২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ২৪শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১১জুন – ১৭জুন ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 24th issue: Berlin, Sunday 11 jun – 17 Jun 2017

ওয়াটারগেইট কেলেঙ্কারি : নিক্সন প্রেসিডেন্সির অবসান

ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৫ বছর পর ঘটনার পুনরাবৃত্তি?

প্রতিবেদকঃ ডয়েচে ভেলে তারিখঃ 2017-06-13   সময়ঃ 19:43:38 পাঠক সংখ্যাঃ 113

রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত এবং প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির তুলনা করা হচ্ছে৷ কী ছিল সেই ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি, যা নিক্সনকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল?
ওয়াটারগেট হোটেল
এই হোটেলটিই সব নষ্টের গোড়া৷ ১৯৭২ সালের ১৭ই জুন ভোরে পাঁচ অনুপ্রবেশকারী হোটেলে ঢুকে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির অফিসে ছোট ছোট মাইক্রোফোন বসিয়ে সটকে পড়ে৷ বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে সন্দেহের তীর ঝুঁকে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের দিকে৷ সহযোগীরা অভিযোগ নাকচ করে দিলেও দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হবার দু’বছরের মধ্যেই নিক্সনের জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে৷ ফলে তাঁকে ছেড়ে দিতে হয় প্রেসিডেন্টের পদ৷
রিচার্ড নিক্সনের সফল বিদেশনীতি
ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির আগে নিক্সন তার কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য বিখ্যাত ছিলেন৷ ১৯৬৮ ও ১৯৭২-এ পরপর দু’বার নির্বাচিত হবার পর তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি চীন সফরে যান৷ ঐতিহাসিক এ সফরে তিনি চেয়ারম্যান মাও সেতুং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মার্কিন-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন৷
বিপুল জয়
তখনো ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে নিক্সনের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি৷ আগের মেয়াদে নিক্সনের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, ১৯৭২ সালের নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫০টি রাজ্যের ৪৯টিতেই জয়ী হন৷
সাংবাদিক উডওয়ার্ড ও বার্নস্টেইন
এত জনপ্রিয়তার পরও ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি পিছু ছাড়েনি নিক্সনের৷ ওয়াশিংটন পোস্টের দুই সাংবাদিক কার্ল বার্নস্টেইন (বামে) ও বব উডওয়ার্ড (ডানে) হোটেল আর হোয়াইট হাউসে পাঁচ অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে গভীর তদন্ত শুরু করেন৷ শেষমেশ উডওয়ার্ড ‘গোপন উৎস’ থেকে খবর পান, যাকে পরে ‘ডিপ থ্রোট’ নামে উল্লেখ করা হয় রিপোর্টে৷
নিক্সন বনাম প্রেস
ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত রিপোর্টগুলো মোটেই ভালোভাবে নেয়নি নিক্সন প্রশাসন৷ তাঁর মুখপাত্ররা পত্রিকাটি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে অন্যায় যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করে৷ প্রশাসনের অব্যাহত চাপের পরও পত্রিকাটি তাদের অবস্থানে অটল ছিল৷
কুখ্যাত টেপগুলো
১৯৭১-এর শুরু থেকে নিক্সন তার টেলিফোন আলাপ, ওভাল অফিসসহ হোয়াইট হাউস ও ক্যাম্প ডেভিডের সভাগুলোর কথোপকথন রেকর্ড করতে শুরু করেন৷ এই রীতিটি অবশ্য শুরু হয় চল্লিশের দশকে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের সময়৷ ১৯৭৩ সালে এসব রেকর্ডিং ফাঁস হয়ে গেলে ওয়াটারগেট মামলায় তা নতুন মাত্রা যোগ করে৷
অব্যাহতিই হলো কাল
১৯৭৩ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল এলিয়ট রিচার্ডসন (ডানে) ওয়াটারগেট মামলায় তদন্তকারী প্রসিকিউটর হিসেবে আর্চিবাল্ড কক্সকে নিয়োগ দেন৷ কক্স নিক্সনের কাছে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি টেপ চান৷ নিক্সন ক্ষেপে গিয়ে তা দিতে অস্বীকার করেন এবং ২০ অক্টোবর তাঁকে চাকরিচ্যুত করেন৷ এই ঘটনায় নিক্সনের প্রতি সবার সন্দেহ বাড়ে এবং তাঁকে ইমপিচ করার দাবি জোরালো হয়৷
রোজ মেরি’র কাণ্ড
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবশেষে টেপগুলো হস্তান্তর করেন নিক্সন৷ কিন্তু একটি রেকর্ডিংয়ের ১৮ মিনিট খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা৷ সেক্রেটারি রোজ মেরি উডস দাবি করেন, ট্রান্সক্রাইব করার সময় দুর্ঘটনাবশত ঐ অংশটুকু মুছে গেছে৷ তাঁর এই বিশেষ অবস্থান নেয়ার ঘটনাটিকে বলা হয় ‘রোজ মেরি স্ট্রেচ’৷
নিক্সনের প্রেসিডেন্সির অবসান
নিক্সনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে৷ পুরো টেপ হস্তান্তর করতে না চেয়ে তিনি ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা তৈরি করেছিলেন কিনা সেটাই ছিল প্রশ্ন৷ ইমপিচমেন্ট এড়াতে আগস্টে নিজেই পদত্যাগ করেন নিক্সন৷ তবে যখন তিনি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পেছনে ফেলে ডিসি ছাড়ছিলেন, তখন তাঁকে খুব একটা অনুতপ্ত মনে হয়নি৷
প্রতিবেদন: ডয়েচে ভেলে 
 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ