২১ জুন ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ১৯ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ০৬ মে– ১৩মে ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 19 issue: Berlin, Monday 07May-13May 2018

শিক্ষক রেজাউল হত্যায় দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-05-08   সময়ঃ 05:24:55 পাঠক সংখ্যাঃ 44

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় জেএমবির দুই জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী পলাতক৷ তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে৷

রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার মঙ্গলবার দেয়া মামলার রায়ে বলেছেন, ‘‘মুক্তচিন্তার কারণেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যা করা হয়েছে৷ হত্যাকারীরা বাংলাদেশ খেলাফত প্রতিষ্ঠার ‘আদর্শে' কাজ করত৷ তারা মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক চিন্তাকে তাদের পথে বাধা মনে করত৷''

আদালত রায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম ও বগুড়ার শিবগঞ্জের মাসকাওয়াত হাসান ওরফে আব্দুল্লাহ ওরফে সাকিবকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে৷ শরিফুল ইসলাম অধ্যাপক রেজাউল করিমের ছাত্র ছিল৷ সে-ই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী৷ নীলফামারির মিয়াপাড়ার রহমত উল্লাহ, রাজশাহী মহানগরীর নারিকেলবাড়িয়া এলাকার আবদুস সাত্তার এবং তার ছেলে রিপন আলীকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷

হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শরিফুল ইসলাম পলাতক৷ বাকি চারজন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে ডয়চে ভেলেকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান৷

 

২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় রাবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে৷ তিনি ‘কোমলগান্ধার' নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতেন৷ ‘সুন্দরম' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনেরও উপদেষ্টা ছিলেন৷ তিনি একটি গানের স্কুল প্রতিষ্ঠারও চেষ্টা করছিলেন৷

হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর আট জনকে আসামি করে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রেজাউস সাদিক৷ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু  জানান, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে খায়রুল ইসলাম বাঁধন, নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান ও তারেক হাসান ওরফে নিলু ওরফে ওসমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন৷ তিনি জানান, ‘‘ রায়ে আদালত বলেছেন, এটা কোনো সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়৷ যারা হত্যা করেছে, তারা বাংলাদেশে খেলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়৷ তারা দেশের প্রচলিত ব্যবস্থা, গণতন্ত্র , মুক্তচিন্তা এগুলো মানে না৷ অধ্যাপক রেজাউল করিম  মুক্তচিন্তার মানুষ ছিলেন৷ সংস্কৃতি চর্চা করতেন৷ তিনি তাঁর গ্রামের বাড়িতে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ সেখানে মুক্তবুদ্ধির চর্চা হতো, গান হতো, সাংস্কৃতিক চর্চা হতো৷ এটা হত্যাকারীরা সহ্য করতে পারেনি৷ তাঁর বিভাগের শিক্ষক শরিফুল তাঁকে বলেছিল, এসব চলবে না স্যার৷ আদালত মনে করে এটা গণতন্ত্র এবং মুক্তবুদ্ধির ওপর হামলা৷''

 

তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবার অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি৷ পলাতক শরিফুলকে গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আদালত৷''

নিহত শিক্ষক রেজাউল করিমের মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি রায়ের পর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট৷ আমরা এখন এই রায়ের বাস্তবায়ন চাই৷ এই রায় যেন উচ্চ আদালতেও বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকরহ হয়৷ শরিফুল বাবাকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী৷ তার ফাঁসির আদেশ হলেও এখনো পলাতক৷ আমরা অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছি৷ তাকে যেন দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হয়৷ আদালতও শরিফুলকে মূল পরিকল্পনাকারী বলেছেন৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘ মুক্তচিন্তার জন্যই আমারবাবাকে হত্যা করা হয়েছে৷ আমার বাবাকে হত্যার সঙ্গে আরো অনেক হত্যাকাণ্ডই একইসূত্রে গাঁথা৷ তাই মুক্ত ও গণতান্ত্রিক চিন্তার পক্ষে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে৷ আমি লক্ষ্য করেছি, এখন অনেকে ভয় পান৷ কোনো একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে গেলে বলে, ‘না থাক, দরকার নাই৷' আমাদের এই ভয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে৷ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে হবে৷ ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলে চলবে না৷''

প্রসঙ্গত,  অধ্যাপক রেজাউল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শরিফুলকে ধরিয়ে দিতে রাজশাহী মহানগর পুলিশ দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল৷ কিন্তু তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি৷ পুলিশ ধারনা করছে, সে পাশের কোনো দেশে পালিয়ে গেছে৷

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ