‘রাজাকারের ফাঁসি চাই, যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই’।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমান বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। আমাদেরকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

“এই সেই একাত্তর, যেখানে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আজ তোমরা রাজাকারমুক্ত দেশ গঠন করবে। শিবিরমুক্ত স্বাধীন দেশ গড়বে।”

(অনলাইন মিডিয়া বাংলা ব্লগ ও ফেইসবুক থেকে তথ্য সংগৃহিত)



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ