১৯ জুলাই ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ০৫ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ২৯জানু–০৪ফেব্রু ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 05 issue: Berlin, Monday 29Jan-04Feb 2018

হলদিয়ায় বিশ্ববাংলা কবিতা মহোৎস

কবিতা উৎসব

প্রতিবেদকঃ শ্রুতী খান তারিখঃ 2018-01-29   সময়ঃ 02:43:37 পাঠক সংখ্যাঃ 232

১০ম বিশ্ব সাহিত্য উৎসবে ২০১৮, কবিদের মিলন মেলায় বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিকের একটি দল গত ২৭ থেকে ২৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় বিশ্ববাংলা কবিতা মহোৎস যোগ দিয়েছিলেন। 
হলদিয়ায় এই কবিতা মহোৎস যে ঠিক ভাবে গুছিয়ে কাওকে বলা যায় না কাউকে সহজে বুঝানো যায় না, সেকথা অনায়াসে সুন্দর করে গুছিয়ে কবিতা বা সাহিত্যের মধ্যে প্রকাশ করা যায়। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো জ্ঞানীদের সাথে  চলবো তাদের থেকে জ্ঞান অর্জন করবো।  ঘুমাতে গেলেই চোখ বন্ধ করে মহাজগৎ দেখার আকুতি নিয়ে ঘুমাতাম।
লেখনি হোক গন্ডীহীন স্বাধীনতা প্রিয়। 
আয়োজক : সংবাদ সাপ্তাহিক আপনজন( ২৭-২৯) স্থান হলদিয়া মেরিন কলেজ প্রাঙ্গন, নলেজ সিটি। এই অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেছেন বিশিষ্ট কবি নলিনী বেরা। এবং সাধারন সম্পাদনায় ছিলেন কবি শ্যামল কান্তি দাশ।সম্পাদক ছিলেন সুদীপ্তন শেঠ। সহ - সম্পাদক আশিস মিশ্র।

কোষাদক্ষ কমল বিষয়ী আপনজন। অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথী ছিলেন মহামান্য রাজ্যপাল পশ্চিম বঙ্গ এবং কথা সাহিত্যিক বুদ্ধোদেব গুহ।  সাবেক সংসদ সদস্য ও কবিতা উৎসবের প্রধান পৃষ্টপোষক  ড.লক্ষন সেট। স্বর্গীয় তমালিকা দেবীর ছিলেন একজন সনামধন্য লেখক কবি সাহিত্যিক। তার স্বামী লক্ষন সেট স্বীর মৃত্যুর পর ও ১০ বছর ধরেই এই বিশ্ব সাহিত্য মিলন মেলার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। যদিও আগের মেলাগুলো থেকে এখনকার মেলা একদমই ভিন্ন মাত্রার ছিলো। এপার ওপার দুই বাংলার আর প্রভাসী বাংলা মিলে তিন বাংলা সাহিত্য সংগঠন। এরই পৃষ্টপোষকতার গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট সালেম সুলেরীর কুষলতার কারনে এবার কবিদের জন্য একক আয়োজন করা হলো। আগের সমস্ত অনুষ্ঠানে সকল ধরনের  বাঙ্গালির সংস্কৃতির মিলন হতো। কবি কথা সাহিত্যিক সালেম সুলেরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০/৪০ জন কবি সেখানে অংশগ্রহন করেন। তার মধ্যে অন্যতম একুশে পদক পাওয়া কবি নূরুল হূদা ছিলেন প্রধান অতিথীদের মধ্যে একজন। আরো যে কবিরা ছিলেন ফারুক সাহেব, মাহমুদ হাফিজ, আসলাম সানী, শ্রুতীখান,  ঝরনা আপা প্রমুখ।

সেখানকার জমকালো সাজানো আলোয় রাতের পরিবেশটা ছিলো চোখ ধাদানো। ফুলের সৌরভে মৌ মৌ ছিলো চারপাশ। পথে পথে আল্পনার রঙ্গে রাঙ্গানো ছিলো চারপাশ।
ওখানে গিয়ে যাদের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ট হয়েছিলাম তার মধ্যে  নন্দিতা,পুষ্পিতা অরুন কুমার চক্রবর্তী সুকুমার চৌধুরী ও তার বিবি  শ্যামল দাদার সহধর্মিনি, সুমা দাস, চিত্রালি দিদি, এমন আরোও অসংখ্য মহামানব ছিলেন যারা শুধু কবি নন,  সাহিত্যিক নন, বহু গুনে গুনান্নিত।
ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো জ্ঞানীদের সাথে  চলবো তাদের থেকে জ্ঞান অর্জন করবো।  ঘুমাতে গেলেই চোখ বন্ধ করে মহাজগৎ দেখার আকুতি নিয়ে ঘুমাতাম।
 
কিন্তু এখন মনে হয়েছে আমি মহাজগৎ দেখেছি । কারন  তমালিকা পান্ডশেঠ  এর একটি বানী না বললেই নয়,"""""নিজের অতল থেকে তুলে আনি মাটি, দেশ ও একটা গোটা জাতি""" একটি মানুষ একাই একটা পৃথিবী,,,,, সেই অর্থে আমি মহাজগৎ  বলতেই  পারি।
২০১১ সালের  থেকে এই অনুষ্ঠানের উৎপত্তি হয়ে ২০১৮ তে এসে আবার মিলিত হলো। ২০১৬ সালের আপনজন পত্রিকার উদ্যোগে বড় মাপের সাহিত্য সম্মেলন ও লিটন ম্যাগাজিনের মেলার পরই হঠাৎ মৃত্যু হয় তমালিকা পান্ড সেট।
 
এর পর থেকে এই মিলন মেলা আর থেমে নেই। তবে তার পরিবারের যারা রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই সংস্কৃতিমান। তার ধারাবাহিকতায় এখনো তাকে সবাই এই অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করে আসছেন।
 
Srrute Khanএকুশে পদক পাওয়া কবি নূরুল হুদা এমন এক কবিতা পাঠ করেলেন যে সব বাংঙ্গালীরা এক সূরে গাইতে লেগেছিলো। তিনি বলেছেন বাংলা ভাষা যতদূর বাংলাদেশ ততদূর। এটা শুধু কবিতাই ছিলোনা সব বাঙ্গালির মনের প্রানের স্লোগান হয়ে গেলো।

আমি শ্রুতীখান আমার বাংলাদেশের প্রতিনিধীত্ব করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হলদিয়ায় গিয়ে তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নিজেকে তাদেরই একজন ভেবেফেলেছি। এখন আর চাইলেও নিজেকে তাদের থেকে আলাদা করতে পারবোনা। কবিরা তাদের কবিতার প্রতি তাদের লেখার প্রতি এতোটা শ্রদ্ধাশীল এতোটা আন্তরিক সেখানে না গেলে বুঝাই যেতোনা। কবিতার জন্য সাহিত্যের জন্য সুদূর যাত্রার মনে হয় আর শেষ নেই।
কবি লেখকরা শান্তির বানী প্রচার করেন তাই তাদের শান্তি কামনা করি সবসময়।
 
আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে... এ জীবন ধন্য করো’...। সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হলদিয়া বিশ্ববাংলা কবিতা উৎসব। ২৭-২৮ ও ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো কবিতা-প্রধান মহোৎসব। অংশ নেন পাঁচ শতাধিক কবি-লেখক-সাংবাদিক-সংস্কৃতিসেবী। সমাপণী দিনে সম্মানিত হলেন বিশ্ববাংলা কবিতা উৎসবের উদ্যোক্তাবৃন্দ। ‘তিনবাংলা’ সাহিত্য সংগঠন এই সম্মাননা জানায়। এতে নেতৃত্ব দেন তিনবাংলা’র গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট কবি-কথাকার সালেম সুলেরী। সম্মান গ্রহণে নেতৃত্ব দেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. লক্ষণ শেঠ। সংশ্লিষ্ট পর্বটি পরিচালনা করেন দু’জন কবি-সাংবাদিক। তিনবাংলা’র পক্ষে ভ্রমণলেখক মাহমুদ হাফিজ। বিশ্ববাংলা’র পক্ষে সঞ্চালক আশিস মিশ্র। বিশ্ববাংলা’র প্রধান উদ্যোক্তাবৃন্দকে উত্তরীয় পরানো হয়। হস্তান্তর করা হয় শুভেচ্ছা উপহার।
 
বিশ্ববাংলা কবিতা উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত তমালিকা পন্ডাশেঠ। তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক প্রদান করা হয়। উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন ১১ জন। মহোৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শিক্ষানুরাগী ড. লক্ষণ শেঠ। হলদিয়া বন্দর নগরীর সাবেক সাংসদ তিনি। এছাড়া উৎসব কমিটির সভাপতি কথাসাহিত্যিক নলিনী বেরা, সাধারণ সম্পাদক কবি-সম্পাদক শ্যামলকান্তি দাশ। এছাড়া আপনজন পত্রিকার প্রকাশক সায়ন্তন শেঠ, সম্পাদক সুদীপ্তন শেঠ। নেপথ্য সংগঠক স্থপতি সুস্মিতা শেঠ। উৎসব কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতা প্রণব দাস, সুদর্শন মান্না। ছিলেন আইকেয়ার-খ্যাত আশীষ লাহিড়ী, কোষাধ্যক্ষ কমল বিষয়ী। কবি-সাংবাদিক ও উৎসব সঞ্চালক আশীস মিশ্র প্রমুখ। কবি-লেখকদের মধ্যে অংশ নেন, তিনবাংলা’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কবি-শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ। কথা ও কণ্ঠশিল্পী ঝর্ণা রহমান, কবি ফারুক মাহমুদ, কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশীদ, কবি শাহীন রিজভী, কণ্ঠশিল্পী সন্তোষ ঢালী, কবি চৌধুরী বাবুল বড়–য়া, কবি শান্তা মারিয়া প্রমুখ। এছাড়া সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও বাচিকশিল্পী সীমা ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্যে কবি সালেম সুলেরী উৎসবের প্রশংসা করেন। বলেন, বাংলাদেশ-ভারত-প্রবাসবাংলা’র সংগঠন তিনবাংলা।
 
বিশ্ববাংলা ও তিনবাংলার জন্ম প্রায় একই সময়কালে। ২০০২ সালের ‘হলদিয়া উৎসব থেকে সারাভারত কবিতা উৎসব।’ অতঃপর বিশ্ববাংলা’র উন্মেষ। এটি বাংলাভাষার লেখকদের চেতনার সম্মিলনে পরিণত হয়েছে। প্রতিউত্তরে ড. লক্ষণ শেঠ বলেন, সবাই মিলে সফল হলাম। বিশ্ববাংলা’র আয়োজনের সঙ্গে তিনবাংলা’র চিন্তা ও লক্ষ্যের সাজুয্য রয়েছে। বহির্বিশ্ব নিয়ে আমাদের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। আগামীতে উৎসবের নাম কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে ‘বিশ্ববাংলা সাহিত্য উৎসব’ হবে। সাহিত্যের সব বিষয় নিয়ে আমরা বৃহত্তর পদক্ষেপ নেবো। আশা করি তিনবাংলা সর্বত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
 

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ