২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ১৯ম সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ০৭মে – ১৩মে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 19th issue: Berlin, Sunday 07 May – 13 May 2017

প্রভাবশালীরা দুর্বল করে দেয় ধর্ষণ মামলা

প্রভাবশালীরা কয়েকভাবে ধর্ষণ মামলাকে দুর্বল করার চেষ্টা করে

প্রতিবেদকঃ ডয়চে ভেলে তারিখঃ 2017-05-12   সময়ঃ 16:21:58 পাঠক সংখ্যাঃ 157

বাংলাদেশে এক হাজারে মাত্র চারজন আসামি ধর্ষণ মামলায় সাজা পায়৷ আর বছরে মাত্র ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়৷ আইনের ত্রুটি, ফরেনসিক টেস্টের সীমাবদ্ধতা, প্রভাবশালীদের চাপ এবং সামাজিক কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷
 
বাংলাদেশে এই সময়ে সবচেয়ে আলেচিত ঢাকায় দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা৷ গত ৪ মে মামলা হলেও এখনো ৫ আসামির কেউ ধরা পড়েনি৷ মামলাটির মধ্যে বাংলাদেশের ধর্ষণ মামলা, তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ার সব দুর্বলতা স্পষ্ট৷
 
ঢাকার বনানীতে একটি হেটেলে ২৮শে মার্চ জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে দুই তরুণীকে হোটেল রুমে ১৩ ঘণ্টা আটকে রেখে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করা হয়৷ তারা ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করে৷ এরপর তাদের প্রাণনাশের হুমকি এবং ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে মামলা থেকে বিরত রাখা হয়৷ শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তারা ৪ মে বনানী থানায় মামলা করতে যান৷ সেখানকার পুলিশ তাদের দুই দিন ঘুরিয়ে অবশেষে ৬ মে মামলা নেয়৷
মামলার পর তরুণীদের ফরেনসিক পরীক্ষা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সাপোর্ট সেন্টারে৷ কিন্তু মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাবে কিনা, এ বিষয়ে নিশ্চিত নন চিকিৎসকরা৷ ১৫ দিন পর ফলাফল জানা যাবে৷
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ধর্ষণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফরেনসিক পরীক্ষা হলে ভালো৷ এই সময়ের মধ্যে ধর্ষণের শারীরিক প্রমাণ পাওয়া সহজ৷ দেরি হলে প্রমাণ বিলীন হয়ে যায়৷ কিন্তু আমাদের দেশে ভিকটিমদের পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ১০-১২ দিন পর৷ ফলে এখানেই ধর্ষকের ছাড়া পাওয়ার সুবিধা তৈরি হয়ে যায়৷’’> AUDIO
তিনি বলেন, ‘‘সাধারণত ধর্ষণের পর প্রভাশালীরা সালিশসহ নানা বাহানায় সময় পার করে৷ তারপর থানায় গেলে থানা নানাভাবে মামলা নিতে দেরি করে৷ ফলে ধর্ষণ প্রমাণ কঠিন হয়ে পড়ে৷’’
কুমিল্লার তনু, দিনাজপুরের পূজার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে৷ তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে৷ তনু ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা ঘটেছে সেনানিবাসের মধ্যে৷ সেখানেও ধর্ষকরা ঢাকার ঘটনার মতো প্রভাবশালী৷
মানবাধিকার কর্মী এবং জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট দিলরুবা শারমিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রভাবশালীরা কয়েকভাবে ধর্ষণ মামলাকে দুর্বল করার চেষ্টা করে৷ তারা প্রথমে চেষ্টা করে মেডিক্যাল টেস্টকে দুর্বল করতে৷ বাদি এবং সাক্ষী উভয়কে চাপ ও হুমকি দিয়ে সমঝোতা করাতে এবং আলামত নষ্ট করতে৷ আর এই কাজে প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থ এবং পুলিশকে কাজে লাগায়৷ বনানীর ধর্ষণের ঘটনায় যা স্পষ্ট হয়েছে৷’’
অ্যাডভোকেট দিলরুবা শারমিন আরো বলেন, ‘‘পুলিশ প্রভাবশালীদের হয়ে ধর্ষণের শিকার যারা হন, তাদের ‘চরিত্র হরণ’ করে৷ একই সঙ্গে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য পাঠাতে দেরি করে, যাতে ঘটনা প্রমাণ করা না যায়৷’’
তিনি মনে করেন, ‘‘আদালতে ধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়াও ত্রুটিপূর্ণ৷ ধর্ষণকে যেভাবে আদালতে প্রমাণ করতে হয়, সাক্ষ্য আইন মেনে তা অনেক জটিল এবং অবমাননাকর৷ ফলে অনেক ভিকটিম মামলা করলেও আর শেষ পর্যন্ত আদালতে যান না৷’’
আদালত সূত্র জানায়, সারাদেশে বিচারের জন্য ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা ঝুলে আছে৷ এসব মামলার বিচার চলছে ঢিমেতালে৷ বছরে নিষ্পত্তি হচ্ছে মাত্র ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা৷ আর সাজা পাচ্ছে হাজারে সাড়ে মাত্র ৪ জন আসামি৷ > AUDIO
২০০১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে চিকিৎসা সহায়তা নিতে আসেন ২২ হাজার ৩৮৬ জন নারী৷ তার মধ্যে মামলা হয় পাঁচ হাজার তিনটি ঘটনায়৷ এর মধ্যে ৮০২টি ঘটনায় রায় দেয়া হয়েছে৷ শাস্তি পেয়েছে ১০১ জন৷ রায় ঘোষণার হার ৩.৬৬ ভাগ৷ আর সাজার হার ০.৪৫ ভাগ৷
পুলিশি তদন্তে ত্রুটি এবং অবেহেলার কারণেই প্রধানত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ আছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির নেতিবাচক দিক আর আছে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা৷
আইনজীবী দিলরুবা শারমিন জানান, ‘‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালে ৬ মাসের মধ্যে এসব মামলার বিচার শেষ করার বিধান আছে৷ কিন্তু নানা অজুহাতে তা শেষ হয় না৷ তাই আমি মনে করি, এসব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে নিলে দ্রুত বিচার পাওয়া যাবে৷’’



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ