২৩ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ২৪শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১১জুন – ১৭জুন ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 24th issue: Berlin, Sunday 11 jun – 17 Jun 2017

নারীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তার অভিনব উদ্যোগ

মেয়েদের জন্য সেরা দেশ তালিকার শীর্ষে সুইডেন

প্রতিবেদকঃ ডয়েচে ভেলে তারিখঃ 2017-06-15   সময়ঃ 17:33:18 পাঠক সংখ্যাঃ 141

ব্যবসা-বাণিজ্যের জগতে নারীদের পা রাখা বা সম্প্রসারণ করা আজও অনেক ক্ষেত্রে সহজ কাজ নয়৷ ভারতের এক নারী উদ্যোক্তা এক নেটাওয়ার্কের মাধ্যমে বাকিদের উৎসাহ দিতে অভিনব এক কাজ শুরু করেছেন৷
সুচরিতা এশ্বর ব্যাঙ্গালোর শহরে এক ব্যবসায়ীর কাছে এসেছেন৷ তিনি জানতে চান, মসলাপাতি কীভাবে প্রস্তুত করা হয়, মোড়ক কীভাবে গ্রাহকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা হয় – এই সব৷ সুচরিতার সাহায্যে গায়েত্রী রাও তাঁর তৈরি মশলা গোটা দেশে বিপণন করতে চান৷ সুচরিতা বলেন, ‘‘গায়েত্রী স্টার্টআপ উদ্যোগ শুরু করেছেন৷ এঁরাও আমাদের কাছে আসেন৷ নতুন আইডিয়া বলে আমাদেরও খুব উৎসাহ রয়েছে৷ একেবারে শুরুর স্তরে থাকার ফলে আমরাও যাত্রাপথের শুরু থেকে তাদের সঙ্গে থাকতে পারি৷'' 
সুচরিতা এশ্বরেরও প্রথম দিকে একই রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে, যদিও তিনি অনেক আগেই পেশাগত জীবন বেছে নিয়েছিলেন৷ প্রায় ১৬ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদের ফলে তিনি আচমকা সংকটে পড়েছিলেন৷ একা দুই মেয়েকে মানুষ করতে তাঁর অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল৷ সুচরিতা বলেন, ‘‘এই সব দেখে-শুনে বুঝতে পারলাম যে, মেয়েদের এভাবে স্বাধীনচেতা হিসেবে বড় করা খুব গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে৷ এখানকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে মেয়েদের যেভাবে মূলত গৃহবধু ও মা হিসেবে দেখা হয়, সেই প্রভাব থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে৷''
বছরখানেক আগে সুচরিতা যখন শিল্পপতিদের এক নেটওয়ার্কের পাশাপাশি নিজস্ব এক কোম্পানি শুরু করলেন, তখন তাঁর অনেক বন্ধুবান্ধব খুব অবাক হয়েছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘নারীদের বিরুদ্ধে এই হিংসা, হামলা, শ্লীলতাহানি – বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের এসবের শিকার হতে হয়৷ তাঁরা স্বাধীন জীবন বেছে নিয়েছেন৷ অন্যদিকে ছেলেদের মানুষ করার সময় শেখানো হয়, মেয়েদের অবস্থান তাঁদের নীচে৷ মেয়েদের চিরায়ত ভূমিকায় ফিরিয়ে আনতে তাঁদের উপর হামলা চালানো দোষের কিছু নয়৷ এ কারণে আমরা সমাজে আরও বেশি সংঘাত দেখতে পাচ্ছি৷''
সুচরিতা তাঁর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে নারীদের ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে সহায়তা করছেন, নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তাঁদের সাহায্য করছেন৷ তরুণী উদ্যোক্তারাও এমন মিটিংয়ে নিজেদের পণ্য তুলে ধরেন৷ তারপর তাঁদের সুচরিতা ও অন্যান্যদের নানা কঠিন প্রশ্নের জবাব দিতে হয়৷ তারপর নেটওয়ার্কের সাহায্যে তাঁরা পরবর্তী পর্যায়ে পা রাখার সুযোগ পান৷
সুচরিতা এশ্বর বলেন, ‘‘অর্থের নাগাল পাওয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ তারপর বাজারের নাগাল পাওয়া৷ তাই তাঁরা প্রথমে কাজ শুরু করে পরে যখন সম্প্রসারণ করতে চান, তখন তাঁদের বিপণন, বাড়তি গ্রাহক, নতুন বাজার ধরা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হয়৷ তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তির ব্যবহার৷''
এই নেটওয়ার্ক নারীদের সাহায্য করে, উৎসাহ দেয় এবং তাঁদের নিয়মিত একত্র করে৷ যেমন এক সন্ধ্যায় ব্যাঙ্গালোরের এক পানশালায় মিটিং বসেছে৷ তাঁদেরই একজন বললেন, ‘‘আমরা এক জনসংযোগ সংস্থা, তাই আমরা এমন কোম্পানি খুঁজছি, যারা সংবাদমাধ্যমে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে৷ এমন এক মিটিংয়ের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি দারুণ স্টার্টআপ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, যাদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে৷''
তবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়৷ এক উদ্যোক্তা বললেন, ‘‘উঁচু পদে পুরুষরাই রয়েছে৷ তাই তাঁদের কাছে গিয়ে ব্যবসা শুরু করার কথা বললে তারা বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখে না, ভাবে– নারীরা আবার আমাদের কাজ কী বুঝবে!''
অনেকের এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ যদিও তাঁরা ভারতের বর্ধিষ্ণু, খোলা মনের মধ্যবিত্ত শ্রেণির নারী৷ সুচরিতা বিলক্ষণ জানেন, নারী উদ্যোক্তারা পৃথিবীটাকে আরেকটু ভালো করে তুলছে৷ তিনি ও তাঁর নেটওয়ার্ক একজন নারীকেও সাহায্য করতে পারলে, নিজেদের কাজকে সার্থক মনে করেন৷ 
 
মেয়েদের জন্য সেরা দেশ
তালিকার শীর্ষে সুইডেন
তাতে সম্ভবত কেউই বিশেষ আশ্চর্য হবেন না৷ মেয়েদের সুযোগ-সম্ভাবনার তালিকা যেন শুরুই হচ্ছে ইউরোপের উত্তরে সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে - সেখান থেকে নেমে আসছে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক হয়ে স্লোভেনিয়ায়...
 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ