১২ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৪৬শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১২নভে–১৮নভে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 46th issue: Berlin,Sunday 12Nov-18Nov 2017

কয়লা আর গাড়ি নিয়ে চাপে ‘ক্লাইমেট চ্যান্সেলর' ম্যার্কেল

‘ক্লাইমেট চ্যান্সেলর'

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2017-11-14   সময়ঃ 05:12:20 পাঠক সংখ্যাঃ 72

জার্মানির চ্যান্সেলর ‘ক্লাইমেট চ্যান্সেলর' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন৷ এই পরিচিতি ভবিষ্যতে কতটা যৌক্তিক হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে৷ কেননা, জার্মানি কার্বন নির্গমন রোধের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে৷

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর এক কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়েছেন জার্মান চ্যান্সেল আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ সম্ভাব্য যে জোট সরকার গড়ার পথে তিনি রয়েছেন, তাতে একদিকে রয়েছে পরিবেশবান্ধব দল গ্রিন পার্টি এবং অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দল হিসেবে পরিচিত এফডিপি৷ এই দুই সম্ভাব্য জোটসঙ্গীর মধ্যে অমিল অনেক৷ বিশেষ করে পরিবেশের ইস্যুতে গ্রিন পার্টি যতটা কঠোর উদ্যোগ নেয়ার পক্ষে, এফডিপি ততটা নয়৷ বরং দলটি দেখছে বড় বড় কর্পোরেটদের স্বার্থ৷

এ অবস্থায় কার্বন নির্গমন কমানোর যে লক্ষ্যমাত্রায় জার্মানি অতীতে সম্মত হয়েছিল, তা পূরণ হবে না বলেই মনে হচ্ছে৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ম্যার্কেল জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্ব মঞ্চে বড় বড় বুলি আওড়ালেও জোট সরকার গড়তে গিয়ে সম্ভবত তাঁকে ব্যবসা এবং রাজনীতির স্বার্থে বেশ কিছুটা ছাড় দিতে হবে৷ এমন শঙ্কা থেকেই জার্মানির সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ডি সাইট' ম্যার্কেলের নীতির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির মিল রয়েছে বলে মনে করছে৷ পার্থক্য এই যে, ট্রাম্প সততার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, লিখেছে পত্রিকাটি৷

 

এদিকে শনিবার ম্যার্কেল বলেছেন, জার্মানি এবং অর্থনৈতিকভাবে উন্নত অন্যান্য দেশগুলোর বরফ গলা, উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং আরো বিরূপ প্রাকৃতিক দুর্যোগ কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে৷ সাপ্তাহিক পডকাস্টে এ কথা বলেন তিনি৷ তবে ম্যার্কেল একইসঙ্গে জানিয়েছেন যে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিষয়াদি রক্ষার মানে এই নয় যে, জার্মানির মূল শিল্পখাতের উপর বড় আঘাত হানতে হবে৷ যদি বিভিন্ন শিল্পকারখানা জার্মানি থেকে দুর্বল পরিবেশ আইন আছে এমন সব দেশে চলে যায়, তাহলে তা  বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন রক্ষায় তেমন কোনো ভূমিকা রাখবে না বলে মনে করেন তিনি৷

ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের সম্ভাব্য অন্যতম জোটসঙ্গী  গ্রিন পার্টি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলসেগুলো থেকে কিছুটা সরে আসছে বলে শোনা যাচ্ছে৷ দলটি জোট সরকারে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে পরিবেশ দূষণকারী বিশটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কয়লা এবং জীবাশ্ম জ্বালানীভিত্তিক গাড়ি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷ কিন্তু গত সপ্তাহ সম্ভাব্য জোট সরকারের অন্যান্য দলগুলোর চাপে সময়সীমা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো থেকে সরে এসেছে দলটি৷

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের হার ১৯৯০ সালের তুলনায় চল্লিশ শতাংশ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিল জার্মানি৷ কিন্তু বর্তমান যে অবস্থা তাতে ৩২ শতাংশের বেশি কমাতে পারবে না দেশটি৷ ফলে ২০৩০ সালের ৫৫ শতাংশ এবং ২০৫০ সাল নাগাদ ৯৫ শতাংশ কার্বন নির্গমন রোধের যে সিদ্ধান্ত দেশটি নিয়েছিল, তাও বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

এআই/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ)

ইউরোপের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি বিরোধী প্রতিবাদ

কয়লা ত্যাগ করুন – এখনই !

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লা ব্যবহারের বিরোধীতা জানিয়ে কপ২৩-এর ঠিক একদিন আগে, হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হন৷ বিক্ষোভকারীদের সবাই সেসময় সাদা পোশাক পরে প্রায় ১০ কিলোমিটার হেঁটে হাম্বাখ কয়লা খনি পর্যন্ত যান৷

বিক্ষোভকারীরা খনির কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ কর্মকর্তারা চারপাশ থেকে তাঁদের ঘিরে রাখে৷ স্পিকারে তারা ঘোষণা করে যে, বিক্ষোভকারীরা অন্যের ব্যক্তিগত জায়গায় ঢুকে পড়েছেন৷ আর তাতে নাকি নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা হতে পারে৷

শেষ পর্যন্ত

রবিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচির শেষ দিকে বিক্ষোভকারীদের দু’টি দল মূল দল থেকে তাঁদের নেতাদের নিয়ে ভাগ হয়ে যায়৷ ছবিতে নিশ্চয় দেখতে পাচ্ছেন পুলিশ তাঁদের প্রতিরোধ করতে কীভাবে প্রস্তুত ছিল৷

 

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ