১৮ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ১৯ম সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ০৭মে – ১৩মে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 19th issue: Berlin, Sunday 07 May – 13 May 2017

মামলার জালে আটকা পড়ছেন মুসা

এ ব্যাপারে মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়

প্রতিবেদকঃ আল-আমিন, মানব্জমিন তারিখঃ 2017-05-10   সময়ঃ 23:52:48 পাঠক সংখ্যাঃ 134

শেষ পর্যন্ত ফেঁসে যাচ্ছেন ধনকুবের মুসা বিন শমশের। মামলার জালে আটকা পড়ছেন তিনি। বরাবরই রহস্যময় ও চাকচিক্য জীবন যাপনে অভ্যস্ত প্রিন্স মুসা। এবার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত ২১শে মার্চ ধানমন্ডি এলাকা থেকে একটি গাড়ি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। তদন্তে ধরা পড়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নেপথ্যে থেকে গাড়িটি আমদানি করেছেন ধনকুবের মুসা বিন শমসের। এরপর মুসাকে কাকরাইলের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অফিসে তলব করে দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মুসা গাড়িটি আমদানি করেছেন। এরপরই শুল্ক আইন, মানি লন্ডারিং এবং দুদক আইনে ৩টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বেশ ক’বছর আগে সুইজারলান্ডের একটি ম্যাগাজিনে প্রিন্স মুসাকে নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। সেখানে মুসা দাবি করেন, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে ১২ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা। তিনি পঞ্চাশ লাখ ডলারের ঘড়ি হাতে পরেন, ২৪ ক্যারেট সোনা আর ৭৫০০ হীরকখণ্ডের তৈরি এক কোটি ডলার দামের কলম ব্যবহার করেন। আর ১০ লাখ ডলার দামের হীরে-পান্না গলায় ঝুলান। থাকেন গুলশান এলাকায় আলিশান শ্বেত পাথরে মোড়ানো একটি বাড়িতে। বাইরে বের হলে তার সঙ্গে থাকেন ৩০ জন বডিগার্ড। তার এই ধনসম্পদ ও রহস্যময় জীবন বাংলাদেশে তো বটেই বিদেশেও আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপরই দেশে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন তিনি। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান মানবজমিনকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২১শে মার্চ ধানমন্ডির ৬/এ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় শুল্ক কর্মকর্তারা। এ সময় ল্যান্ড লোভার নামে একটি বিলাস বহুল গাড়ি আটক করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দারা জানতে পারে যে, গাড়িটি ধনকুবের মুসার। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনেক দিন ধরে তদন্ত করা হয়। তিনি আরো জানান, তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পর মুসাকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসা হয়। তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গাড়ি আমদানির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মুসা দাবি করেছেন, ডিফাইন নামের একটি কোম্পানির নাম করে তিনি গাড়িটি দেশে এনেছেন। মইনুল খান আরো জানান, মুসা দাবি করেছেন গাড়িটি তিনি অবৈধ নয়, বৈধভাবে আমদানি করেছেন এবং শুল্ক ফাঁকি দেননি। কিন্তু, তিনি তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণাদি পেশ করতে পারেননি। তিনি অনেক তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছেন। শুল গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের অংশ হিসাবে গত ২১শে মার্চ শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দল গুলশান থানাধীন ১০৪ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে তথ্য অনুযায়ী ধানমন্ডির ৬/এ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ল্যান্ড লোভার নামে একটি বিলাস বহুল গাড়ি আটক করা হয়। সূত্র জানায়, গাড়িটি কারনেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় শুল্কমুক্ত হিসাবে ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের নাগরিক ফরিদ নাবির (যার কারনেট নম্বর-সিসিএক্স-৫০২০৮৯, তারিখ ১২-০৩-২০১০, পাসপোর্ট নম্বর-৩০৫৬৮৫৬৪১, তারিখ-১৫-০৮-২০০৬, ঠিকানা: ৩৪, মানসফোর্ড, স্ট্রিট লন্ডন) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুন:রপ্তানি করার শর্তে আমদানি করেন। উক্ত শর্ত পরিপালন না করে গাড়িটি ভোলা বিআরটিএ অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যলোচনায় দেখা যায়, নিবন্ধনকালে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম বিল অব এট্রি নম্বর, সি-১০৪৫৯১১, তারিখ-১৩-১২-২০১১ এর মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা শুল্ক কর পরিশোধের তথ্য প্রদান করা হয়। সূত্র জানায়, এই কর পরিশোধের কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আরো দেখা যায়, গাড়িটি ফারুক-উজ-জামান চৌধুরীর নামে রেজিস্ট্রেশন নেয়া হয়। তার বর্তমান ঠিকানা দেয়া হয়েছে, বটতলা রোড, চরশ্যাসন, ভোলা। স্থায়ী ঠিকানা দেয়া হয়েছে, দিলারপুর পাবনা। সূত্র জানায়, এই গাড়িটি ফারুক-উজ-জামান চৌধুরীর নামে রেজিস্টেশন করা হলেও গাড়িটি মুসা বিনা শমসের ব্যবহার করতেন। গাড়িটি ধানমন্ডি এলাকা থেকে আটক করা হলেও ওই গাড়িটি গুলশানে মুসার গ্যারেজে থাকতো বলে প্রাথমিক তদন্তে শুল্ক গোয়েন্দারা প্রমাণ পেয়েছে। সূত্র জানায়, উক্ত ঘটনার পর ১৯৬৯ এর সেকশন ২১ এর অধীনে প্রণীত কারনেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় শুল্ক মুক্তভাবে গাড়ি আমদানি সংক্রান্ত এরআর নম্বর-২৬৬-আইনে, ২০০৫ এবং ২০৯৮, শুল্ক, তারিখ, ২২-০৮.২০০৫ এর শর্ত লংঘিত হওয়ায় কাস্টম আইনের ১৯৬৯ এর সেকশন ১৫৬ (১) এর আইটেম নম্বর ১১ এর আত্ততায় শাস্তিযোগ্য হওয়ায় একই সঙ্গে জাল কাগজপাতি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে গাড়ি ব্যবহার করা শুল্ক ফাঁকির অর্জিত অর্থ বিভিন্নভাবে রূপান্তর ঘটেছে যা মানিলন্ডারিং আইন ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) ২(শ) এর শুল্ক সংক্রান্ত সম্পৃক্ত অপরাধ হিসাবে বিবেচ্য হওয়ায় গাড়িটি আটক করে তদন্ত করা হয়। সূত্র জানায়, ভোলা জেলার বিআরটিএ দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া কাগজ দিয়ে গাড়িটি রেজিস্টেশন করা হয়েছে। শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মুসা বিন শমসেরকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়। গত রোববার দুপুরে তিনি তার ৩০ জন দেহরক্ষী নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিপ্তরের যান। সেখানে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খানসহ দু’জন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সূত্র জানায়, শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি অনেকক্ষণ নীরব থাকেন। তিনি কর্মকর্তাদের পাল্টা প্রশ্ন করে বসেন যে, গাড়িটির ব্যাপারে তিনি ৩ মাস সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু, তাকে কেন ৩ মাস সময় দেয়া হলো না। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে জানায় যে, তাকে ১৫ দিন যে সময় দেয়া হয়েছে এ সময় আর কাউকে দেয়া হয় না। তিনি বিশিষ্ট ধনকুবের এজন্য তাকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে। তখন উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মুসা শুল্ক কর্মকর্তাদের জানান, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কারণে ১৫ দিনের মধ্যে এসেছেন। সূত্র জানায়, মুসা তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের পর দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর হয়ে যায়। এটি আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়। এক পর্যায়ে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি আমার মাথায় আসে। আজকে বাংলাদেশের উন্নতির বড় খাত হচ্ছে রেমিটেন্স। এটা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। তিনি বিষয়টি সবাইকে ভেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, কাস্টম আইনের ১৯৬৯ এর ধারা ১৮ ও ৩২ সংক্রান্ত যেকোনো ধারাই হোক যা সূত্র ‘ক’ এর অনুচ্ছেদ ২ এবং ৫ এর উল্লেখ করেছেন যা সম্পূর্ণরূপে উক্ত কারনেট সুবিধায় আমদানিকৃত ব্যক্তির উপর বর্তায়। তিনি দ্ব্যার্থহীন ভাষায় জানান যে, তিনি কোনো শুল্ক ফাঁকি দেননি। এ ব্যাপারে মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার একজন কর্মচারী ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, ‘দুঃখিত তিনি এখন নেই।



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ