২৮ জুলাই ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ২৫শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১৮জুন – ২৪জুন ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 25th issue: Berlin, Sunday 18 jun – 24 Jun 2017

সাঁতারের পোশাকে যত ফ্যাশন

টাঙ্কিনি থেকে বুরকিনি

প্রতিবেদকঃ ডয়েচে ভেলে তারিখঃ 2017-06-22   সময়ঃ 17:37:36 পাঠক সংখ্যাঃ 66

গরমের মৌসুমের প্রারম্ভেই সাঁতারের নতুন নতুন সাজে সাজে ইউরোপ - কখনো এক কাপড়, কখনো দুটো, কখনো টাঙ্কিনি থেকে বুরকিনি–আরো কত কত অভিনব পোশাক৷ গোসলের পোশাকে নতুনত্ব সময়ে সময়ে দিয়েছে নতুন মাত্রা৷
 
সাঁতারের পোশাকের ধারা
অষ্টাদশ শতাব্দীতে নারী ও পুরুষদের জন্য গোসলের পৃথক পোশাক প্রথম দেখা যায়৷ পাতলা উল এবং কটনের কাপড়ে তৈরি পোশাক পরে মানুষ গোসল করতো৷ সেই পোশাকের পানি শোষণের ক্ষমতা ছিল অনেক৷ ওই সময় নারী ও পুরুষের পোশাকে যেমন ভিন্নতা ছিল, তেমনি গোসলের জন্য জায়গাও আলাদা ছিল৷ 
অগ্রগতি
বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে পর্যটনের প্রসার শুরু হলে সাগরে সাঁতার ট্রিপ শুরু হয়৷ মৌসুমের শুরুতে সাগর থাকতো উন্মুক্ত৷ এ সময় সাঁতারের পোশাক কিছুটা টানটান হতে শুরু করে৷ ইলাস্টিকের পাতলা কাপড়ের প্রচলন শুরু হয়৷ রোদ থেকে বাঁচতে এখনকার হ্যাটের মতো ক্যাপের ব্যবহার শুরু হয়৷
আধুনিকতা
বিংশ শতাব্দীতে এসে শেষ পর্যন্ত আধুনিকতায় প্রবেশ করে সাঁতারের পোশাক৷ ছোট বেল্ট, সোনালি বোতাম এই ধারার পোশাকে নারীসুলভ ভাব নিয়ে আসে৷ এ সময় সাঁতারের পোশাক ছোট হয়ে যায়৷ তখন প্লাস সাইজের পোশাক পাওয়া যেত না৷
বিকিনির আত্মপ্রকাশ
কেবল চারটা ছোট ত্রিভুজে নতুন এক পোশাক আসে, যা বিস্ময়ের সাথে প্রত্যক্ষ করে বিশ্ব৷ এর নাম বিকিনি৷ ১৯৪৬ সালের ৫ জুলাই নৃত্যশিল্পী মিশেলিন বার্নারডিনি এই পোশাকে প্যারিসিয়ান পুলে ক্যামেরার সামনে আসেন৷ লুই রেয়ার্ড এর ডিজাইন করেন৷ তিনিও হয়ত জানতেন না যে, এটা নারীদের গোসলের পোশাকের স্টাইল চিরদিনের জন্য বদলে দেবে৷
একদিনে বদলে গেল দুনিয়া
অলিম্পিক সাঁতারু এস্থার উইলিয়ামস একটা ওয়াটার শো-তে অংশ নিতে গিয়ে হলিউডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেননি৷ এটা তাঁকে আয়ের একটা পথ করে দেয়৷ ওই সময় তিনি ‘নেপচুন’স ডটার’ নামে একটা সিনেমায় অভিনয় করেন, যা ১৯৪৯ সালে মুক্তি পায়৷ এতে তিনি আকর্ষণীয় গোসল-সৌন্দর্য্যের জন্য তারকাখ্যাতি পান৷ তা পরে তাকে হলিউডের অন্যতম ধনী নারীতে পরিণত করে৷
সাঁতারের পোশাকে সুন্দরী প্রতিযোগিতা
১৯৫০-এর দশকে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বেশ মডেস্ট একটা ভাব ছিল৷ হাই হিল জুতা পরা এই প্রতিযোগীদের সাঁতারের পোশাকে আসতে উৎসাহ দেয়া হতো৷ মিস জার্মানি পেট্রা শুরমান (বাম থেকে সপ্তম) ১৯৫৬ সালে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন৷
জ্যামিতিক প্রভাব
পপ আর্ট দৃশ্যপটে আসার পর জ্যামিতিক ধরণ ফ্যাশন জগতে প্রবেশ করতে শুরু করে৷ এটা ১৯৬০’র দশকের অন্যতম প্রধান স্টাইলে পরিণত হয়৷
অগ্রাধিকারে মাথা
 
১৯৬০’র দশকে নারীদের সাঁতারের পোশাকে অগ্রাধিকারে থাকতো মাথা-ঢাকা৷ যেমনটা করেছিলেন ইটালিয়ান অভিনেত্রী জিনা লোলোব্রিজিডা৷
সাঁতার পোশাক নিয়ে টিভি সিরিজ
আমেরিকান টিভি সিরিজ ‘বে-ওয়াচ’ লেখা হয়েছে সাঁতার পোশাকের ইতিহাস নিয়ে৷ এই সিরিজের তরুণীদের পরা পোশাক ৯০ দশকের প্রথমদিকে রাজত্ব করেছে৷
দ্য বন্ড গার্লস
১৯৬২ সালে যখন উরসুলা অ্যান্ড্রেস সাগর থেকে ওঠেন, তখন তাঁর গায়ে ছিল দুটো আঁটোসাটো পোশাক৷ ওই সময় সিনেমামুখী ইহুদিরা একে বর্জন করেছিল৷ ৪০ বছর পর হালে বেরি একই পোশাক পরে পানি থেকে বের হয়ে আসেন৷
আদর্শ সীমারেখার সন্ধানে
সাঁতারের পোশাক ডিজাইনারদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, কত বেশি উপকরণ দিলে সেটা অতিরিক্ত হয়ে যাবে? বিকিনি এবং সাঁতার পোশাকের পার্থক্য সুনির্দিষ্ট করে বলাও কঠিন৷ ২০১১ সালে মিয়ামিতে ফ্যাশন সপ্তাহে এই পোশাক উপস্থাপন করা হয়৷
বুরকিনি কেবল মুসলিমদের জন্য নয়
এই ছবিটা অস্ট্রেলিয়ার সৈকত থেকে নেয়া হয়েছে৷ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে অনেক মানুষই গোসলের সময় রোদে পুড়তে চান না৷ সে কারণে মুসলিম এবং ভিন্নধর্মীরা সূর্য রশ্মি থেকে তাদের ত্বক বাঁচিয়ে চলেন৷ অন্যদিকে ফরাসি রিভিয়েরা এবং জার্মানির অনেক জায়গাতেও বুরকিনির অনুমোদন নেই৷ বুরকিনিতে নিষেধাজ্ঞা খুবই বিতর্কিত৷



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ