২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ৩৩ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১৩অগা–১৯অগা ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 33 issue: Berlin, Monday 13Aug-19Aug2018

আজ জাতীয় শোক দিবস

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো দিন আজ

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2018-08-15   সময়ঃ 07:07:52 পাঠক সংখ্যাঃ 98

আজ আমার এই প্রতিবেদনটি একটু ব্যতিক্রমী। গত কয়েকদিন ধরে অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করেছি, এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যে কাহিনী খোঁজার চেষ্টা করেছি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বর্বর ঘাতকরা বাঙালির ইতিহাস, ঐতিয্য, সংস্কৃতি ও বাঙালিত্বের চেতনা তথা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী চক্র বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার, জাতির হাজার বছরের সংগ্রাম ও সাধনার সূত্রধর, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে রাতের অন্ধকারে সপরিবারে হত্যা করে। যে বিশ্বাসঘাতক এই হত্যাযজ্ঞের খলনায়ক তার নাম খন্দকার মোশতাক আহমেদ, বঙ্গবন্ধুর একান্ত কাছের মানুষ।

চার দশকের বেশি ধরেই এই দিনে অশ্রুসিক্ত নয়নে শোকাহত বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর মহাপ্রয়াণ স্মরন করি বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু মুল রহস্য এখনো অজানাই রয়ে গেছে, হয়নি কোন একাডেমিক রিসার্চ , হয়নি কোন সত্যিকারের অনুসন্ধান, যা হয়েছে তা নিতান্তই পক্ষ বিপক্ষের রাজনৈতিকরণ।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কর্নেল রশীদ ও কর্নেল ফারুক সহ ১০ জনের ফাঁসির রায় হয়েছে, ৫ জনের রায় কার্জকর হয়েছে, সেটা আমরা সকলেই দেখেছি, সে ব্যপারে অসংখ্য লেখাও হয়েছে। তারা আমার কাছে ছুঁচো হত্যাকারী মাত্র। মোশতাকের ষড়যন্ত্রকারী গঙের সাথে আর কে কে ছিলো, সেটাই আজকের এই অনুসন্ধানী চোখ খুজছে!

আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার চূড়ান্ত নীল নকশা করা হয়। খন্দকার মোশতাকের বাসায় বেশ কয়েকবার বৈঠক করেন কর্নেল রশীদ। মোশতাক তখন বঙ্গবন্ধুর বাণিজ্যমন্ত্রী থাকলেও মূলত মুক্তিযুদ্ধে পরাজিতদের নেতা ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার হিংসা বিদ্বেষ আওয়ামী লীগের সৃষ্টি লগ্ন থেকেই ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দিন আহমেদের সাথে কনফ্লিক্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাত মিলিয়ে আপোষ করার নীতি মুজিবনগর সরকার মেনে নেয়নি।

১৫ আগষ্ট বর্বরোচিত হত্যার পর ঢাকা রেডিও’র প্রচারে আর এক হত্যাকারী মেজর ডালিম বলে - সেনাবাহিনী মুজিব সরকারকে উৎখাত করে দেশের স্বার্থে তাকে বন্দি করেছে। একটু পরে আরেকটি ঘোষণা দিয়ে বলা হয়। সেনাবাহিনী ক্ষমতা অধিগ্রহণের সময় উচ্ছেদকৃত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছেন ! খন্দকার মোশতাক এখন রাষ্ট্রপতি।

আমেরিকান অ্যাম্বাসেডর বোস্টারকে সেদিন সকালে অফিসে এবং বাসায় কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন থেকে যায়, এত সকালে বোস্টার কোথায় গিয়েছিলেন?
মুজিব হত্যার আরেক ষড়যন্ত্রকারী মাহবুবুল আলম চাষী ১৩ই আগস্ট কুমিল্লা থেকে উধাও হয়ে যান। কুমিল্লা একাডেমীতে তার সহকর্মীরা ভেবে পাচ্ছিলেন না, চাষী কাউকে কিছু না বলে কোথায় গেলেন। সেই চাষীকে ১৫ই আগস্ট সকালে মোশতাক ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের সাথে ঢাকার রেডিও স্টেশনে যায়। এই তিন ষড়যন্ত্রকারী যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ নস্যাৎ করে যুদ্ধবিরতির পাঁয়তারা করছিলো, তারা এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের সেই মহাপরাজয়ের প্রতিশোধ তুললো।

কে এই মাহবুবুল আলম চাষী, তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধর সময় মোশতাকের পররাষ্ট্র সচিব ছিলো এবং মার্কিনী সহায়তায় পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন করতে চেয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডে অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে তাকে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তিতে পল্লী উন্নয়নে অনন্য সাধারণ অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে তাকে “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয়। এছাড়াও সকল খুনী দেরকে পুরস্কৃত করে পরবর্তী সরকার।

ফিরে আসি ষড়যন্ত্রকারীদের তালিকায়। তাহের উদ্দিন ঠাকুর এর আগে বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটের একজন মন্ত্রী, তিনিও মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়েছেন।

১৫ অগাষ্ট থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ অবদি মাত্র ৮৩ দিনের মোশতাকের কেবিনেটের যারা ছিলেন তাদের ভুমিকা কি ছিলো?
ইউসুফ আলী, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষামন্ত্রী, মোশতাকের পরিকল্পনা মন্ত্রী হয়। ফনীভূষন মজুমদার, বঙ্গবন্ধুর খাদ্যমন্ত্রী, পরে মোশতাকের মন্তীসভায় যোগ দেয়, আর সবচেয়ে অবাক হই যখন দেখি আবু সাইদ চৌধুরী, যিনি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং জেনেভায় জাতীসংঘে প্রতিনিধী, তিনি মোশতাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন।

এব্যপারে ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার লেখা "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ" বইটি থেকে উদ্ধৃতি দেইঃ
সকলেই জানেন, বঙ্গবন্ধু যখন নিহত হন তখন রেহানা আর হাসিনা বাচ্চাদের সহ জার্মানি তে ছিলেন, ডঃ ওয়াজেদ লিখছেন - ১৫ অগাস্ট আমাদের ব্রুসেলস থেকে প্যারিস যাওয়ার প্ল্যান ছিল, বন থেকে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ফোন করে এই মুহুর্তে বনে ফিরে আসার তাগাদা দিলেন, তিনি জানালেন গত রাত্রে ঢাকার আর্মি কু হয়েছে, সম্ভবতঃ বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। আমরা জার্মানির ততকালিন রাজধানী বন শহরে ফিরে এলাম, সকলেই শোকে শোকাচ্ছন্ন, এরই মাঝে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ কামাল হোসেন যুগোস্লাভিয়া থেকে দেশে ফেরার পথে জার্মানিতে দুতাবাসে এসেছেন, তিনি তাতখনিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিলেন মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দেবেননা। অথচ জেনেভা থেকে আবু সাইদ চৌধুরী গেলেন মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে।

আরো অবাক করা ঘটনা, মোশতাক স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হয়েই ৪ জাতীয় নেতাকে গ্রেফতার করে যার প্রথমেই তাজউদ্দিনের নাম, অথচ তাজউদ্দিন এক বছর আগেই বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পরেছে, 'বাকসাল' কেন্দীয় কমিটতে নেই এক্সিকিউটিভ কমিটিতেও নাই। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা মনে আছে কি?

তাজউদ্দিন অর্থমন্ত্রী হিসেবে এক বিদেশ সফরে বাংলাদেশের যে ইমেজ দেখে এসেছিলেন তাতে তাঁর মন ভেঙে গিয়ে, এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন 'বাইরে গেলে বাংলাদেশকে চেনা যায়', তাই তাজউদ্দিন কে বাদ দিয়ে যে অর্থমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলো তাঁর নাম এ আর মল্লিক, তিনিও মোশতাক এর মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়।

এমনি করে হিসেব করলে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার ১৬ জন সদস্য, মোশতাক এর মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়। বাংগালী জাতী জাতির পিতার হত্যাকারী দের বিচার দেখেছে, রায়ের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসিও দেখেছে, কিন্তু ৪৩ বছরেও সত্য উদঘাটন কি হয়েছে? ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন কি হয়েছে?

৭৫’ এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরেও মোশতাক এর নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা আবার বাংলাদেশকে পুরোপুরি রাজনৈতিক মেধা শূন্য করার পরিকল্পনা নেয়৷ আর তাই ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে জাতীয় ৪ নেতাকে৷

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ