২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৩০শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২৩জুল – ২৯জুল ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 30th issue: Berlin,Sunday 23Jul – 29Jul 2017

সজীব ওয়াজেদ জয় ইমানুয়েল ম্যাক্রো হতে পারতো না কি ?

শুভ জন্মদিন

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2017-07-27   সময়ঃ 04:14:58 পাঠক সংখ্যাঃ 66

আজ সজীব ওয়াজেদ জয় এর ৪৬ তম জন্মদিন, এই উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাই। তবে কিছু আলোচনা না করলেই নয়। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র হিসেবে জয় এর কাছে স্বাভাবিক ভাবেই বাঙালি জাতি আশা করে অনেক কিছুই। তবে তিনি একজন তথ্যপ্রযুক্তির ছাত্র হিসেবে একটা বিশেষ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতির যে প্রচেষ্টা একক ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তা বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভাবে ছড়িয়ে দেবার প্রচেষ্টা হলেও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের আলো ছড়িয়ে পড়তে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনা পৃথিবীতে প্রায় প্রতিটা দেশই সম্মিলিত ভাবে ...চলছে, একক প্রশংসার দাবিদার হিসেবে ইউরোপ বা আমেরিকায় কারো নাম শোনা যায়না, এমনকি ভারতেও কারো একক প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি করতে হলে শিক্ষা খাতে যে যৎসামান্য অর্থ বরাদ্দ করা হয় তা কমপক্ষে দ্বিগুন বা তিনগুন করতে হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মোট ৪ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটের ৫০ হাজার কোটি টাকা শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন, যা মোট বাজেট এর মাত্র ১০ শতাংশ। এখন প্রশ্ন হলো, সজীব ওয়াজেদ জয় সাহেব এই ৫০ হাজার কোটি টাকা শিক্ষাখাতে বরাদ্দের কত শতাংশ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারবেন? আর তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ছাড়া কি ভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি করা যাবে এব্যাপারে কোনো সমীক্ষা আমার চোখে পড়েনি।
তাবৎ পৃথিবীতেই মুঠোফোনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হচ্ছে, নেটওয়ার্ক এর উন্নতি ও তথ্যপ্রযুক্তির সার্বিক অগ্রগতি কোনো দেশেই একক প্রচেষ্টায় হয়না। অর্থাৎ আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি সারা বিশ্বের উন্নতির সাথে সম্পৃক্ত, এতে সজীব ওয়াজেদ জয় এর একক কৃত্তিত্ব কতটুকু আছে সেটি ই আলোচ্ছ বিষয় হতে পারে। তিনি প্রধান মন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীকে তথ্যপ্রযুক্তির প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের উপদেশ দিয়ে থাকেন, আর সেই সুবাদেই বাংলাদেশকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সেবা দেবার প্রচেষ্টায় ২০১১ সনে দোয়েল ল্যাপটপ প্রতিটি ছাত্রদেরকে মাত্র ১০ হাজার টাকায় দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রজেক্ট টি উদ্বোধন করে বাঙালিকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। এখন শুনছি দোয়েল প্রজেক্ট আশানুরূপ ভাবে এগিয়ে যেতে পারেনি, কেউ দোয়েল ল্যাপটপ কিনতে চায় না। তবে প্রতিটি কমিউনিটি সেন্টারে নাকি লক্ষ্য লক্ষ্য ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে, সেই কোটি কোটি টাকা সরকারি ভর্তুকি দেওয়া দোয়েল প্রজেক্ট ও নাকি এখন আর কার্যকর নয়। এব্যাপারে আরো আলোচনা করা যেতে পারে। আমার বিশ্বাস তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ হোক বা দুদিন পরে হোক হবে। সকলের হাতে স্মার্ট ফোন হবে সেটা ব্যবসার কারণে হবে, সেখানে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি একক ভাবে করতে হবে না।
তবে আজকে সজীব ওয়াজেদ জয় এর জন্মদিনে তাঁকে একটা অসীম সাহসিকতার পদক্ষেপ নেবার জন্যে অনুরোধ করবো। সেটা হলো আপনার তরুণ নেতৃত্বে মূল ম্যাসেজ যেন থাকে, বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ সেবার নিশ্চয়তা, বাসস্থানের নিশ্চয়তা ও শিক্ষার নিশ্চয়তা দেবার লক্ষে জাতীয় বিবেক বা নৈতিক চেতনা বোধ ঢুকিয়ে দিতে পারবেন কি? একজন মানুষ নেতা তখনি হয় যখন তার ব্যক্তি স্বার্থের উর্দ্ধে উঠে এসে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে পারে। শুধু তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি করে জাতির উন্নতি করা সম্ভব নয়।

তাই আজ এই জন্মদিনে আক্ষেপ করে বলতে হয় তার মেধাকে কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুর মতো প্রজ্জ্বা অর্জন করে এই হতভাগা বাংলিকে আলোর সন্ধান দিতে কি তিনি পারতেন না? অথবা সজীব ওয়াজেদ জয় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এর মতো হতে পারতো না কি ? শুভ জন্মদিন, সৃজনশীল চিন্তার উন্মেষ ঘটুক ও দীর্ঘজীবী হউন !

See more

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ