১৮ জুলাই ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ০৫ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ২৯জানু–০৪ফেব্রু ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 05 issue: Berlin, Monday 29Jan-04Feb 2018

ইসলামী সুফিবাদের ভন্ডামি: শাহ্ জালাল

ব্লগ ভাবনা

প্রতিবেদকঃ রাজর্ষি ব্যনার্জী তারিখঃ 2018-03-03   সময়ঃ 22:36:10 পাঠক সংখ্যাঃ 182

সিলেটে শাহ্ জালাল বিশ্ব বিদ্যালয়।শাহ‌্ জালালার জন্মস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ কোন ধারনা পাওয়া যায় না। কোন কোন ইতিহাসবিদ দের মতে উনি ১২৭১ সালে তার্কির কৌনাতে জন্ম গ্রহণ করেন, পরে তিনি ইয়ামেন গমন করেন।আবার কারো কারো মতে তিনি ইয়ামেনেই জন্ম গ্রহণ করেন। উনার বাবা জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ রুমির সম সাময়িক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

জন্মের পর তার নাম রাখা হয় জালাল উদ্দীন বিন মুহাম্মদ।অবশ্য পরে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান শায়েক উল মাশায়েক হযরত শাহ‌্ জালাল মুজাররেদ নামে।

শিক্ষা দীক্ষা, ধন সম্পদ, উর্বর জমি, জীবন যাপনের মান সব দিক বিবেচনা করলে ভারত বর্ষের খ্যাতি ছিল সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। আরবের নিয়মিত যুদ্ধরত, কঠিন, বেপড়োয়া যাযাবর জীবন, গোত্রে গোত্রে ঝগ্রালু জীবনের চেয়ে ভারত বর্ষের শান্ত, স্নিগ্ধ, সবুজ, সুশীতল জীবন তাদের কাছে ছিল স্বপ্ন রাজ্য।উন্নত ও নিরাপদ জীবন যাপন এবং অন্ন সংস্থানের লোভেই তারা এসে ভীড় করত ভারতবর্ষে।

দেশান্তরি এই সব আরবের লোকেরা ছিল খুবি দরিদ্র শ্রেনীর।সমস্যা সমাধানে দুটো সহজ রাস্তা তারা খুজে পেয়েছিল (১) রাজ্য দখল করা (২)বিনা পয়সায় ধর্ম ব্যবসা করা। তবে ধর্ম ব্যবসার পূর্ব শর্ত রাজ্য দখল ও শাসন ক্ষমতা্র আনুকুল্য।

আরবের মুসলমানদের পক্ষে ভারত বর্ষ দখল করে নিতে খুব একটা বেশী বেগ পেতে হয়নি।হিন্দু রাজাদের আয়েশী জীবন যাপন, অরক্ষিত রাজ্য সীমান্ত, যুদ্ধ বিদ্যায় অপারদর্শীতা,মার দাঙ্গা ও পর রাজ্য দখলে সিদ্ধ হস্ত আরবের মুসলমানদের পক্ষে ভারত বর্ষ দখল করে নিতে খুব একটা বেশী বেগ পেতে হয়নি।রাজ ক্ষমতার প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহ যোগিতায় তথা কথিত ইসলামী পীর দরবেশ দের ধর্ম প্রচারের আড়ালে নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের দুয়ার সম্পূর্ন খুলে যায়।

হিন্দু জাতি ভেদ প্রথা, কুসংষ্কারের বেড়া জালে আবদ্ধ নিম্ন বর্ণের নির্যাতিত অশিক্ষিত হিন্দু ও হিন্দুদের নিকট অবহেলিত বৌদ্ধদের কাছে ইসলাম ধর্মের বীরত্ব, সাম্যবাদ ও পর কালের লোভ সম্বলিত নতুন মতবাদ প্রচার করে তাদের অজ্ঞানতার সুযোগ নিয়ে সহজেই এক এক জন বড় বড় পীর রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।মারা যাওয়ার পরেও তাদের অবস্থান হয়েছে আরো শক্তিশালী। অসংখ্য কবরকে মাজারে রূপান্তর করে রম রমা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অনুসারী আরেক শ্রেণীর ধর্ম ব্যবসয়ীরা বাংলাদেশ সহ ভারত বর্ষের বিভিন্ন জেলায়।

শাহ্ জালাল বিভিন্ন দেশ পাড়ি দিয়ে অবশেষে স্বপ্ন রাজ্য ভারতে আসেন ১৩০০ খ্রীষ্টাব্দে।এর পর চলে যান আজমীরে সেখানে পান ইসলাম প্রচারক পীর খাজা গরীবে নেওয়াজ মঈন উদ্দীন হাসান চিস্তিকে।পরে যান দিল্লী সেখানে সংস্পর্শে আসেন আরেক ইসলামী চিন্তাবিদ ও ইসলাম প্রচারক নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার সাথে।তাদের ইসলাম প্রচারের মহীমা, কলা কৌশল এবং তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি শাহ জালালকে বিশেষ প্রভাবিত করে।

সিলেট শাসন করতেন হিন্দু রাজা গৌড় গোবিন্দ।রাজ্যে বাস করতেন সৈয়দ বুরহান উদ্দীন নামের এক মুসলমান।পুত্র সন্তান লাভের খুশিতে গরু জবাই করে ভুরি ভোজের আয়োজনে ব্যস্ত, ঠিক সে সময় এক ক্ষুদার্ত বেরসিক চিল এক টুকরা গরুর মাংস চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঠোঁট ফসকে এক টুকরো পরে যায় এক ব্রাহ্মনের ঘরে, আবার অন্য এক মতে মাংসের টুকরা টি গিয়ে সোজা পড়ে গৌড় গোবিন্দের মন্দিরে।ধর্মীয় অপমানে রাজা অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে আদেশ দিলেন যখানেই পাও বুরহান উদ্দীন কে ধরে তার হাত দুটি কেটে ফেলো আর তার পুত্র সন্তান কে হত্যা করো।বুরহান উদ্দীন পালিয়ে বিচার চাইল গৌড়ের সুলতান শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহর কাছে। সুলতান এই কথা শুনে তার ভাগ্নে সিকান্দার খান গাজীর নেতৃতে এক দল সৈন্য বাহিনী পাঠালেন গৌড় গোবিন্দ শাস্তি দিতে।বিনা উস্কানিতে কাফের হিন্দু রাজাকে বিতারিত করে সিলেটে মুসলমানের বিজয় পতাকা ওড়ানোটাই ছিল ফিরোজ শাহর মুখ্য উদ্দেশ্য।

১ম বার যুদ্ধে সিকান্দার খান গোবিন্দের কাছে হেরে যায়।এই পরাজয় সুলতান ফি্রোজ শাহর পক্ষে সহজভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।সে বুঝতে পারল গৌড় গোবিন্দের শক্তি কে খাটো করে দেখা তার মোটেই উচিত হয়নি, তাই পরবর্তী আক্রমনের জন্য বেশ আট ঘাট বেঁধেই মাঠে নামল। তার সেনাপতি নাসির উদ্দীন কে আদেশ দিল পুনঃরায় গৌড় আক্রমনের জন্য তৈরী হতে। যুদ্ধ জয়ের চুড়ান্ত প্রস্তুতি হিসাবে সুলতান ফিরোজ শাহ্ ইসলামিক চিন্তাবিদ নিজাম উদ্দীন কে আদেশ দিলো সিলেট যুদ্ধে তাকে সাহায্য করতে।নিজাম উদ্দীন অনুরোধ করলো শাহ‌্ জালাল কে।শাহ‌্ জালাল তার সাথে ইয়েমেন, তুর্কিস্তান, আলরুম, তুরফান, বুখারা, তিরমিজ সহ আরবের বিভিন্ন আঞ্চল থেকে আসা আরো ৩৬০ জন ভাগ্যন্বেষী যুবক কে সাথে নিয়ে ফিরোজ শাহর মুসলমান সৈন্য দলের সাথে যোগ দিলো হিন্দু রাজা গোবিন্দকে সিলেট থেকে উৎখাত করার লক্ষ্যে।এই ৩৬০ জনের মধ্য তার ভাগ্নে শাহ্‌ পরান ও ছিল।

শাহ জালাল যদি সত্যি কোন পীর, দরবেশ, আওলিয়া বা এ জাতীয় নিরীহ শান্ত গোছের কিছু হত তাহলে ধারালো তরবারি হাতে আরো ৩৬০ জন সৈন্য জোগাড় করে দখলদার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত না বরং বিনা রক্তপাতে কোন সমাধানে আসা যায় কিনা সুলতানকে সে পরামর্শ দিতে পারত। শাহ্‌ জালাল সম্পর্কে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস পাকা পোক্ত করতে ধর্ম ব্যাবসায়ীরা সুনিপুন ভাবে আরো কিছু ধর্মীয় রূপকথা জুড়ে দিল তার সিলেট দখলের পর। যেমন- গৌড় গোবিন্দ যখন জানতে পারল শাহ জালাল সিলেট আক্রমন করতে আসছে তখন সে সুরমা নদীর ঘাট থেকে সব নৌকা সরিয়ে ফেলে যাতে শত্রু পক্ষ নদী পার হয়ে সিলেটে প্রবেশ করতে না পারে। শাহ্ জালাল ক্যারিশমা দেখানোর সুযোগ পেয়ে গেল। সে জায়নামা্যে চড়ে সুরমা নদী পাড়ি দিয়ে দিল মূহুর্তে যা তাঁর গুরু স্বয়ং নবিজীর পক্ষেও কোন দিন সম্ভব হয়নি। নদীর অপর পাড়ে পৌঁছেই সে বিকট শব্দে আযান দিয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ শুরু করল, তাতেই গৌড় গোবিন্দের প্রাসাদ ধসে ধসে পড়তে শুরু করল।

আযানের শব্দে ধসে পড়ল না আক্রমনের তীব্রতায় ধসে পড়ল তা কেবল বুদ্ধিমান পাঠকই বুঝবে!শুরু হল দখলদার বনাম অস্তিত্ব রক্ষার রক্তক্ষয়ি যুদ্ধ তাতে গৌড় গোবিন্দ পরাজিত হয়ে সিলেট ছেড়ে পালিয়ে গেল।

সিলেট এলো মুসলমানদের দখলে।পক্ষান্তরে বলা চলে শাহ্ জালালের দখলেই সেই সাথে পূর্ণ হল আজমীরের মঈন উদ্দীন হাসান চিস্তি বা দিল্লীর নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন।যুদ্ধ জয়ের পর সে তার ৩৬০ জন সহ যোগীকে বিয়ে করে সংসারী হওয়ার নির্দেশ দেয়। তখনো ইসলামের প্রচার প্রসার সিলেটে তেমন শুরু হয়নি।তাই তারা কাদের কে কিভাবে বিয়ে করেছিলেন তা সহজেই বোঝা যায়!!

একজন যদি একটা করেও বিয়ে করে তাহলে ৩৬০ জন হিন্দু/বৌদ্ধ মেয়ের গায়ে ইসলামী আঁচড়ের দাগ পড়েছিল নিঃসন্দেহে!!



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ