১৮ জুলাই ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ২১ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ২১ মে– ২৭মে ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 21 issue: Berlin, Monday 21May-27May 2018

৫০ বছরে নকশালবাড়ি আন্দোলন কি পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক?

সশস্ত্র সংগ্রাম এই উদার গণতন্ত্রের যুগে কতটা প্রাসঙ্গিক

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2017-05-25   সময়ঃ 18:45:17 পাঠক সংখ্যাঃ 494

পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থি দলগুলির জনভিত্তি ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে৷ তবে অন্য কয়েকটি রাজ্যে এখনও সক্রিয় চরম বামপন্থী সংগঠন৷ নকশালবাড়ি আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তিতে প্রশ্ন উঠছে, সশস্ত্র সংগ্রাম এই উদার গণতন্ত্রের যুগে কতটা প্রাসঙ্গিক?
ভারতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান বিচার করলে দেখা যাবে, সংসদীয় পথে সক্রিয় বামপন্থিরা এখন মাত্র দু'টি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে– কেরালা ও ত্রিপুরা৷ এছাড়া বিরোধী শক্তি হিসেবে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই বামপন্থিদের ক্ষমতা বলার মতো৷ এই বামেরা যখন ক্রমশ জমি হারাচ্ছে, অন্যদিকে জঙ্গলমহলে সক্রিয় হচ্ছে সশস্ত্র বামেরা, সে সময় প্রশ্ন উঠছে– তাহলে কি নকশালবাড়ির রাস্তাই ঠিক ছিল? ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়সহ বিভিন্ন রাজ্যে ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে নকশালপন্থি বা মাওবাদীরা৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বলেছেন, নকশালপন্থাই দেশের আভ্যন্তরীণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকি৷ তাঁদের স্বীকারোক্তিতেই প্রমাণিত হয়, ভারত সরকার সংসদীয় পথে রাজনীতি করা বামেদের তুলনায় সংসদের বাইরে সংগ্রামরত বামেদের নিয়ে বেশি চিন্তিত৷
এই বিতর্কে ঢোকার আগে নকশালবাড়ি আন্দোলনের ৫০ বছরে দাঁড়িয়ে তার ইতিহাসে একবার নজর দেওয়া দরকার৷ সিপিআইএম বা ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) ভেঙে তৈরি হয় সিপিআই (এমএল) বা ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)৷ এই দলের নেতা চারু মজুমদার, সুশীতল রায়চৌধুরী, কানু সান্যাল, জঙ্গল সাঁওতালের বক্তব্য ছিল, স্বাধীনতার পর দু দশক ধরে সংসদীয় রাজনীতি কমিউনিস্টদের বিপ্লবী চরিত্র নষ্ট করে দিয়েছে৷ তাই সংসদীয় রাজনীতিতে থাকলে সর্বহারা মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়৷
১৯৬৭ সালে উত্তরবঙ্গের নকশালবাড়ি গ্রামে হিংসাত্মক আন্দোলনের প্রথম স্ফূলিঙ্গ দেখা যায়৷ সেই গ্রামে কৃষকরা আইন হাতে তুলে নেন৷ ভূস্বামীদের উৎখাত করে জমির ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন৷ চারু মজুমদার চীনের বিপ্লবী নেতা মাও সে তুং-এর মতাদর্শে বিশ্বাস করতেন৷ তিনি মনে করতেন, শ্রমিক-কৃষকের যা প্রাপ্য, তা আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়৷ এ জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম করতে হবে৷ এই নকশালপন্থিদের চোখে ভূস্বামী কিংবা শিল্পপতিরা শোষক শ্রেণি, খেটে খাওয়া মানুষ শোষিত৷ তাই চারু মজুমদার নীতি, শ্রেণিশত্রুদের খতম করতে হবে৷ এই রক্তপাতের মাধ্যমেই একদিন বিপ্লব সম্পন্ন হবে, শাসন ক্ষমতা আসবে খেটে খাওয়া মানুষের হাতে৷
১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতে এখনও টিকে রয়েছে৷ নকশালপন্থি আন্দোলন মতাদর্শগত সংঘাতের জেরে বহু ধারায় বিভক্ত হয়েছে, রাষ্ট্রশক্তি তার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে, তবু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধিকিধিকি জ্বলছে সশস্ত্র বামপন্থার আগুন৷ ছত্তিশগড়ে সম্প্রতি একাধিক হামলায় মাওবাদীরা আধাসামরিক বাহিনীকে নিশানা করেছে, মেরে ফেলেছে জওয়ানদের৷ সে কারণেই নকশালপন্থি, আজ যাদের পোশাকি নাম মাওবাদী, তারাই ভারত সরকারের মাথাব্যথার কারণ৷
প্রায় তিন দশক আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়েছে৷ পতন হয়েছে পূর্ব ইউরোপের৷ বিশ্ব জুড়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে নির্বাচন ও গণতন্ত্র এখন বহুল স্বীকৃত, এর কোনও বিকল্পও নেই৷ বন্দুকের নলের মাধ্যমে শাসনক্ষমতা দখল করার বদলে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের রীতিই জনপ্রিয় হয়েছে দেশ দেশে৷ চীনে কমিউনিজমের পতাকা থাকলেও তারাও বাজার অর্থনীতির রাস্তায় চলেছে৷ একই অবস্থা ভিয়েতনাম বা কিউবার মতো কমিউনিস্ট দেশগুলির৷ গত শতাব্দীর ৭০ কিংবা ৮০-র দশকে, যখন কমিউনিস্ট সোভিয়েতের অস্তিত্ব ছিল, তখন নকশালপন্থি আন্দোলন বেড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ পেয়েছিল৷ কিন্তু, সোভিয়েতের পতনের ফলে বহুকালই সেই পরিস্থিতি আর নেই৷ ‘বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ’ বলে আন্দোলনকে সাধুবাদ জানানোর জন্য বিশ্ব নেতৃত্ব অনুপস্থিত৷ তা সত্ত্বেও কোন জাদুবলে আজও ভারতে চরম বামপন্থি আন্দোলন টিকে রয়েছে, সেই প্রশ্ন নকশালবাড়ির ৫০ বছরে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে৷



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ