১২ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৩৯শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২৪সেপ্টে – ৩০সেপ্টে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 39th issue: Berlin,Sunday 24Sep - 30Sep 2017

মনোরমার টুকরো কথা - ১

মুক্তিযুদ্ধ : আমার কথা

প্রতিবেদকঃ মনোরমা বিশ্বাস তারিখঃ 2017-09-26   সময়ঃ 21:47:53 পাঠক সংখ্যাঃ 103

আমার কথা মুক্তিযুদ্ধ থেকেই শুরু করি।আমি তখন খুব ছোট। কত ছোট তা আমার মনে নেই বা কত ছোট বলতে পারবো না। এই টুকু বলতে পারি- আমার মধ্যে তখন সুখ-দুঃখের অনুভূতি জন্ম নেয়নি। একটা ঘটনা থেকে সেটা বুঝতে পারি। যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের হিন্দুদের ঘর বাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, তাদেরকে ভিটা ছাড়া করা হয়।  আমরাও ভারতে আশ্রয় নিই। এখন বুঝি, ঐ সময় সাজানো সংসার, ঘর বাড়ী ছেড়ে আমার বাপ ঠাকুর দার যে কত কষ্ট হয়েছিলো। মহিলা আর শিশুরা না জানি কি নিদারুন কষ্ট ভোগ করেছে।ঐ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে কতজন যে ভবলীলা সাঙ্গ করেছে!

আমাদের পাশের গ্রামে যখন মিলিটারী আসে,ঘর বাড়ী জ্বালিয়ে দেয় তখন আমার কাকা আমাদের সবাইকে নিয়ে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়। পালিয়ে আমরা গড়াই নদীর ঐ পাড়ে রাখসাকান্দি নামক এক গ্রামের বাড়ীতে আশ্রয় নিই। বাবা এবং দাদা হাটে গিয়েছিল।ঐ দিনকি বার, কি মাস কিছুই জানি না, তবে ঐ দিন ছিল হাটবার। আমরা ঐদিন গড়াই নদীতে স্নান করতে যাই। আমি বাচ্চাদের সঙ্গে স্নান করতে ব্যস্ত নদীতে। হঠাৎ দেখি নদীর পাড়েই একটু উপরে আমার মা আর দিদি কান্নাকাটি করছে। আমার বাবা আর ঠাকুরদা তখনো এসে পৌঁছায়নি। আমাদের পাশের গ্রামের শৈলেন ডাক্তারকে রাজাকাররা গলা কেটে মেরে ফেলেছে। মুণ্ডুটা কেটে তার বউ এর কোলে দিয়েছে।ঐ মহিলা আমার মায়ের তরফ থেকে আত্মীয়। আমার মায়েরও ঐ রকম আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

রাজাকাররা আমার বাবাকেও হয়তো ঐ ভাবে মেরে ফেলতে পারে। মায়ের কান্না কাটি দেখে আমার বড়বোনও কাঁদছে।আমি ভিজা কাপড় পরে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছি। কান্না আসছে না, কারণ আমার মধ্যে তখনও এই কষ্টের অনুভূতি জন্ম নেয়নি। আমার খুব অল্প মনে আছে এই স্মৃতিটা। পরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে অনেক বছর ধরে শৈলেন ডাক্তারকে কি ভাবে মারলো -এই গল্প শুনতাম। সেই থেকেই এইটুকু লিখতে পারছি।

শরণার্থী হয়ে ইন্ডিয়া যাওয়ার পথে বেশ কয়েকটা ঘটনা এখনও মনকে নাড়া দেয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটা তুলে ধরছি- আমাদের গ্রামবাসীরা একটা দলে চলেছিল। এই ভাবে বেশ কয়েকটা দল পরস্পর খবর আদান প্রদানের মাধ্যমে চলছিল। রাত হলে অনেকগুলো দল একসঙ্গে খোলা আকাশের নীচে ঘুমাতো। কখনও কখনও কোনো স্কুল ঘরেও ঘুমাতো। কখনও কখনও এই দলগুলো দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হতো। রাতের অন্ধকারে এদের কাছ থেকে শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিতো।

এমনি এক আক্রমণে এক কিশোর ছেলে মারা যায়। মৃত ছেলেটির মামাবাড়ী ছিল আমাদের গ্রামে। ওদের গ্রামটা আমদের গ্রাম থেকে বেশী দূরে নয়। গ্রামের নাম কয়া। ওদের দল রাতে একটা স্কুলে আশ্রয় নেয়। কিছু দুর্বৃত্ত দ্বারা ওরা আক্রান্ত হয়। ঐ ছেলেটা ঘরের বাইরে ছিল। দৌঁড়ে যখন ও ঘরে ঢুকতে যাবে সেই সময় ভিতর থেকে অনেক লোক দরজা চেপে ধরে,ছেলেটার একটা হাত তখনো বাইরে,হাত ভিতরে ঢুকতে পারলো না,প্রচণ্ড চাপে হাতটা কেটে পড়ে যায়। ছেলেটা অনেক চিৎকার করেছিল,কার কথা কে শুনে,এদিকে গুলাগুলি চলছে। একটা গুলি ছেলেটার নাকের নীচে এবং উপরের ঠোঁটের উপর দিয়ে চলে যায়। গুলিতে সে মারা যায়নি,মারা যায় প্রচুর রক্ত ক্ষরণে। আমি ওর মৃত দেহ দেখেছি। ওর মা আমাদের গ্রামের মুরব্বিদের জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিল। এখনো সে কান্না আমার কানে ভাসে। ছেলেটির নাম ছিল বিবেক।

বাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে আমরা যশোর হয়ে ইন্ডিয়া গিয়েছি। একদিন পথের পাশে একটা সদ্যজাত মেয়ে পড়ে থাকতে দেখি। আমরা ছোট বাচ্চারা ঐ বাচ্চার দিকে এগিয়ে যাই, বড়রা ধমক দিয়ে আমাদের সরিয়ে নিয়ে যায়। একজন মহিলা ঐ বাচ্চা কোলে তুলে নেয়। কিছুদুর যাওয়ার পর একদিন বা দুইদিন পর ঐ বাচ্চাটি মারা যায়। মহিলাটি মেয়েটিকে নিয়ে কী করবে বুঝতে পারছিল না। না পারছিল তাকে ফেলে যেতে। না পারছিল নিয়ে যেতে। মৃত শিশু কোলে নিয়ে একজন মা দাঁড়িয়ে আছে।  তার শেষ কৃত্য করার সুযোগ নেই। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। কেউ দাঁড়াতে পারছে না। প্রাণ বাঁচাতে সবাই চলে যাচ্ছে। এক সময় তাকে পথে ফেলে রেখে কাঁদতে কাঁদতে ঐ মাকেও এগিয়ে যেতে হল। তা দেখে আমার মা বলেছিল-‘কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ে মারা গেছে-তা নিয়ে আদিখ্যেতা দেখ’। তখন সারা দেশে মানুষের হত্যাকাণ্ড দেখতে দেখতে এই মৃত্যুটাও গায়ে সয়ে গিয়েছিল। তার জন্য কান্নাকাটি করাটাও আদিখ্যেতা মনে হয়েছিল।

আমরা ইন্ডিয়াতে যেয়ে রানাঘাট নামক এক ক্যাম্পে ছিলাম। ক্যাম্পের জীবন নিঃসন্দেহে মানবেতর ছিল কিন্তু আমি কিছু বুঝতাম না। রেশনে পাওয়া আলু আর বড় বড় পিঁয়াজ দিয়ে মালাই বরফ কিনতাম এইটা মনে আছে। কতদিন ঐ ক্যাম্পে ছিলাম, তা মনে নেই। দেশ স্বাধীন হলো-ট্রেনে করে দেশে এসেছিলাম। ট্রেনে ভীষণ ভীড় ছিল। পাংশা রেল স্টেশনে আমরা নেমেছিলাম। স্টেশনের পাশেই আমার মা কাকি ভাত রান্না করে। আমরা খেতে বসলে প্রচুর ভুভূক্ষু লোক সেই ভাতের দিকে লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়েছিল। একটা হাড় ঝিরঝিরে লোক তার কিশোর ছেলেটার জন্যে কয়টা ভাতের জন্যে আকুতিমিনতি করছে। আমার ঠাকুরদা নিজে খাওয়া বাদ দিয়ে প্লেটটা সেই ছেলের দিকে এগিয়ে দেয়। এই ঘটনাও আমি ভুলতে পারি নাই।

প্রতি বছর বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস এলেই দেখি এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কত নাটক হয় টেলিভিশনে। কিন্তু এই যে বিশাল জনগোষ্ঠী দেশ ছেড়ে মানবেতর জীবন যাপন করল,কত জীবন অকালে কলেরায় ঝরে গেল-এই গুলো নিয়ে কিন্তু কোনো নাটক বা সিনেমা আমি দেখিনি। কেন যে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে উপেক্ষিত হল জানি নে।

যুদ্ধের পর আমার যখন স্কুলে যাওয়ার সময় সেই সময় আমার স্কুলে যাওয়া হয়নি। বাবা স্কুলের টিচার, গ্রামেই স্কুল, তারপরেও কেন আমার স্কুলে যাওয়া হয়নি তা আমি আজও বুঝতে পারিনা। হয়তো দারিদ্র্যতা অন্যতম কারণ ছিল। স্কুলে যাওয়ার মত পোশাক বা বই কেনার সামর্থ্য আমার বাবার মনে হয় তখন ছিল না। সে যে কি রকম দারিদ্র্যতা তা আমার ছেলেরা বা আমার ছোটো ভাই-বোন উপলব্ধিই করতে পারবে না। জমিতে ঠিকমত ফসল হয়না,কৃষি কাজ ছিল নিতান্তই প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। বৃষ্টি হলে খেতে ধান বুনতো, ঠিক মত সার বা সেচের ব্যবস্থা ছিল না। অনেকটা দৈবের উপর নির্ভরশীল। নূতন ধান উঠলে আমাদের সে কিআনন্দ হত! নতুন ধানের ভাত,অন্যরকম স্বাদ। সংসারে প্রচুর লোক, বাবা কাকার একান্নবর্তী পরিবার। ঠাকুরদা, বড় পিসি সবাই একসঙ্গে। আমার এই পিসি বোবা। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই এই পিসি কে দেখছি আমাদের পরিবারে। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মহিলা আমাদের খুব ভালবাসতেন, এখনো বাসেন, কারণ উনি এখনো জীবিত।

এক এক বার আমাদের চার সের চালের ভাত রান্না করতে হত। এত চালের যোগান কোত্থেকে আসে? বাবার যা বেতন তা দিয়ে সংসার চলতো না। আমরা এক বেলা রুটি খেতাম। তখন গমের দাম খুব কম ছিল। আমরা গমের ভাতও খেতাম। এই গুলো ছিল গরীবের খাবার তখন। হয়তো সেই কারনে আমি এখনও রুটির উপর বিরূপ। মনে হয় এটা গরীবের খাবার। এখন আমি সব চেয়ে দামী চালের ভাত খাই।

আমার বাবা সর্বগুণে গুণী একজন মানুষ। আমার মতে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী। এমন কোন বিষয় নেই যে বাবা তা জানে না। সংসারে এমন কোনো কাজ নেই যে বাবা তা জানে না। বাবা ভালো মাছ ধরতে পারতো, মাছ ধরার যন্ত্রপাতি বাবা নিজে তৈরি করতেন। আমাদের বাড়ীতে বাঁশ –বেতের ঝাড় ছিলো। বাঁশ বেত দিয়ে যা যা বানানো যায়, বাবা বানাতো। বড় বড় ধামা, কুলা, খালই, ঝুড়ি সব বাবাই বানাতো, ঘর বা উঠান ঝাট দেওয়ার ঝাঁটাও। গরু বাধার দড়ি পাট দিয়ে তৈরী এখনো বাবাই করে। ঘরের চাল,ঘরের বেড়া-সব সব কাজ বাবা। বাবা ভালো রান্নাও করতে পারে। মা মামা বাড়ী গেলে বাবাই আমাদের রান্না করে খাওয়াতো।

আমরা তখন বেশ বড় হয়ে গেছি, দিদি কলেজে পড়তো, তবুও বাবা আমাদের দিয়ে রান্না করাতো না। এ ছাড়াও বাবা আরেকটা কাজ করতো সেটা হলো প্রচুর বই পড়তো, এখনো পড়ে। কাজের চাপে পড়ার সময় পেতো না। স্কুলে যাওয়ার আগে বাবা মাঠে খেতের কাজ করতো ,মাঠ থেকে ফিরে স্নান করে যখন খেতে বসতো তখন বাবার বাঁ হাতে বই থাকতো । আমাদের তো ডাইনিং টেবিল ছিল না, এখনো গ্রামের বাড়ীতে পিঁড়িতে বসেই ভাত খায়। সেই অবস্থায় বাবা পড়তো। আমি আর দিদি সব সময় বাবার সাথে সাথে থাকতাম।বাবার এই সব কাজের সময়ই আমরা দু’বোন বাবাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতাম, বাবার অসম্ভব ধৈর্য, কখনো বিরক্ত হতে দেখিনি। আমাদের কখনো মারধোর করেনি। প্রতি রাতে বাবাকে গল্প বলার জন্যে বিরক্ত করতাম। কত যে গল্প শুনেছি বাবার কাছ থেকে! ‘বাঙ্গালীর হাসির গল্প’ কতবার যে আমাদের পড়ে পড়ে শুনিয়েছে--তার ইয়ত্তা নেই। শুধু আমরা নই- গ্রামের লোক ও সন্ধ্যার পর আমাদের বাড়ীতে চলে আসতো, তারাও শুনতো। যুদ্ধের পর গ্রামের লোকজনের মধ্যে কত মিল ছিলো। সন্ধ্যার পর এক জায়গায় বসে হুঁকা খেত। এখন কিন্তু গ্রামের মানুষের মধ্যে সেই মিল মহব্বত নেই। নেই সেই সৌহার্দ। গ্রামের মানুষ গুলোকে এত আপন মনে হতো যে সেই মানুষ গুলো একে একে গ্রাম ছেড়ে ইন্ডিয়া চলে গেল--খুব খারাপ লাগতো। এখন গ্রামে খুব ই কম হিন্দু আছে। এখনো সেই সব দিনের কথা মনে হলে মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। বাবা কখনো দেশ ত্যাগের পক্ষপাতি নয়। বড় হওয়ার পর বাবাকে বলতে শুনেছি -‘দরকার হলে আমেরিকা ইউরোপ যাও, ইন্ডিয়া নয়’। মুলতঃ তখন থেকেই আমার মধ্যে আমেরিকা আসার একটা স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। আমি একা একা বিভোর হয়ে কত যে কল্পনা করতাম সেই ছোট বয়স থেকেই।

অনেক উদার একটা পরিবেশে বড় হয়েছি। ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করতাম। দাঁড়িয়া বাঁধা আমার একটা প্রিয় খেলা ছিলো। গ্রামের সব ছেলে মেয়ে মিলে এই খেলা খেলতাম। আর খেলতাম মারবেল। আমার সাথে খুব ছেলে মেয়েই পারতো। 

এদিকে আমি বেশ বড় হয়ে গেছি। কিন্তু নিজে পড়তে পারিনা। বাবা কে বললাম আমি স্কুলে যেতে চাই। বাবা বলল ঠিক আছে। একদিন একটা কাগজে বাবা আমাকে লিখে দিল ক, কা, কু কূ কি কী- আর বলল এই গুলো পারলেই অন্য সব অক্ষরও পারবি। ২-৯ ঘরের নামতা লিখে দিল। ব্যস! আমি কয়েকদিনের মধ্যেই পড়তে পারলাম। বাবা আমাকে একবারে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করে দিল। ঐ ক্লাস থেকেই আমি ঠাকুরমার ঝুলি আর বাঙ্গালীর হাসির গল্প বই দুটো শেষ করি। ছয় মাস পর আমি চতুর্থ শ্রেণীতে উঠে যাই। এই ক্লাসে ছয় মাস পড়ার পর পঞ্চম শ্রেণীতে উঠে যাই এবং ভালো রেজাল্ট করেই। এর পর আর আমাকে পায় কে? প্রত্যেক ক্লাস থেকে প্রথম স্থান অধিকার করি,পঞ্চম শ্রেণী থেকে স্কলারশিপ,ক্লাস এইট থেকে স্কলারশিপ এবং এস এস সি থেকে স্কলারশিপ পেয়ে কলেজে ভর্তি হই।

চলবে...

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ