১৮ অক্টোবর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ১৬ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১৬এপ্রি–২২এপ্রি ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 16 issue: Berlin, Monday 16Apr-22Apr 2018

এখনো ট্রমায় আক্রান্ত রানা প্লাজার ২২ ভাগ শ্রমিক

রকল্প শেষ, তাই তাঁরা ধারাবাহিক স্বাস্থ্য সেবার আওতায় নেই

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-04-22   সময়ঃ 02:05:19 পাঠক সংখ্যাঃ 113

পাঁচ বছরেও রানাপ্লাজার আহত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি৷ ৫০ ভাগ শ্রমিক এখনো নানা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কারণে কাজ করতে পারছেন না৷ ২২ ভাগ এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত৷

মাহমুদ হাসান হৃদয়৷ কোয়ালিটি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন রানাপ্লাজার ৮ তলায় নিউওয়েভ ফ্যাশন নামের পোশাক কারখানায়৷ রানাপ্লাজা ধসে তিনি গুরুতর আহত হন৷ পাঁজর ভিতরে ঢুকে গেছে৷ ভেঙে গেছে মেরুদন্ড৷ ডান পা এখন আর কাজ করে না৷ অবশ হয়ে গেছে৷ তারপরও তিনি এখন কাক করতে চান৷

অন্তত পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজের জন্য গেছেন৷ কিন্তু করতে পারেননি৷

হৃদয়ের ভাষায়, ‘‘ভবনের ভিতরে ঢুকতে আমি ভয় পাই৷ আমরা মনে হয় সবকিছু ভেঙ্গে পড়বে৷ মাথা ব্যাথা করে৷ কোনো শব্দ হলেই ভয় পাই৷ মনে হয় সবকিছু কাঁপে৷'' ডয়চে ভেলেকে বলছিলেন তিনি৷

 

‘‘রাতে ঘুমাতে পারি না৷ দুঃস্বপ্ন দেখি৷ আমি নিজেও কাজ করতে পারিনা৷ আর কেউ এখন আর কাজও দেয় না৷'' CLICK IMAGE FOR AUDIO

হৃদয় বলেন, ‘‘এখনো আমার চিকিৎসা চলছে৷ কিন্তু কোনো সরকারি সহায়তা পাই না৷ ভয় কাটাতে থেরাপি নিতে হয়৷ প্রতিবারে লাগে এক হাজার টাকা৷ আগে সভারের সিআরপি এবং ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসা পেতাম৷ এখন আর পাইনা৷ তারা বলেন ফান্ড শেষ হয়ে গেছে৷ কোনো আয় নেই আমার৷ ভাইয়ের খরচে চলি৷ এক দুর্বিষহ জীবন আমার৷ স্ত্রীও আর আমার সঙ্গে নেই৷ সে চলে গেছে৷''

সাভার আশুলিয়া এলকায় এরকম আরো অনেক শ্রমিক আছেন যারা রানাপ্লাজার ঘটনায় আহত হয়ে এখনো দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন৷ কোনো কাজ পাননি৷ আর পেলেও তা করতে পারেন না মানসিক বিপর্যস্ততার কারণে৷ পাচ্ছেন না চিকিৎসাও৷

বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইড-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আহত শ্রমিকদের প্রায় অর্ধেক (৪৮.৭%) এখনও কোনো কাজ করতে পারছেন না৷ ১২ শতাংশের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে৷ ২২ শতাংশ শ্রমিক এখনও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত৷

তবে অন্তত পাঁচ ভাগের এক ভাগ (২১.৬%) শ্রমিক আবারও পোশাক কারখানায় কাজে যুক্ত হতে পেরেছেন৷

 

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১,১৫৩ জন শ্রমিক নিহত হন৷ আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ২,৪৩৮ জনকে৷ মোট পাঁচটি পোশাক কারখানায় পাঁচ হাজারের মতো শ্রমিক কর্মরত ছিলেন৷ CLICK IMAGE FOR AUDIO

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘৩৬ জন শ্রমিক আছেন যাদের হাত-পা নেই৷ তারা পুরোপুরি পঙ্গু৷ ২৫০ জনের মত আছেন যারা কোনো না কোনো অঙ্গ হারিছেন এবং কাজ করার উপযুক্ত নন৷ আর অনেক শ্রমিক আছেন যারা এখনো মানসিকভাবে বিপর্যন্ত৷ তারাও কাজ করতে পারেন না৷ তারা সারাক্ষণ ভয়াক্রান্ত৷ তারা মনে করেন ভবন ভেঙ্গে পড়বে৷ দু:স্বপ্ন দেখেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘এখন আর সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসা নেই৷ তারা এমনিতেইতো নি:স্ব হয়ে গেছেন৷ এখন নিজেদের পকেট থেকে চিকিৎসার খরচ চালানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে৷ তাই আমাদের দাবি, সরকার যেন কোনো একটা উপায়ে তাদের ধারাবাহিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন৷ এখন তারা কোথাও আর ফ্রি চিকিৎসা পান না৷ কিন্তু তাদের আরো বছরের পর বছর চিকিৎসা লাগবে৷''

অ্যাকশন এইড তিন বছর ধরে আহতদের একটি অংশের জন্য মনোসামাজিক চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি, নতুন কাজে প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ করছে৷ তাদের পুনর্বাসনের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থাও করেছিল৷ কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলানায় অপ্রতুল৷ আর গত জুলাইতে তাদের সেই প্রকল্পও শেষ হয়ে গেছে৷

অ্যাকশন এইড গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নুজহাত জেবিন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই শ্রমিকরা এখন শারীরিকভাবে দুর্বল এবং তাঁদের ভীতি এখনো কাটেনি৷ ১১০ জন শ্রমিক পুরোপুরি শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেছেন৷ আরো সাতশ'র মতো আছেন গুরুতর আহতের তালিকায়৷ তাঁদের জন্য ধারাবাহিক একটি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷

 

কিন্তু আমরা যাঁদের নিয়ে কাজ করেছি, আমাদের প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আর ধারাবাহিক কোনো স্বাস্থ্য সেবার আওতায় নেই৷ কেউ কেউ আবার থাকতেও পারেন৷ কিন্তু এটাতো হলো রিকারিং ইনজুরি৷ একটা থেকে আরেকটা আসে৷ তাই তাঁরা সুস্থ হতে অনেক সময় নেবেন৷ তাঁদের ট্রমা থেকে বের করে আনতে আরো কাউন্সেলিং দরকার৷ সেটার কোনো ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেই৷'' CLICK IMAGE FOR AUDIO

তিনি বলেন, ‘‘তবে ট্রাস্ট ফান্ড থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮০০ জনের জন্য একটি স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্প এখনো চালাচ্ছে৷ আর ব্র্যাক গুরুতর আহত ১০৯ জনের জন্য একটি চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালাচ্ছে৷ কিন্তু এই হেলথ স্কিমের মধ্যে সাইকোস্যোশাল কাউন্সেলিংটা নেইা৷ এটা খুবই জরুরি৷ যারা এখনো ভয়-ভীতির মধ্যে আছেন তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য ব্যক্তিগত বা গ্রুপ কাউন্সিলিং দরকার৷ এখন প্রশ্ন উঠতে পারে কাউন্সিলিং কতদিন হবে৷ এটা আজীবন করা না গেলেও কয়েক বছর প্রয়োজন৷ দুই-চার মাসে হয়না৷''

তিনি বলেন, ‘‘এর সঙ্গে পুনর্বাসন জরুরি৷ কাউকে ভিন্ন পেশায় দেয়ার জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন৷ আবার একবারের প্রশিক্ষণে কেউ কেউ সঠিক জায়গায় নাও যেতে পারেন৷ তখন তার আবার নতুন স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে৷ সরকার যদি তাদের হেলথ কার্ড করে দেয়, আর তাদের সবাই যদি ডিজ্যাবিলিটি ভাতার আওতায় আসেন তাহলে বড় একটি কাজ হবে৷''

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ