২১ জুন ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ২১ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ২১ মে– ২৭মে ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 21 issue: Berlin, Monday 21May-27May 2018

গাছেরও খাবে, তলারও কুড়াবে ভারত

নরেন্দ্র মোদী চা ওয়ালা থেকে প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-05-27   সময়ঃ 17:21:25 পাঠক সংখ্যাঃ 42

অনিশ্চয়তার যেমন চ্যালেঞ্জ আছে, তেমন সম্ভাবনাও আছে৷ ভারত বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি থেকে যতটা সম্ভব ফায়দা তুলতে চাইছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পররাষ্ট্র নীতি দেখে অনেকটা নৃত্যশিল্পীর জটিল অঙ্গচালনার মতো মনে হচ্ছে৷

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করতে রাষ্ট্রপ্রধানেরা একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, যা পুরোদস্তুর আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়৷ গত মাসে মোদী চীনের নেতা শি জিনপিং-এর সঙ্গে এমনই বৈঠক করেছেন৷ সোমবার সোচিতে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে আলোচনা করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী৷ আজকের রাশিয়া গত শতকের সোভিয়েত ইউনিয়ন নয়, যার সমর্থন সঙ্গে আছে বলে ভারত ধরে নেবে৷ যদিও এই দু'টি দেশ সম্পর্কে উষ্ণতা ধরে রাখতে চাইছে৷ অস্ত্রের ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে ভারত৷ এদিকে রাশিয়াও ধীরে ধীরে পাকিস্তানের সঙ্গে  নতুন সম্পর্ক স্থাপন করছে৷ রাশিয়া পাকিস্তানকে সামরিক পরিবহণের জিনিসপত্র বিক্রি করতে রাজি হওয়ায় তার লক্ষণ মিলেছে৷ অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ সামরিক সম্পর্ক আর একধাপ দূরে৷ তবু মোদী যখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত বোঝাপড়া' বলেন, তখন তার তাৎপর্য তো রয়েছে৷

এই সফর নিয়ে ইকোনমিক টাইমসে দীপাঞ্জন রায়চৌধুরী লিখেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এমন এক সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সহমত হয়েছেন, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্লক বা শিবিরের অধীন থাকবে না৷ একইসঙ্গে ভারত এই এলাকায় নিয়মমাফিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অ্যামেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কাজ করে যাবে৷

মোদী ও পুটিনের আলোচনার ফলশ্রুতি কী, সেটা এখনই পুরোটা বোঝা যাবে না৷ তবে এটা অনুমান করা যায়, রাশিয়ার উপর চাপানো অ্যামেরিকার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা হয়েছে৷ রাশিয়ার কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে যে দেশগুলির, তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা ও তার ফল নিয়েও কথা হতে পারে৷ অ্যামেরিকার ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টিও ভারত ও রাশিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় কোনো পক্ষকেই স্বস্তিতে রাখেনি৷ ইউরোপ বরাবরই অ্যামেরিকার বন্ধু, এবং তারা পুটিনের কাজকর্মে সন্দিহান৷ ২০০০ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিন্টনের ভারত সফরের পর দুই দেশ কাছাকাছি এসেছে৷ ভারতকে অ্যামেরিকা-রাশিয়া-চীনের সম্পর্ককে মাপতে হচ্ছে৷ কেননা ট্রাম্প এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে বিশ্বের নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক মহাশক্তি হিসেবে চীনের উত্থানকে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না৷

লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক হর্ষ ভি পান্ট এই প্রসঙ্গে বলেন, মনে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের কাজকর্ম রাশিয়া-ভারত-চীন এই ত্রিদেশীয় সম্পর্ককে পুনরায় চাঙ্গা করল, যেটা অপেক্ষাকৃতভাবে অযৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে৷ তবে এটা ভারতকে রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে বিশ্বজনীন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করতে সাহায্য করবে৷   

 

পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তার ভূমিকা সত্ত্বেও ভারত চায় না চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে এটার প্রভাব পড়ুক৷ সাংহাই কো অপারেশন অর্গানাইজেশন-এ ভারতের সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিল রাশিয়া৷ এই সম্পর্কটাকে ভারত তার বিদেশ নীতির লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করতে চাইছে৷ সেই জন্য মোদী তাঁর পূর্বসূরি অটলবিহারী বাজপেয়ির কথা বলেছেন৷ প্রাক্তন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী চেয়েছিলেন, রাশিয়া শক্তিশালী দেশ হিসেবে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিক৷ এটা অ্যামেরিকা ও চীনকে ভারতের এই বার্তা যে, একটি শক্তিশালী দেশের রাজত্বের দিন আর নেই, ঠান্ডা যুদ্ধের পরবর্তী বিশ্বে অনেক শক্তিশালী দেশ রয়েছে৷

ভারত এখনও বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে৷ ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ করে রাশিয়ার কাছ থেকেভারত সামরিক হার্ডওয়্যার এবং উন্নত অস্ত্রকিনতে উদ্যোগী৷

গত পাঁচ বছরে রাশিয়ার কাছ থেকেই ৬২ শতাংশ প্রতিরক্ষা আমদানি করেছে এই দেশ৷ এই সম্পর্ক দু'দেশের কাছেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ৷ ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে অ্যামেরিকার নীতিতে অবিশ্বাসের কারণে উভয়েই এই সম্পর্ক নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহী এবং তা বজায় রাখতে শেষ চেষ্টা অবধি করতে পারে৷ এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে সোচিতে মোদীর একদিনের ঝটিকাসফর এবং পুটিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা সবই ইন্ধনের আশা জোগাচ্ছে৷

নরেন্দ্র মোদী চা ওয়ালা থেকে প্রধানমন্ত্রী

 

১৯৫০ সালে গুজরাটের নিম্নবিত্ত এক ঘাঞ্চি পরিবারে জন্ম নেয়া নরেন্দ্র মোদী কৈশরে বাবাকে সাহায্য করতে রেল ক্যান্টিনে চা বিক্রি করেছেন৷ ঘাঞ্চি সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী ১৭ বছর বয়সে যশোদাবেন নামের এক বালিকার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়, যদিও বেশিদিন সংসার করা হয়নি৷ ছাত্র হিসেবে সাদামাটা হলেও মোদী বিতর্কে ছিলেন ওস্তাদ৷ ১৯৭১ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর প্রচারক হিসাবে রাজনীতির দরজায় পা রাখেন মোদী৷


 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ