১৯ অক্টোবর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ৩১ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ৩০জুল–০৫অগা ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 31 issue: Berlin, Monday 30Jul-05Aug2018

ছাত্র আন্দোলন অভিভাবকরাও পাশে আছেন

বৃহস্পতিবার সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছিল

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-08-02   সময়ঃ 00:23:10 পাঠক সংখ্যাঃ 65

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ৷ তাঁরা শিক্ষার্থীদের পানি এবং খাবার দিচ্ছেন৷ এদিকে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন নিয়ে চলছে আলোচনা৷ পরিবহণ মালিকরাও এই আইনে সমর্থন দিয়েছেন৷

বৃহস্পতিবার সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়৷ স্কুল কলেজ বন্ধ ছিল ঠিকই৷ তবে শিক্ষার্থীরা স্কুল ড্রেস পরে সকাল থেকেই তৃতীয় দিনের মতো রাস্তায়নেমে আসেন৷ তাদের দাবি, ‘‘নিরাপদ সড়ক চাই, বিচার চাই৷'' তারা সোমবার বাসের চাকায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান৷

রবিবার দুপুরে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উলটো দিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়৷ দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহণের একটি বাস তাদের চাপা দিলে নিহত হন তারা৷ নিহতরা হলেন দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম৷

শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার ঢাকার শান্তিনগর, মানিক মিয়া এভিনিউ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, শাহবাগসহ ঢাকার প্রায় প্রতিটি সড়কে অবস্থান নেন৷ তারা তাদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে যানবাহনের ফিটনেস এবং নিবন্ধন ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করেন৷ বিভিন্ন স্পটে তারা অবৈধ গাড়ি আটক করে ট্রাফিক পুলিশের হাতে তুলে দেন মামলার জন্য৷ তাদের এই কর্মসূচিতে পুলিশ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, এমনকি সংবাদমাধ্যমের গাড়িও আটক হয়৷ পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর গাড়ি চালকের লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায়, তাকেও ধানমন্ডি এলকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়৷

ছাত্রদের এই আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালে মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বসচার খবর পাওয়া যায়৷ এমনকি সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় একজন ট্রাফিক সার্জেন্টকে মারধোর ও তার মোটর বাইক পুড়িয়ে দেয়ার অভেযোগও পাওয়া যায়৷

এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বাবা-মা এবং সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে দেখা গেছে৷ সায়েন্স ল্যাবরেটরি, মানিক মিয়া এভিনিউ এবং শান্তিনগর এলাকায় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার ও পানি বিতরণ করেন৷ সেরকমই একজন অভিভাবক জামালউদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের সন্তানরা সঠিক দাবি নিয়েই রাস্তায় নেমেছে৷ তাই আমরাও তাদের সাথে আছি৷ তিনি বলেন, ‘‘শিশুরা স্কুলে যাওয়ার সময় ভয়ে থাকি, কখন না জানি কী হয়৷ সরকারে উচিত সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা৷ এভাবে তো চলতে পারে না৷''

একজন শিক্ষার্থী সোহেল আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নিরাপদ সড়কের দাবি দেশের সব মানুষের৷ এটা শুধু আমাদের দাবি নয়৷ তাই সবার উচিত রাস্তায় নেমে আসা৷ আমাদের ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না৷''

এদিকে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান শুক্রবার আবারো বলেন, ‘‘আমি পদত্যাগ করব না৷ আমার পদত্যগের দাবি বিএনপির৷ বিএনপির দাবিতে পদত্যাগ করব না৷ ছাত্ররা আমার পদত্যাগ দাবি করেনি৷''

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বলা হয়ে, ‘‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু কুচক্রী মহল বিভিন্ন নিউজপোর্টালের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বিকৃত, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করছে৷ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সব বানোয়াট সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে৷ বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তা প্রচার করা হচ্ছে৷ এ সব সংবাদের কোনো ভিত্তি নেই৷ তাই এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে৷''

এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করছি তারা যেন কারও উসকানিতে কান না দেয়৷ সবাইকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে, নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছি৷ কোমলমতি শিশুরা যেন কোনো অপপ্রচারে কান না দেয়, বিভ্রান্ত না হয়৷ আমরা তাদের সব দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি৷ ইতোমধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের কাজ শুরুও হয়েছে৷''

নিহত মিম ও রাজুর পরিবারকে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ লাখ টাকা করে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন৷ তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন৷

নতুন আইন

জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই নতুন সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ পাশ হবে৷ আইন মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে সম্মতি দিয়েছে৷ জানা গেছে, নতুন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে৷ চালকের সহকারীরও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া থাকতে হবে৷ এছাড়া সহকারী হতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নিতে হবে৷ গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে৷ আর পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর৷ নতুন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া যাবে৷

চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়৷ তাছাড়া চালকদের জন্য পয়েন্ট সিস্টেম থাকবে৷ মোট ১২ পয়েন্টের মধ্যে কারুর পয়েন্ট যদি শূন্য হয়ে যায় তাহলে তার লাইসেন্স বাতিল হবে৷

দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধিতে তিন রকমের বিধান আছে৷ নরহত্যা হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের সাজা হবে৷ খুন না হলে ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে৷বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কাউকে নিহত বা আহত করলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী সাজা হবে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইন গুরুত্বপূর্ণ৷ তবে তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যবস্থাপনা৷ তিনি বলেন, নতুন আইনে যা আছে তা উন্নত বিশ্বে আগে থেকেই আছে৷ কিন্তু যারা আইন তৈরি করেন, তারাই মানেন না৷ পরিবহণ খাতে অনেকে আছেন, যারা সরকারে আছেন৷ আর সেটাই সমস্যা৷''

এদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এআরআই)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সড়ক নিরপত্তার ব্যাপারে আমাদের করা দু'টি প্রকল্প এখন সরকারের হাতে রয়েছে৷ আমরা মনে করি ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চালাতে হবে৷ আর হাইওয়েতে স্পিড মিটার বসালে সড়ক দুর্ঘনা অনেক কমে যাবে৷ আইন পরের কথা৷''

ওদিকে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির চেয়ারম্যান খন্দকার এনায়েতউল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা নতুন আইনকে স্বাগত জানাই৷'' তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘দেশে চালকদের প্রশিক্ষণের কোনো প্রতিষ্ঠান নাই৷ কিন্তু গাড়ি বাড়ছে৷ তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং অদক্ষ চালকও বাড়ছে৷ ফিটনেস ছাড়া গাড়ি সড়কে কীভাবে চলে – সেটাই আমারো প্রশ্ন৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা নিজেরাই এরই মধ্যে গাড়ির ফিটনেস, কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা শুরু করেছি৷''

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ