২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ৩৩ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১৩অগা–১৯অগা ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 33 issue: Berlin, Monday 13Aug-19Aug2018

পাহাড়ে কেন বার বার রক্ত ঝরে?

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে এই পরিস্থিতি হতো না

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-08-19   সময়ঃ 02:20:16 পাঠক সংখ্যাঃ 28

আবারো পাহাড়ে রক্ত ঝরল৷ শনিবার খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ-এর একটি কর্মসূচিতে সশস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন৷ আর হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে জেএসএস নামে পাহাড়ের আরেকটি সংঠনকে৷

এ নিয়ে গত ১০ মাসে পাহাড়ে ৩৭ জন নিহত হলেন৷ পুলিশ এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রবিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি৷ কোনো মামলাও হয়নি৷ তবে সন্ত্রাসীদের ধরতে ওই জেলায় যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে৷ হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে পাহাড়ে সক্রিয় সংগঠনগুলোর কোন্দলকেই দায়ী করা হচ্ছে৷

শনিবারের হামলার ঘটনা ঘটে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খাগড়াছড়ি শহরের স্বনির্ভর বাজার এলাকায়৷ পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ি সংগঠন ইউনাটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) লোকজন একটি কর্মসূচি উপলক্ষে জড়ো হচ্ছিলেন৷ এ সময় অতর্কিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়৷ দুই পক্ষের মধ্যে এলোপাতাড়ি গোলাগুলি হয়৷ এ সময় ইউপিডিএফ সদস্য ও সাধারণ মানুষ হতাহত হন৷ ঘটনাস্থলেই ছয় জন নিহত হন৷ পরে আরো একজন হাসপাতালে মারা যান৷

 

পাহাড়িদের সংগঠনগুলো দুইভাবে বিভক্ত৷ শান্তিচুক্তির পক্ষ-বিপক্ষ ইস্যুতে ২০০৯ সালে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ভেঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা ) নামের আরেকটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে৷ মূলতঃ নেতৃত্বের কোন্দলেই এই বিভক্তি৷ দু'টি গ্রুপই শান্তি চুক্তির পক্ষের৷

অন্যদিকে, ১৯ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের দাবিতে গঠিত ইউনাটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) গত বছরের নভেম্বরে দুই ভাগ হয়ে যায়৷ নতুন অংশ ইউপিডিএফ-গণতন্ত্র নামে পরিচিতি পায়৷ তারা পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবি থেকে কিছুটা সরে এসে শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন দাবি করে৷

পাহাড়ে এখন এই চারটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন সক্রিয়৷ তারা আবার পরস্পরের প্রতিপক্ষ৷ রাঙামাটির সংবাদিক জিয়াউল হক জিয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মূলত নেতৃত্বের কোন্দলেই দু'টি সংগঠন ভেঙে চারটি হয়েছে৷ 

 

পাহাড়ে মানুষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আর তাদের আন্তঃকোন্দলের শিকার হচ্ছেন৷ প্রভাব বিস্তার নিয়ে কিছু দিন পরপর খুন, গুম ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে৷''

শনিবারের হামলা ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ইউপিডিএফ দাবি করেছে যে, জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা ) এই হামলা চালায়৷ তাদের সঙ্গে ইউপিডিএফ-গণতন্ত্র'র লোকজন ছিল৷ ইউপিডিএফ-এর প্রচার সম্পাদক নিরণ চাকমা ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন যে, তারা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই হামলা চালানো হয়৷

নিরণ বলেন, ‘‘তাদের গাড়িতে করেই আসে৷ কারণ তারা যে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি করছে তা বানচাল করতে চায়৷'' তাঁর দাবি, এ পর্যন্ত আরো যত হামলা হয়েছে সেই সব হামলাও এরা করেছে৷

এর জবাবে জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা ) প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত ত্রিপুরা অভিযোগ অস্বীকার করেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘শনিবারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমাদের সংগঠন জড়িত না৷ ওই হত্যাকান্ড ঘটেছে ইউপিডিএফ-এর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে৷ আমাদের হেয় করার জন্য আমাদের দায়ী করা হচ্ছে৷ আমাদের নেতা-কর্মীরাও এর আগে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে৷''

 

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১০ মাসে একের পর এক হামলা-পালটা হামলার ঘটনায় পাহাড়ে ৩৪ জন নিহত হয়েছে৷ বেশির ভাগ ঘটনায়ই থানায় কোনো পক্ষ কোনো মামলা করেনি৷

২০১৭ সালের নভেম্বরে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে নতুন সংগঠন আত্মপ্রকাশের পর থেকেই পাহাড়ে হত্যার ঘটনা বাড়ছে৷ এই সময়ে প্রসীত খীস্যার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ-এর ২৪ জন এবং জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর ১৬ নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন৷

শনিবারের হামলার আগে গত ৩ মে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস (এমএন লারমা)-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমা খুন হন৷ শক্তিমান চাকমা ছিলেন দলটির অন্যতম প্রধান নেতা৷ আর তার শেষকৃত্যে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে নিহত হন পাঁচজন৷

এদিকে, জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা ) প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত ত্রিপুরা বলেন, ‘‘আমাদের সংগঠনের যাদের হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারে আমরা মামলা করেছি৷ অন্যরা করেছে কিনা জনিনা৷''

 

খাগড়াছড়ির শনিবারের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশ সুপার আলি আহমদ খান ডয়চে ভেলেকে বলে, ‘‘আমরা অপেক্ষা করছি৷ কেউ মামলা না করলে পুলিশ মামলা করবে৷ এই হত্যাকাণ্ডে ইউপিডিএফ-এর প্রতিপক্ষরা জড়িত৷ আমরা নিরাপত্তা জোরদার করেছি৷ নিহতদের পোস্টমর্টেম ও শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করেছি৷''

আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গত ১০ মাসে ৩৪ জন নন, ৩৭ জন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন পাহাড়ে৷ আর এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে দলগুলোর মধ্যে নানা কোন্দলে৷ কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷ পাহাড়ে রক্ত ঝরছেই৷''

তিনি বলেন, ‘‘শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে এই পরিস্থিতি হতো না৷ এটা পূর্ন বাস্তবায়ন না করায় এটাকে কেন্দ্র করেই পাহাড়ে নানা গ্রুপ-উপগ্রুপ সৃষ্টি হচ্ছে, বা সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ পাহাড়কে অশান্ত করা হচ্ছে৷ শান্তিচুক্তি'র পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এটা থামবে না৷''

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ