১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ০৫ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ২৯জানু–০৪ফেব্রু ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 05 issue: Berlin, Monday 29Jan-04Feb 2018

বই স্ক্যান করবে পুলিশ, লেখক-প্রকাশকদের ভিন্নমত

লেখকরা খুব বেশি সমালোচনা না করলেও ভিন্নমত পোষণ করেছেন

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-02-03   সময়ঃ 21:34:32 পাঠক সংখ্যাঃ 208

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা৷ তবে পুলিশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন বই স্ক্যান করবে ঘোষণা দেয়ায় লেখক, প্রকাশক ও বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷

লেখকরা খুব বেশি সমালোচনা না করলেও ভিন্নমত পোষণ করেছেন৷ তাদের মতে, মেলা শুরুর আগে অনেকেই অনেক কথা বলেন৷ কিন্তু বাস্তবে সেটা সম্ভব নয়৷ তবে লেখক ও প্রকাশকদের সচেতন থাকার আহবানও তাদের৷

পুলিশের নজরদারি করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে দেশ পাবলিকেশন্সের স্বত্বাধিকারী অচিন্ত চয়ন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা বাক স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী৷ এটা মুক্তচিন্তার চর্চার ক্ষেত্রেও বড় অন্তরায়৷'' তাঁর মতে, ‘‘এখানে লেখক ও প্রকাশক সবাই সচেতন৷ আর পুলিশের পক্ষে এত বড় আয়োজনের প্রতিটি বই পড়ে দেখাও সম্ভব নয়৷ 

লেখক সুমন্ত আসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশ সতর্কতার কারণে হয়ত এটা বলেছে৷ এটা নিয়ে এত আলোচনার কিছু নেই৷'' অপর লেখক আহসান হাবীবও মনে করেন, ‘‘এটা নিয়ে আলোচনা করলে আলোচনা বাড়বে৷ যেটা কখনই সম্ভব নয় সেটা নিয়ে আলোচনা করে অযথা ঝামেলা তৈরি না করাই ভালো৷''

তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ কেন বলেছে, সেটা আমরা জানি, এ নিয়ে খোঁচাখুঁচি করলে আলোচনাই বাড়বে৷ আমাদের উচিত মেলার ভালো দিকগুলো তুলে ধরে সুন্দর মেলাকে সফল করে তোলা৷''

 

তবে অনেক লেখকই মনে করেন, ‘‘বইয়ের ক্ষেত্রে এমন বিধিনিষেধ দেওয়ায় মুক্তচিন্তার ওপর প্রভাব পড়বে৷ তাদের মতে, এটা লেখক ও প্রকাশকদের শৃঙ্খলিত করারই নামান্তর৷

প্রসঙ্গত, বইমেলা শুরুর আগের দিন পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো বই কেউ প্রকাশ করছে কিনা, সেটা অনুসন্ধান করে দেখবে পুলিশ৷ কোনো বই ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করছে খবর পেলে সেই বই জব্দ করা হবে৷ তাছাড়া যারা সেই বই প্রকাশ করবেন ও বিক্রি করবেন তাদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ৷'' 

 

যদিও বাংলা একাডেমি বলছে, তারা লেখক-প্রকাশকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে৷ বাংলা একাডেমির বই কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ওটা পুলিশের কথা৷ বাংলা একাডেমির প্রচলিত নিয়ম হচ্ছে, আমাদের তথ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন নতুন বই আসে৷ সেগুলো আমাদের কর্মীরা বইয়ের ধরন অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করেন৷ এরপর সেসব বইয়ের প্রচার হয়৷ এখানে বই পড়ে দেখার কথা আমাদের নীতিমালায় নেই৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের একটা কমিটি আছে, যার কাজ হলো গ্রন্থমেলার নীতিমালা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না তা দেখাশোনা করা৷ তাতে বাংলা একাডেমি, প্রকাশক, পুলিশ, কপিরাইট ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকে৷ তারা পুরো মেলা পরিদর্শন করেন৷ কোনো অভিযোগ আসলে দেখেন৷''

 

জালাল আহমেদের আরো বলেন, ‘‘যদি নীতিমালা পরিপন্থী বই, পাইরেটেড বা নোট বই থাকে সেগুলো ওই কমিটি দেখে৷ প্রয়োজন বোধ করলে কমিটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে৷ সেই সুপারিশ অনুযায়ী বাংলা একাডেমি ব্যবস্থা নেয়, প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেয়৷

‘‘আমরা লেখকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি৷ সৃষ্টিশীলতায় বিশ্বাস করি৷ এখানে এমন কিছু হবে না যাতে লেখকের স্বাধীনতা খর্ব হয়৷''

উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর ধরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন বইয়ের বিষয়ে নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ৷ বিশেষ করে ২০১৫ সালে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়, এবং তাঁর বইয়ের প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের পরের বছর থেকে সংবেদনশীল বিষয়ের কিছু বই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় মেলা কর্তৃপক্ষ৷ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন বই প্রকাশ না করতে লেখক ও প্রকাশকদের সতর্কও করে দেওয়া হয়৷

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ