২০ আগস্ট ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ২০ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১৪ মে– ২০মে ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 20 issue: Berlin, Monday 14May-20May 2018

‘এমন বন্ধু থাকতে শত্রুর কী প্রয়োজন!'

ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি ইরান সংকটের ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছে

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-05-17   সময়ঃ 19:09:39 পাঠক সংখ্যাঃ 74

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিলসহ একধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের আলোকে ইউরোপে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি বৈরি মনোভাব দেখা যাচ্ছে৷ বিশেষ করে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি ইরান সংকটের ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছে৷ 

ওয়াশিংটন একতরফাভাবে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করার ফলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি আর কূটনীতির উপর ভরসা করতে পারছে না৷ অ্যামেরিকাকে ছাড়াই পরমাণু চুক্তি চালু থাকবে, এমন আশা ক্রমশঃ ক্ষীণ হয়ে পড়ছে৷ ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিদেশি কোম্পানিগুলিকেও রাখা হবে, এমন সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে৷ তিন থেকে ছ'মাসের মধ্যে এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে৷ ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ বজায় রাখতে ইরান থেকে বিনিয়োগ গুটিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় করছে অনেক কোম্পানি৷

ফ্রান্সের জ্বালানি কোম্পানি টোটাল বুধবার এমন ইঙ্গিত দিয়েছে৷ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে না পারলে তারা ইরানে কয়েক কোটি ডলার অঙ্কের এক গ্যাস প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসার কথা ভাবছে৷ ডেনমার্কের মেয়ার্স্ক ও জার্মানির আলিয়ানৎস কোম্পানিও ইরানে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার কথা ভাবছে৷

ইরান এতকাল এই প্রকল্পটিকে পরমাণু চুক্তির সাফল্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে৷ প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি আশা করছিলেম, যে এই দৃষ্টান্ত দেখে অন্যান্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলিও ইরানে বিনিয়োগ করতে উৎসাহ পাবে৷ কিন্তু গোটা পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে পড়ার মুখে৷ এই অবস্থায় ইরান তার কর্মসূচি আবার পুরোদমে চালু করার হুমকি দিয়েছে৷ 

বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা এই সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন৷ ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু কঠিন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তার আলোকে প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন বন্ধু থাকতে শত্রুর কী প্রয়োজন!

ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা রক্ষা করতে ইউরোপীয় নেতারা কোনো চটজলদি সিদ্ধান্ত নেন নি৷ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার ইউরোপীয় বিনিয়োগের সুরক্ষার কিছু বিকল্প পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন৷ যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর পালটা নিষেধাজ্ঞা চাপানো যেতে পারে৷ ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংককে সরাসরি ইরানে বিনিয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে৷ এছাড়া ইউরোপীয় অভিন্ন মুদ্রা ইউরো ব্যবহার করে ইরানকে যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, ইউরোপের সরকারগুলি সে ক্ষেত্রে সমন্বয় করে চলতে পারে৷ তবে মঙ্গলবার জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই মর্মে কোনো গ্যারেন্টি দিতে পারেন নি৷ আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় এক বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে আলোচনা হবে৷ রাশিয়াও তাতে অংশ নেবে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি বিষয়ক কমিশনর আগামী ১৮ থেকে ২১শে মে ইরান সফর করছেন৷

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগে ইরান চুক্তির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকা নিয়ে যে সংশয় রয়েছে, চুক্তির মধ্যে থেকে তেহরানের নেতৃত্বের সঙ্গে সে বিষয়ে সংলাপ চালানো অনেক সহজ কাজ৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, এএফপি)

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ