১৬ অক্টোবর ২০১৮ ইং

তাজউদ্দীন আহমদের ৯২তম জন্মদিন আজ ২৩ জুলাই।

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2017-07-23   সময়ঃ 13:12:44 পাঠক সংখ্যাঃ 229

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ৯২তম জন্মদিন আজ ২৩ জুলাই। ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুরের অন্তর্গত কাপাসিয়া দরদিয়া গ্রামে তাজউদ্দীন আহমদের জন্ম।
জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুর সহযোগী ও সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য, দক্ষ এবং প্রতিভাবান, পরীক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
 ১৯৭১ সালে ৪৬ বছর বয়সে তাজউদ্দীন আহমদ যুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। তার অনন্যসাধারণ নেতৃত্বে নয় মাসের যুদ্ধে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি বিজয় অর্জন করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, 'স্বাধীন বাংলার প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে শুধু তাজউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বে ছিলেন বলেই এত অল্প সময়ে বাংলাদেশ জয়লাভ করেছিল।'
পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাজউদ্দীনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর তাজউদ্দীন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। 
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সবচেয়ে কঠিনতম সময়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্ব তাজউদ্দীন আহমদের ওপর অর্পিত হয়।
স্বাধীনতাবিরোধী খন্দকার মোশতাক এবং বঙ্গবন্ধুর পরে ক্ষমতা লাভে আগ্রহীরা বিভিন্নভাবে তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কান ভারী করতে থাকেন। ষড়যন্ত্রকারী মোশতাক তাজউদ্দীনবিরোধী ষড়যন্ত্রে সহযোগিতার জন্য প্রভাবশালী যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণির সহযোগিতা পান। অবশেষে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হলো। '৭৪-এর ২৬ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জারের বাংলাদেশ সফরের প্রাক্কালে তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। তাজউদ্দীনের পদত্যাগের পর এক বছর সময়ও লাগেনি। পদত্যাগের মাত্র নয় মাস ২০ দিনের মাথায় '৭৫-এর ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করতে সক্ষম হলো।
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট  সপরিবারে হত্যার শিকার হন বঙ্গবন্ধু। এরপর প্রথম গৃহবন্দী ও পরে ২৩ আগস্ট সামরিক আইনের অধীনে তাজউদ্দীন আহমদসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে রাখা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। ৩ নভেম্বরে কারাগারের ভিতরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মো. মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে জেলহত্যা নামে পরিচিত হয়ে আছে।
১২ জানুয়ারি ১৯৭২ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী হলেন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বা দলের মধ্য থেকে কাউকে না করে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে এনে রাষ্ট্রপতি করা হলো। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে খুবই সফলভাবে স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনাকারী, অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে করা হলো অর্থমন্ত্রী। সস্ত্রীক শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধুর কাছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব অর্পণ করার পর তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'আমি আজ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ'।
বাঙালি জাতির চরম সংকটময় মুহূর্তে তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে নয় মাসের স্বাধীনতাযুদ্ধ খুবই প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন।
কলুমনিস্ট  আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী যথার্থই লিখেছেন : 'সব রাষ্ট্রবিপ্লবেই আসল নায়কের পেছনে একজন নেপথ্য নায়ক থাকেন। আমার বলতে দ্বিধা নেই বাংলাদেশের বিপ্লবে এই নেপথ্য নায়কের সম্মানিত আসন পাওয়ার অধিকার ও দাবি অবশ্যই তাজউদ্দীনের। শেখ মুজিব এই বিপ্লবের নেতা আর এই বিপ্লবের মুখপাত্র ও নেপথ্য নায়ক তাজউদ্দীন। লেনিন বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছেন পেছন থেকে লাল ফৌজ গড়েছেন ট্রটস্কি। কামাল নবীন তুরস্ক গড়েছেন তার শক্তি ও সাহসের উৎস তৈরি করেছেন আনোয়ার পাশা। কেনিয়ার নেতা কেনিয়াত্তার নামের পাশাপাশি অনিবার্যভাবে আরো একটি নাম আসে টম মবায়া। পরবর্তীকালের ইতিহাস অবশ্য ট্রটস্কি, আনোয়ার পাশা, মবায়া নির্বাসিত ও পরিত্যক্ত নেতা। তাজউদ্দীনের জন্য ইতিহাস ভবিষ্যতে কী ভূমিকা রেখেছে জানি না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের দশ মাসে তাজউদ্দীন প্রমাণ করেছেন যে, কেবল নেপথ্য নায়কের ভূমিকা তার নয়, নেতার অনুপস্থিতিতে বিপ্লবের সারথি সাজবার যোগ্যতা তার রয়েছে।' (দৈনিক বাংলা, ৬.২.১৯৭৩)
বাঙালি জাতির দুর্দিনে সফল নেতৃত্বদানকারী মহান নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট  সপরিবারে হত্যার শিকার হন বঙ্গবন্ধু। এরপর প্রথম গৃহবন্দী ও পরে ২৩ আগস্ট সামরিক আইনের অধীনে তাজউদ্দীন আহমদসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে রাখা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। ৩ নভেম্বরে কারাগারের ভিতরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মো. মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে জেলহত্যা নামে পরিচিত হয়ে আছে।

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ