১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ০৫ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ২৯জানু–০৪ফেব্রু ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 05 issue: Berlin, Monday 29Jan-04Feb 2018

ভারতবর্ষের অহিংস চেতনার কর্ণধার মহাত্মা গান্ধী'র মৃত্যু দিবস

৭০ তম মৃত্যু দিবস

প্রতিবেদকঃ মীর মোনাজ হক তারিখঃ 2018-01-30   সময়ঃ 18:42:04 পাঠক সংখ্যাঃ 74

আজ ৩০ জানুয়ারি, আজকের এই দিনে ১৯৪৮ সনে, ভারতবর্ষের অহিংস চেতনার কর্ণধার মহাত্মা গান্ধী এক উগ্রবাদী হিন্দু নাথুরাম গডসে এর গুলিতে নিহত হন। গান্ধীজীর মৃত্যতে ভারতের সকল জনগনের সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী নেহেরু ও সবচেয়ে বেশি শোকাহিত হন। নেতাজী সুভাষ বোসের অন্তর্ধান যদিওবা নেহেরুর একচ্ছত্র নেতৃত্বের পথ সুগম করেছিলো এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে একক নেতা হিসেবে নেহেরু জায়গা করে নিয়েছিলেন, কিন্তু মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুতে প্রকৃত অর্থে দেশবাসীর মতো নেহেরুর নেতৃত্বে ভারত সরকারও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ ভারতবর্ষ অভিভাবক শুন্য হয়ে পরায়, ভারত- পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি ঘটে।


তবে গান্ধীর হত্যাকাণ্ডে গডসের যে যুক্তি ছিল তা তার একার ছিল না। হিন্দুদের একটি বিরাট অংশ গডসের যুক্তি সঠিক বলে মনে করতো। গডসের ফাঁসি হয়েছে বটে, তবে তিনি যে চিন্তায় আলোড়িত হতেন সে চিন্তার মৃত্যু হয়নি এখনো।


অনেকে বলেন গডসে একজন ফ্যানাটিক হিন্দু ছিলেন, কিন্তু শুধু ফ্যানাটিক নয় তিনি ছিলেন তার সময়ের অনেক শিক্ষিত মানুষদের মধ্যে একজন। হিন্দু ইতিহাস ও হিন্দু শাস্ত্র এবং তদানীন্তন ভারতীয় রাজনীতি সম্পর্কে ছিল তার গভীর জ্ঞান। হিন্দু মন-মানসিকতা ও চেতনার আলোকে তার কাছে মনে হয়েছিল, মহাত্মা গান্ধী পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় সায় দিয়ে হিন্দুদের পুণ্যভূমিকে দ্বিখণ্ডিত করেছেন।


এই চিন্তার প্রতিফলন আরএসএস এর মধ্যে এখনো আছে। নাথুরাম গডসে তার জবানবন্দী তে বলেছিলো "একজন দেশপ্রেমিক ও বিশ্ব নাগরিক হিসাবে হিন্দুরাজ ও হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠা করাই আমার প্রথম কাজ"


নাথুরাম গডসে ১৯৪৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার গান্ধীকে হত্যার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তিনি আবার ১৯৪৮ সালের ২০ জানুয়ারি একই চেষ্টা চালান। পরপর দু'বার ব্যর্থ হয়ে তৃতীয়বার ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি সফল হন। সেদিন গান্ধী দিল্লিতে বিড়লা হাউসে এক প্রার্থনা সভায় যোগদান করেছিলেন। সেখানেই নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত হন ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা মহাত্মা গান্ধী।

 

কেন গডসে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করে তার আর একটা ঐতিহাসিক কারণ হলো, (হয়তো ইতিহাসের এই অংশটা অনেকেরই জানা নেই) দেশভাগের সময় ইংরেজরা ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সরকারি সম্পত্তির বিভজনের নিষ্পত্তি করেছিলো এবং তা মানতে সম্মত হয়ে‍‌ছিলেন দুই দেশের সরকার। বিভাজন হিসেবে পাকিস্তানকে দেওয়ার কথা ছিল ৭৫ কোটি টাকা। তার মধ্যে ২০ কোটি টাকা প্রথম দফায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের সাথে প্রথম কাশ্মীর যুদ্ধের কারনে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বাকি ৫৫ কোটি টাকা তারা পাকিস্তানকে দেবে না। মহাত্মা গান্ধী তখন কেবল সরকার নয়, জাতীয় কংগ্রেসের থেকেও দূরে। গান্ধী এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন। তাঁর কথায় — দুই ভাইয়ের সংসার ভাগ হতে পারে কিন্তু বড় ভাই ছোট ভাইয়ের প্রতি তার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না।

 

এটি এক চিরন্তন ভারতীয় মূল্যবোধ। ভারত সরকার রাজি না হওয়ায় মহাত্মা গান্ধী আমরণ অনশনের হুমকি দেন। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং তার মন্ত্রিসভা গান্ধীর দাবি মেনে নেন। কেবলমাত্র বল্লভভাই প্যাটেল, তথাকথিত ‘লৌহ পুরুষ’, প্রতিবাদ করে এবং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। আর এস এস কর্মী নাথুরাম গডসে এই অহিংস ও আপোষ নীতির কারণেই মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করে।

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ