১৮ অক্টোবর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ২৮ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ০৯জুল–১৫জুল ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 28 issue: Berlin, Monday 09Jul-15 Jul 2018

আবার ছাত্রলীগের হামলা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্তত ১৩ জন নেতা এখন কারাগারে আছেন

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-07-15   সময়ঃ 18:45:32 পাঠক সংখ্যাঃ 68

কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর আবারো হামলা হয়েছে৷ হামলা থেকে চারজন শিক্ষকও রেহাই পাননি৷ হামলার শিকার একজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন৷

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘আমার মনে হয়েছে হামলাটি পূর্ব পরিকিল্পিত৷ কারণ, যখন আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিলো, তখন ভিসি ও প্রক্টর দু'জনকেই ফোন করি৷ কিন্তু তাঁদের মেবাইল ফোন বন্ধ ছিল৷ কিন্তু হামলা শেষ হওয়ার পর আমি প্রক্টরকে ফোনে পাই৷ তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য উল্টো আমাদেরই দায়ী করেন৷ তাঁর এই কথা আমাকে মানসিক পীড়ণের মধ্যে ফেলে দিয়েছে৷''

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘‘মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আমাদের ঘিরে ফেলে৷ পরে আমরা রাজু ভাস্কর্যের দিকে যাওয়ার পথে শিববাড়ি মোড়ে শেখ রাসেল টাওয়ারের সামনে গেলে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের লাঞ্ছিত করে৷''

CLICK IMAGE FOR AUDIO

শিক্ষার্থী রাফিয়া তামান্না বলেন, ‘‘তারা প্রথম থেকে আমাদের মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে৷ তারা আমাদের শিক্ষকদের জামায়াত-শিবির বলে অপমান করেছে৷ আমরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় হামলা চালায়৷ সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা করে৷ এসএম হলের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সায়েম সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে৷ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে৷'' 

হামলার শিকার চাটার্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা তুহিন ফারাবি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ছাত্রলীগের  চিহ্নিত নতা-কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই হামলা চালায়৷ আমাকে প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে পাশে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়৷  আমাকে ছাত্রলীগ আগেই টার্গেট করে৷ কারণ, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা গ্রেপ্তার ও হামলার শিকার হওয়ার পর আমি প্রকাশ্যে আন্দোলন সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলাম৷''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানি ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করতে কেউ আমাদের পূর্বানুমতি নেয়নি৷ ফলে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়৷ আমরা প্রক্টরিয়াল বডি'র চারজন সদস্যকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তথ্য নিয়েছি৷ তাতে আমাদের মনে হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করার এক ধরনের ইন্ধন আছে৷''

 

ড. তানজিম উদ্দিনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে৷ একজন সহকর্মী হিসেবে তাঁকে আমি যথেষ্ট সম্মান দিয়ে কথা বলেছি৷ তবে তিনি আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি৷ পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি তাঁদের সহযোগিতা পাইনি৷'' 

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা এখন আর মাঠে নামতে পারছেন না৷ তাঁদের ওপর দফায় দফায় হামলার পর এখন  প্রতিবাদ সমাবেশেও হামলা হচ্ছে৷

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্তত ১৩ জন নেতা এখন কারাগারে আছেন৷ তাঁদের রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে৷ আহতরা কোনো হাসপাতালে চিকিৎসাও পচ্ছেন না৷ আর যাতে তাঁরা রাস্তায় নামতে না পারেন, তার জন্য হুমকি অব্যাহত আছে৷

অনেক পিটুনি, ধরপাকড়ের পর সামান্য অগ্রগতি

আন্দোলনের শুরু

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু হয়৷ সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০, জেলা ১০, নারী ১০ এবং উপজাতিদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা বরাদ্দ আছে৷ এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে এক শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে৷ এই কোটা ব্যবস্থায় সংস্কার আনার দাবিতে আন্দোলন করছিল শিক্ষার্থীরা৷

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ