১৬ জুলাই ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৫১শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১৭ডিসে–২৩ডিসে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 51st issue: Berlin,Sunday 17Dec-23Dec 2017

কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু

সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2017-12-18   সময়ঃ 17:58:33 পাঠক সংখ্যাঃ 478

বাংলাদেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামে একটি কুলখানির অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে৷ আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৫০ জন: যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের সবার পরিচয় এখনো জানা যায়নি৷ জানা গেছে শুধুমাত্র সাতজনের নাম, সূত্র ডয়েচে ভেলে

ঢাকা থেকে বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শ্রুতি খান আমাদেরকে বলেন, "চট্রগ্রামের মহিউদ্দীন চৌধুরীর কুলখানিতে প্রান হারানোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১২ জন্যে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন কিছু মানুষের ভুল স্বীদ্ধান্তের কারনে এতগুলো নিরীহ মানুষ জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারলো না। প্রশাসনের দায়িত্বে যারা আছেন তারা এই ধরনের কাজের অনুমতি কিভাবে দিয়ে থাকেন? সাধারন জ্ঞানেই বুঝা যায় একসাথে এতো গুলো লোক (দুই লক্ষ্য) একসাথে করলে আমাদের ছোট্ট ভূ-খন্ডের দেশে যে কোন ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরকারি নেতা প্রশাসন সবাই তেলের মাথায় তেল দিতে গিয়ে কত মানুষ অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনে কোন সামাজিক বা ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য কি কোন নীতিমালা নেই। কোন একটি কাজেও যদি নীতি মালা থাকতো। তাহলে দেশের মানুষ শান্তিতে জীবন চালাতে পারতো। আমি সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই। কেনো শুধু কেও তার অধীকারের প্রশ্ন তুললেই তাকে গুম করা হয়? কেনো মানুষ তাদের জীবনের কথা বললেই তাদের শাস্তি দেয়া হয়? কেনো কোন কিছুতেই নীতি মালা নেই।দেশ ডিজিটাল হচ্ছে কিন্তু জীবনের মান বা নিয়ম কানুন ডিজিটাল হচ্ছেনা। শহীদদের  রক্তে রাঙ্গানো দেশে তাদের ত্যাগ কি কোন দিন সম্মান পাবেনা? কোন দিন কি তাদের দেখে যাওয়া স্বপ্নের দুচোখ দিয়ে আমরা আমাদের দেশকে দেখতে পাবোনা? ঘৃনায় লজ্জা মুখ থুবরে পরি বার বার। যদি এই অনুষ্ঠানের খাবার প্রতিটি মোরে মোরে কেম্প করে, পেকেটের মাধ্যমে খাবার  পৌছিয়ে দিতো। তাহলে এতো লোক একসাথে হতো না। আর রাস্তা ঘাটে কোন যানযট হতো ও হতো না। সব কিছুর মূলে ওরা দেখাতে চেয়েছিলো ওদের আধিপত্য। এখন কি পারবে কেও তাদের সমস্ত অর্থ দিয়ে তাদের বাচিঁয়ে ওদের পরিবারের কাছে পৌছে দিতে? কোনদিন পারবে না, যে দায়িত্ব নিতে পারবেনা সেই ধরনের ঘটনা কেনো ঘটাবেন? আবারও বলছি লোক দেখানোর মতো ঘটনা না ঘটিয়ে মানুষের কর্ম সংস্থানের ব্যাবস্থা করুন। তাতে দেশ ও দেশ উভয়ে সুফল পাবে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আর একবার ভেবে দেখবেন জীবন লোক দেখানোর সার্কাস নয়"।

আমাদের মিডিয়া পার্টনার  ডয়েচে ভেলে'র সংবাদে বলা হয়, সদ্য প্রায়াত চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির ‘মেজবান'-এ এই মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটে৷ নগরীর বিভিন্ন এলাকার ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে এই আয়োজন ছিল৷ মুসলামান ছাড়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্যদের ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই আয়োজন ছিল নগরীর আসকার দিঘি এলাকার এস এস খালেদ রোডের রিমা কমিউনিটি সেন্টারে৷

চট্টগামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার চৌধুরী সংবাদমাধ্যকে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, কমিউনিটি সেন্টারের ঢালু গেট দিয়ে হুড়োহুড়ি করতে ঢুকতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে৷

তিনি জানান, ‘‘যাঁরা পদদলিত হয়েছেন তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর, ১০ জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ কমপক্ষে ৫০ জনকে এখন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে৷''

হাসপাতালে আহত ও নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়৷ এই ঘটনার পর রিমা কমিউনিটি সেন্টারের মেজবান বন্ধ করে দেয়া হলেও, বাকি ১৩টি কমিউনিটি সেন্টারের মেজবান হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই৷

চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক হামি উল্লাহ ঘটনাস্থল থেকে ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ঐ কমিউনিটি সেন্টারটি পাহাড়ের ঢালে৷ প্রবেশের গেট আছে দু'টি৷ এখানে মুসলামান ছাড়া অন্য ধর্মের লোকজনের খাবার আয়োজন করা হয়েছিল৷ কয়েকদিন ধরেই এই মেজবানের ব্যাপক প্রচার চালান হয়৷ তাই সকাল ১১টা থেকেই লোকজন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ভিড় করেন৷ আয়োজকরা ১১টার পর পিছনের গেট থেকে কিছু ভিআপিকে ঢুকিয়ে খাবার শুরু করে দেন৷ তখন সামনের গেটের রাস্তায় অপেক্ষমান কয়েক হাজার মানুষ অধৈর্য হয়ে ওঠেন৷ রাস্তায়ও যানজট সৃষ্টি হয়৷ রাস্তাটি ঢালু আর গেট থেকে কমিউনিটি সেন্টা কয়েক ফুট ঢালুতে৷ দুপুর ১২টার দিকে হাঠাৎ গেট খুলে দিলে ইটের ঢালু পথে নামতে গিয়ে অনেকে পিছলে পড়ে যান৷ যাঁরা পড়ে যান তাঁরাই পদদলিত হন৷'' FOR AUDIO CLICK IMAGE 

গত ১৫ ডিসেম্বর সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা যান৷ চট্টগ্রামের ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে কমপক্ষে এক লাখ মানুষের জন্য কুলখানি উপলক্ষ্যে মেজবানের আয়োজন করা হয় সোমবার৷

মেজবানের ভেন্যুগুলো হচ্ছে – পাঁচলাইশ এলাকার ‘দ্য কিং অফ চিটাগাং', জিইসি-র মোড়ের ‘কে স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টার', চকবাজারের ‘কিশলয় কমিউনিটি সেন্টার', পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ‘সুইস পার্ক কমিউনিটি সেন্টার', লাভ লেনের ‘স্মরণিকা কমিউনিটি সেন্টার', মুরাদপুর এলাকায় ‘এন মোহাম্মদ কনভেনশন হল', বাকলিয়ার কেবি কনভেনশন হল', কাজির দেউড়ির ‘ভিআইপি ব্যানকোয়েট কমিউনিটি সেন্টার' এবং ‘সাগরিকা স্কয়ার' আর ডাবল মুরিংয়ের ‘গোল্ডেন টাচ কমিউনিটি সেন্টার'৷ তাছাড়া ‘রিমা কনভেনশন সেন্টার'-এ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্যদের ধর্মালম্বীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা  করা হয়েছে৷

সাংবাদিক হামিদ উল্লাহ জানান, ‘‘মেজবান চট্টগ্রামের একটি ঐহিত্যবাহী খাবার৷ এতে সাদা ভাত ও মাংস খাওয়ানো হয়৷ নিয়ম মেনে অতিথিরা পালা করে খাবার গ্রহণ করেন৷ সাধারণত কোনো বিশৃঙ্খলা হয় না৷ এবার আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷''

পুলিশ কমিশনার জানান, ‘‘আমাদের ২০ জন পুলিশ সেখানে ছিলেন৷ অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে তাঁরা পরিস্থিতি সামলাতে পারেননি৷''

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দিচ্ছে৷ এছাড়া নিহতদের শেষকৃত্য ও আহতদের চিকিৎসা খরচ দেবে মেয়র মহিউদ্দিনের পরিবার৷

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ