১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ১৮ম সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ৩০এপ্রি – ০৬মে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 18th issue: Berlin, Sunday 30 Apr – 06 May 2017

লাখো কন্ঠে বিদ্রোহী কবিতা শিরোনামে অনুষ্ঠিত হল আবৃতি

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাশরী ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক / বাংলা নিউজ তারিখঃ 2017-05-04   সময়ঃ 01:08:19 পাঠক সংখ্যাঃ 254

সোমবার (০১ মে) বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এ কবিতা আবৃত্তি করা হয়। এ সময় সবার হাতে ছিলো জাতীয় কবি নজরুলের প্রতিকৃতি সম্বলিত কার্ড।

যৌথ ভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাশরী ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

বাশরীর সভাপতি ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন-  এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান উপদেষ্টা মোতাহার হাসান, কবি পরিবারের সদস্য খিলখিল কাজী ও অনিন্দিতা কাজী। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন- নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সুজিত মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মে দিবস বিদ্রোহের প্রতীক। মে দিবসে বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তির জন্য আপনারা যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম একাধারে বিদ্রোহী, সাম্যের কবি, প্রেমের কবি। নজরুলের আদর্শ ধারণ করে আমরা অসাম্প্রদায়িক ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছি।
ঢাবিতে লাখো কন্ঠে বিদ্রোহী কবিতা- ছবি: জিএম মুজিবুর   
তরুণদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন,  ৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞানহীন ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের বিরুদ্ধে সর্ব প্রথম বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। সে পথ ধরে একাত্তরে স্বাধীনতা আমরা লাভ করি। তারুণ্যই পারে পুরাতনকে ঝেড়ে পেলতে। সভ্যতার সামনের দিকে এগুতে হলে সমাজে বিদ্যমান অসংগতি ঝেড়ে ফেলতে হয়। আর সমাজের মধ্যে সংস্কার, পরিবর্তন করার চেষ্টা করলে যখন কোনো শক্তি যদি আটকাতে চায় তখনই বিদ্রোহ হয়।

মে দিবস নিয়ে মন্ত্রী বলেন, শ্রম কখনো সস্তা নয়, শ্রমিক কখনো দয়ার পাত্র নয়। সামনে যদি এগুতো হয় তাহলে নারী-পুরুষ সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, চিরকাল তরুণরা বিদ্রোহী হয়। কিন্তু আজ বাংলাদেশের যুব সমাজের দিকে তাকালে একটু বিভ্রান্ত হই। বিদ্রোহ ছাড়া সমাজ এগুতে পারে না। বাঙালিরাও বিদ্রোহের মাধ্যমে ৫২ ভাষা আন্দোলন, ৭১ স্বাধীনতা, ৯০ স্বৈরাচারকে পরাজয় করেছে। আজ বিদ্রোহ চলছে সাম্প্রদায়িকতা মৌলবাদের বিরুদ্ধে। এর মাধ্যমে চলছে বৈষম্য, ধমর্নিরেপক্ষতার জয়ের বিদ্রোহ চলছে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
 
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিদ্রোহের মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায় করেছে। আজও আমাদের কোনো না কোনো বিষয়ে বিদ্রোহ করছে। নজরুল আমাদের জাতীয় কবি যিনি আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার শিক্ষা দিয়েছেন।

বাংলা ভিশনে এক ইন্টারভিউ এ বাঁশরীর সভাপতি খালেকুজ্জামান ও নির্বাহী সদস্য সুজিত চৌধুরী বলেন বাঁশরী একটি নজরুল চর্চা কেন্দ্র, যেখানে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক আদর্শ  সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতেই এই নজরুল চর্চা কেন্দ্র শুরু হয়। নজরুলের সাম্যবাদী কবিতাই আমাদেরকে ধর্মের উর্ধে একটি জাতি গঠনে সহায়ক হবে। নজরুল চর্চার একটা পরিবেশ তৈরী করতে হবে শুধু সরকারি ভাবে জন্ম ও মৃত বার্ষিকী করলেই নজরুলকে চেনা যাবে না, একদিকে নজরুলকে জাতীয় কবি বানানো হলো কিন্তু তাঁর উপর স্কুল কলেজে বিস্তারিত কোনো চর্চা নেই।  নজরুল শুধু কবি ছিলেন না তিনি সাংবাদিক, গানের নজরুল, ইসলামী গান, শামা সংগীত, প্রেমের গান এগুলোতো নজরুল ই করে গেছেন। তিনি  আমাদের বাঙালি সমাজের ভেতরে ঢুকে হিন্দু-মুসলিমের সমস্যা কে চেনার চেষ্টা করেছেন।   

নজরুন সংগঠন বাঁশরীর সভাপতি খালেকুজ্জামান বলেন ২০২১ সনে যখন এই বিদ্রোহী কবিতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে এবং বাংলাদেশের ৫০ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করবো তখন আমরা শুধু ঢাকায় নয় সগ্রহ বাংলাদেশে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক আদর্শ ছড়িয়ে দেব এবং সাম্প্রদায়িক হীনমন্যতা থেকে বেরিয়ে একতাবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবো এই বিদ্রোহী কবিতার মাঝে বাংলাদেশকে নতুন করে খুঁজে পাবো । 
বাঁশরীর পক্ষ থেকে আমরা শুধু বিদ্রোহী কবিতার চর্চা নয় বরং তার অন্যান্য সৃষ্টিগুলো আলোচনায় তুলে নিয়ে আনতে চাই যেমন, তাঁর ছিনেমা শিল্পে অবদান বাঙালি কম মানুষই জানে যে তিনি ২০ টির ও বেশি ছায়াছবি তে কখনো পরিচালক, কখনো সংগীত কখনো চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেছেন, অথবা তাঁর সাংবাদিকতার দিক নিয়েও কাজ করছি, নজরুলের শামা সংগীত, ইসলামী সংগীত, গজল ইত্যাদি আমরা প্রতি শনিবার বাঁশরীর লালমাটিয়ার গল্পঘরে নজরুলকে নিয়ে আলোচনা করি। খালেকুজ্জামান আক্ষেপ করে বলেন যে নজরুলের বই আজকাল আর সাধারণ বুকশপে বা লাইব্রেরির দোকানগুলিতে পাওয়া যায় না, নজরুলের বই কিনতে হলে নজরুল একাডেমিতে যেতে হয়, উদাহরণ স্বরূপ একজন পঞ্চগড় বাসি নজরুলের বই কিনতে হলে ঢাকায় আসতে হয়, বাঁশরী মনেকরে নজরুলকে আমাদের সমাজের গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে দিতে হবে তাহলেই হয়তো একদিন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ আমরা করতে পারবো। (সুত্র:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর)
 


 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ