১৯ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ১৭ম সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২৩এপ্রি – ২৯এপ্রি ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 17th issue: Berlin, Sunday 23 Apr – 29 Apr 2017

ফ্রান্স এর নির্বাচন ও ইউরোপীয় রাজনীতির অস্থিতিশীলতার অবসান

এই বছরের শুরুটাই ফ্রান্স এর জন্যে এক সাফল্যের বছর

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2017-04-25   সময়ঃ 18:20:40 পাঠক সংখ্যাঃ 188

প্যারিস, ২৪ এপ্রিল ২০১৭: রবিবারের নির্বাচনে ফ্রান্স ইউরোপের জনজীবনে আবার আনন্দের উচ্ছলতা আর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার আলো ছড়িয়ে দিলো। এমন ভাবে কি বাংলাদেশে চিন্তা করা যায় যে, দেশের সর্বোচ্চ পদের জন্য নির্বাচন হচ্ছে অথচ আওয়ামী লীগ বা বিএনপি – কেউ সেই পদ পেলেন না, পেলেন উদার পন্থী কোনো এক দলের ৩৯ বছরের এক তরুণ রাজনীতিবিদ? হ্যাঁ, ফরাসি জনগণ সেই কাজটি ই করলেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে প্রচলিত দলগুলির অভূতপূর্ব পরাজয় ঘটলো৷ উঠে এলেন দুই ‘প্রান্তিক' প্রার্থী৷ তবে উগ্র দক্ষিণপন্থি প্রার্থী হালে পানি না পাওয়ায় ইউরোপসহ গোটা বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো৷
এই বছরের শুরুটাই ফ্রান্স এর জন্যে এক সাফল্যের বছর, জানুয়ারিতে ফিলিপাইন্সে আয়োজিত এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায়, ফরাসি ডেন্টাল সার্জারির ছাত্রী ফুলের মতোই সুন্দরী ইরিস ৮৪ জন অন্যান্য বিশ্ব সুন্দরীদেরকে পরাজিত করে ‘মিস ইউনিভার্স’ হলেন ইরিস। আর আজ ২৩ এপ্রিল, ইউরোপপন্থি প্রার্থী তরুণ রাজনীতিবিদ এমানুয়েল মাক্রোঁ দেখিয়ে দিলেন সদিচ্ছা থাকলে রাজনৈতিক দল ছাড়াই দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া যায়। যদিও তাকে আরো ২ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে, ৭ই মে হবে ফাইনাল, ফরাসি প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতে হয় একজন প্রার্থীর।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম পর্বে তাই সেই অসাধ্য সাধন করলেন দুই ‘প্রান্তিক' প্রার্থী৷ রক্ষণশীল ও সমাজতন্ত্রী প্রার্থীদের পেছনে ফেলে প্রথম দুই স্থান দখল করলেন উদার, ইউরোপপন্থি প্রার্থী এমানুয়েল মাক্রোঁ ও দক্ষিণপন্থি ইউরোপবিরোধী প্রার্থী মারি ল্য পেন৷ এবার আগামী ৭ই মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে তাঁদের মধ্যে সরাসরি লড়াই হবে৷
যদিও প্রথম ধাপের জয়ের ব্যবধান বেশি নয়, তবেএই ঐতিহাসিক নির্বাচনে ফলাফলের গুরুত্বখাটো করে দেখা চলে না৷ মাক্রোঁ পেয়েছেন ২৩.৯ শতাংশ, ল্য পেন ২১.৪ শতাংশ৷ ফ্রান্সের ভোটাররা মূল স্রোতের রাজনৈতিক শক্তিগুলির প্রতি চরম বিরক্তি প্রকাশ করে তাদের শাস্তি দিয়েছেন৷ রক্ষণশীল দলের প্রার্থী ফ্রঁসোয়া ফিয়ঁ ১৯.৯ শতাংশ পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছেন৷ ক্ষমতাসীন সমাজতন্ত্রী দলের প্রার্থী বেনোয়া আমোঁ পেয়েছেন মাত্র ৬.৪ শতাংশ৷
বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্ড এর দল ফ্রান্স সোসালিষ্ট মাত্র ৬ শতাংশ পাওয়ার কারণ সোসালিষ্ট দের জনবিরোধী রাজনীতি। ইউরোপীয় গণতন্ত্রের এটাই হলো সবচেয়ে প্রশংসনীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতি, একদল সময় মতো যদি জনসমর্থন না পায় তাহলে সে দলকে জনগণ আর সুযোগ দেয় না। উগ্র দক্ষিণ পন্থী দল ফ্রান্স ন্যাশনাল ও তার প্রেসিডেন্ট পদ প্রার্থী মারি ল্য পেন তাঁর স্বপ্ন, ফ্রান্স কে “ট্রাম্প” এর মতো ফ্যাসিস্ট চিন্তাধারার বাস্তবায়ন করতে পারছেন না এ যাত্রায়। ফ্রান্সের নির্বাচনি ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে এতকাল সব দল তাদের কোন্দল ভুলে দক্ষিণপন্থিদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে এসেছে৷ অতএব আগামী ৭ই মে এমানুয়েল মাক্রোঁ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন, এমনটাই আশা করা যায়৷ দুই বড় দল অবিলম্বে মাক্রোঁ'র প্রতি সমর্থন জানিয়েছে৷
ফ্রান্সের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবার পর ইউরো-র বিনিময় মূল্য এক ধাক্কায় বেড়ে গেছে৷ আর্থিক বাজার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে৷
ফ্রান্স এর মতো জার্মানির মানুষরাও নিশ্চিত যে এমানুয়েল মাক্রোঁ ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন এবং জার্মানির আসন্ন নির্বাচনে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস দলের প্রার্থী মার্টিন শুলজ-ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ফ্রান্সের সব গণতন্ত্রমনস্ক মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হবার ডাক দিয়েছেন৷
ফ্রান্স এর নির্বাচনের পর ইউরোপিয়ান আর একটি শক্তিশালী দেশ জার্মানি তাদের নির্বাচনী ডামাডোল বাজিয়ে ফেলেছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জার্মানিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সকল নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের হিসেবে নিকেশ অনুযায়ী জার্মানিতে এবার আঙ্গেলা মের্কেল আর ক্ষমতায় থাকতে পারছেন না, সোশ্যাল ডেমোক্রাট দলের চ্যান্সেলর পদ প্রার্থী, মার্টিন শুলজ তাই আশার আলো পেয়েছেন যে দক্ষিণ পন্থীরা কোনো ক্রমেই জার্মানিতে ক্ষমতায় আসবে না এবং সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস দল ই জার্মানির আগামী সরকার গঠন করতে পারবে । ফ্রান্স এর নির্বাচন ইউরোপের অস্থিতিশীল অবস্থানের নিরসন হলো।

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ