২৪ অক্টোবর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৩৯শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২৪সেপ্টে – ৩০সেপ্টে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 39th issue: Berlin,Sunday 24Sep - 30Sep 2017

হানিফা ডীনের 'দ্য ক্রিসেন্ট এন্ড দ্য পেনঃ দ্য স্ট্রেঞ্জ জার্নি অব তসলিমা নাসরিন' - ৩

পুস্তক আলোচনা অনুবাদ সাহিত্য

প্রতিবেদকঃ ফরিদ আহমেদ তারিখঃ 2017-09-24   সময়ঃ 04:45:09 পাঠক সংখ্যাঃ 75

ক্যারোলা হানসন ছাড়া অন্য যে আরেকজন লেখকের নাম হানিফা ডীন পেয়েছিলেন সুইডিশ রাইটার্স ইউনিয়ন থেকে, তাঁর নাম হচ্ছে ইউজিন শোলজিন। এই ভদ্রলোক পেনের দীর্ঘদিনের কর্মী, একজন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক। নর্ডিক দেশগুলোতে তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তিনি নরওয়েজিয়ান বংশোদ্ভূত, যদিও বসবাস করেন সুইডেনে। এঁর সঙ্গে সাক্ষাত করেন হানিফা ডীন। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তসলিমা নাসরিনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা।

“ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ে আমরা সবকিছুর জন্য কম্যুনিস্টদের দায়ী করতাম। তারা অশুভ শক্তি, আমাদের জন্য হুমকিস্বরূপ লাল ড্রাগন। যদিও বুদ্ধিমান ব্যক্তিমাত্রই জানতো যে এগুলো হচ্ছে প্রোপাগান্ডা। এই লাল ড্রাগনের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল লড়াই করেছে ইন্টারন্যাশনাল পেন। ১৯৯০ সালের ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবসানের মাধ্যমে এই লাল ড্রাগন নিহত হয় চিরতরে। লাল ড্রাগন বিদায় নিলেও পূর্বপ্রান্তে আরেক ড্রাগনের অস্তিত্ব আবিষ্কার করা হয়। এর নাম হচ্ছে ইসলামিক ফান্ডামেন্টালিজম। পেনের ড্রাগন-শিকারি নতুন এই ড্রাগন হত্যার মিশনে নেমে পড়ে।” তসলিমাকে নিয়ে কিছু বলার আগে ড্রাগন শিকারের গল্প দিয়ে শুরু করেন ইউজিন।

“তসলিমা কেসটা সুইডিশ পেনের জন্য খুব জটিল একটা কেস ছিলো। আমরা তসলিমাকে দেখেছিলাম পশ্চিমা বিশ্বের চোখ দিয়ে। যদিও সেই সময়ে বিষয়টা আমরা বুঝতে পারিনি।”

“আপনারা কি একজন ফিমেইল রুশদি আশা করেছিলেন?” হানিফা জিজ্ঞেস করেন তাঁকে।

“খানিকটা সেরকমই। গ্যাবি এই ফাঁদে পড়ে যায়। তার ধারণা ছিলো সে একজন ফিমেইল রুশদি পেয়েছে। শুরুতে সুইডেনের প্রত্যেকটা মানুষ তসলিমার কল্যাণ চেয়েছে। তাঁকে আতিথেয়তা দিয়েছে, তাঁর দেখভাল করেছে। কিন্তু, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশ পেয়ে যায় যে তসলিমা মোটেও কোনো বুদ্ধিজীবী নন।”

ইউজিনের হতাশাটা হানিফার বুঝতে অসুবিধা হয় না। এরা আশা করেছিলো তসলিমা পাশ্চাত্যের সাহিত্যের বিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখবে। কিন্তু, এরা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে তসলিমা একটা ভিন্ন ভাষায় লেখালেখি করেন। তিনি বাংলায় কথা বলেন, বাংলায় লেখেন, বাংলায় ভাবেন।

“তাঁকে কেন জেন অস্টিন, ডিকেন্স, গুন্টার গ্রাস বা টনি মরিসনের সাহিত্যকর্ম জানতে হবে? পাশ্চাত্যের মানুষেরা কি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সম্পর্কে জানে?”

“তসলিমার এমন ব্যাপক সাহিত্য এবং শিল্পকলার জ্ঞান আমরা আশা করি নাই। তিনি মেডিকেলের ছাত্রী ছিলেন, এটা আমি জানি। কিন্তু, সাহিত্যের একটা বিশ্বজনীন স্ট্যান্ডার্ড আছে। একজন লেখককে অন্তত সেই মানটা বজায় রাখতে হয়। সমস্যা হচ্ছে একজন লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাহিত্য কী, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণাই ছিলো না।”

হানিফাকে ইউজিন তসলিমার বিষয়ে মজাদার একটা গল্প বলেন।

“আমি একবার তসলিমার সাথে নরওয়েতে ভ্রমণ করছিলাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে ঘোষণা করলো, ইউজিন জানো, চব্বিশটারও বেশি বই লিখেছি আমি।” নিজের বই সংখ্যা ইউজিনকে শুনিয়েই শুধু ক্ষান্ত হন না তসলিমা। ইউজিন কয়টা বই লিখেছে সেটাও তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন তিনি।

“ছয়টা বই প্রকাশিত হয়েছে আমার। ১৯৭০ সাল থেকে লিখছি আমি।”

ইউজিন মাত্র ছয়টা বই লিখেছে একথা বলার সাথে সাথেই তিনি টের পেলেন তসলিমার শ্রদ্ধা তিনি হারিয়েছেন। বইয়ের মানের চেয়ে সংখ্যাটাই তাঁর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ছয় বইয়ের মালিক নিশ্চয় যথাযথ সম্মান পাবার যোগ্য ব্যক্তি নন।

তসলিমা তাঁর চারপাশের সবাইকে বা সবকিছুকেই তাঁর জন্য হুমকিস্বরূপ বলে বিবেচনা করতো। একটা ঘটনা ইউজিনকে দীর্ঘদিনই বিভ্রান্ত করে রেখেছে। এর সমাধান তিনি খুঁজে পাননি। ইউজিনের ভাই ডাক্তার। স্টেট হসপিটালে কাজ করেন তিনি। একদিন তিনি তসলিমাকে স্টেট হসপিটাল ঘুরিয়ে দেখানোর প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে তসলিমা প্রচণ্ড রকমের নার্ভাস হয়ে যান। হসপিটালে যেতে আগ্রহী হন না তসলিমা। এই ঘটনায় তসলিমার মেডিক্যাল শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন জেগে যায় ইউজিনের মনে। অপরিচিত এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কি ভয় জাগিয়েছিলো তসলিমার মনে? নাকি তাঁর বাংলাদেশি ডিগ্রি নিয়ে তিনি হীনমন্যতায় ভুগেছেন?

ইউজিনের এই ধারণার সাথে তসলিমার আরো কিছু ঘটনারও মিল পাওয়া যায়। এরকম একটা ঘটনার উল্লেখ করছি। সুইডেনের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য রেইপ ক্রাইসিস সেন্টার খোলা হয়েছে সবে। তসলিমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেখানে। নারীবাদী হিসাবে তাঁর ব্যাপক পরিচিতির কারণে সবাই ভেবেছিলো এটা তসলিমার জন্য অত্যন্ত আগ্রহের বিষয় হবে এবং এখানকার স্টাফরাও তাঁর কাছ থেকে নতুন কিছু শিখতে পারবে। অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরোটা করা হবে বলে প্রস্তাব করা হয় তাঁর কাছে। তসলিমা এখানে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

তসলিমার মেডিক্যাল ক্যারিয়ারের প্রথম তিন বছর, ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৯, তিনি ফ্যামিলি প্লানিং ডাক্তার হিসাবে সরকারী চাকুরিতে কর্মরত ছিলেন। তসলিমার দ্বিতীয় স্বামী নাইমুল ইসলাম খান হানিফা ডীনকে এ বিষয়ে এভাবে বলেছেনঃ

“আমি যতজন সরকারী চাকরিজীবী দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে ফাঁকিবাজ ছিলো নাসরিন। সে তার অফিসে নিয়মিত যেতো না। গ্রামের দিকে তার পোস্টিং ছিলো। মাঝে সাঝে সে সেখানে গিয়ে খাতায় শুধু সই করেই আবার চলে আসতো। আমি তার সেক্রেটারি হিসাবে কাজ করতাম। এ কারণে আমার একবার তার ফ্যামিলি প্লানিং ডিপার্টমেন্টের ফাইল দেখার সুযোগ হয়েছিলো। কর্মস্থলে না থাকার এবং খামখেয়ালিপনার অসংখ্য অভিযোগ সেখানে ছিলো। এজন্য এগারো মাস তাঁর বেতন বন্ধ ছিলো।”

ডাক্তারি পেশার চেয়ে লেখালেখিটাকে পেশা হিসাবে নিতে চেয়েছিলেন তসলিমা। নাইমুল ইসলাম খানের মতে, “তসলিমা এই পেশাতে ছিলো শুধু একটাই কারণে। কারণ সে তার ডাক্তার সম্বোধনটাকে উপভোগ করতো। এটা বাংলাদেশে একটা স্ট্যাটাস সিম্বল।” তসলিমাকে অপছন্দ করা বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা অবশ্য খুব সচেতনভাবেই তসলিমার নাম লেখার আগে ডাক্তার সম্বোধনটাকে এড়িয়ে চলতো।

শুরুর দিকে তসলিমা তাঁর ডাক্তারি ডিগ্রি বা টাইটেলটাকে উপভোগ করলেও, লেখক হিসাবে সুপরিচিত হয়ে যাবার পরে এই অংশটাকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলা শুরু করেন। শুধু তাই নয়, ১৯৯৩ সালে এই পেশা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

তসলিমাকে আদর সোহাগে বরণ করে নিয়েছিলো সুইডিশরা। তাঁর প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন, আতিথেয়তা দেখানো, কোনো কিছুতেই কমতি ছিলো না তাদের। কিন্তু, অচিরেই তাদের মধ্যে তসলিমার বিষয়ে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হতে থাকে। এর মূল কারণ তসলিমার অহংকারী এবং দাম্ভিক আচরণ। রূঢ় আচরণ এবং অন্যদের ব্যাপারে উদাসীন হিসাবে তাঁর দুর্নাম ছড়িয়ে যায় চারপাশে। তাঁর আচরণে অনেকেই চরমভাবে হতাশ হন। তিনি একজন নির্যাতিত লেখক, মৌলবাদী মুসলিমদের হুমকির মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, এই বিষয় নিয়ে সুইডিশদের ভাবনার কোনো পরিবর্তন আসে না। তাঁর জন্য সব তারা করতে ইচ্ছুক। কিন্তু, তাদের বাড়িতে যাতে তসলিমাকে নিয়ে না যাওয়া হয়, এ ব্যাপারে অনেকেই ইউজিনকে চুপিসারে অনুরোধ করে রেখেছিলেন।

তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক ফর্মাল ডিনার পার্টিতেও উপস্থিত হননি তসলিমা। এই অনুষ্ঠানে বিশজন সুইডিশ নারী লেখক ফুলের মালা নিয়ে তাঁর জন্য অপেক্ষায় ছিলো। তসলিমাও আসেন না, আসে না কোনো বার্তাও তাঁর অনুপস্থিত হবার কারণ হিসাবে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজকরা কিছুদিন পরে তসলিমার সাক্ষাত পান। ওই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান তাঁরা। “আমার যেতে ইচ্ছা করে নাই।” এ’টুকু বলেই শেষ করে দেন তসলিমা। অনুপস্থিত না থাকার জন্য, সবাইকে অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্য সামান্যতম দুঃখপ্রকাশও তিনি করেন না।

তসলিমা তাঁর এ ধরনের রূঢ় আচরণ ইউজিনের মায়ের সাথেও করেছিলেন। ইউজিন তসলিমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর মায়ের সাথে দেখা করার জন্য। ইউজিনের মায়ের বয়স নব্বই বছর। তিনি তাঁর সন্তানের অতিথির জন্য লাঞ্চ তৈরি করেছিলেন। এখানেও উদ্ভট আচরণ করে ইউজিনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেন তসলিমা। তসলিমাকে দেওয়া রুটি বাসি রুটি, সেটা তীক্ষ্ণ ভাষায় জানিয়ে দেন তসলিমা। নব্বই বছরের বৃদ্ধা মহিলার পক্ষে ফ্রেশ রুটি জোগাড় করাটা কঠিন কাজ। তিনি আগের দিনের কেনা রুটিই তসলিমাকে দিয়েছিলেন।

“আমি বাসি রুটি খাই না।” এটা বলে তসলিমা রুটিগুলোকে ফেলে দেন। ইউজিনের জন্য এটা ছিলো প্রচণ্ড রকমের এক আঘাত। তাঁর মায়ের জন্যও। তবে তিনি নীরবে চেপে যান সেটা। পরে তাঁর ছেলে শুধু বলেছিলেন, “এই মেয়ের কোথাও কোনো বড় ধরনের গণ্ডগোল আছে।”

শুধু ইউজিনের বৃদ্ধা মাতাই না, সুইডিশরাও বুঝতে পারছিলো যে তসলিমার কোথাও কোনো গণ্ডগোল আছে। সবারই ধৈর্যের বাধ ভেঙে যাচ্ছিলো। তসলিমার জন্য সুইডেনে সুখে শান্তিতে বসবাস করার সুযোগটা ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসছিলো। শুধু সুইডিশদের জন্যই কঠিন সময় যাচ্ছিলো তা না, এটা তসলিমার জন্যও ছিলো কঠিন সময় এটা। তিনি তখন তাঁর অতীত জীবন নিয়ে হাহাকার করা শুরু করেছেন। যে স্ট্রেস এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন, তাতে করে অতীত নিয়ে এই হাহাকারটা স্বাভাবিক। দূরদেশে, অচেনা লোক, অচেনা ভাষা, অচেনা সংস্কৃতির ঘেরাটোপে আটকে গিয়েছেন তিনি।

ইউজিনের মতে, "সুইডিশরা শুরুতে তসলিমাকে সুইডেনে আনতে চায়নি। এই আনার পিছনের মূল ব্যক্তি হচ্ছেন সুইডিশ পেনের প্রেসিডেন্ট গ্যাবি। গ্যাবি এটা নিয়ে খুব দ্রুত গতিতে কাজ করেছেন। পুরো বিষয়টা কীভাবে ঘটেছে, সেটা আজো এক রহস্য আমার কাছে। তবে, তসলিমা খুব ভালো একটা রাজনৈতিক সময়ে সুইডেনে এসেছেন। সালমান রুশদি যে রাজকীয় অভ্যর্থনা পায়নি, তসলিমা সেটা পেয়েছেন। সরকারী নেতারা ইরানিয়ান মোল্লাদের ভয়ে রুশদির সাথে সাক্ষাত করেননি। কিন্তু, তসলিমা রুশদির মতো অতো বিপদজনক ছিলেন না। ফলে ইউরোপের রাজনীতিবিদরা, রাষ্ট্রের কর্ণধাররা তাঁর সাথে দেখা করেছেন, তাঁকে সম্মাননা দিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর থেকে শুরু করে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ লোক তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।”

‘তসলিমার জন্য আমার দুঃখই হয়।” ইউজিন স্বীকার করেন হানিফার কাছে। “কেউ যদি আসলে বলি হয়ে থাকে, সে আসলে তসলিমাই। সে বলি হয়েছে সবার প্রত্যাশার, পশ্চিমের রাজনৈতিক চালের এবং তাঁর নিজের দর্প এবং দম্ভের।

হানিফা ডীনের 'দ্য ক্রিসেন্ট এন্ড দ্য পেনঃ দ্য স্ট্রেঞ্জ জার্নি অব তসলিমা নাসরিন' - ১
 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ