২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ৩৪ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ২০অগা–২৬অগা ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 34 issue: Berlin, Monday 20Aug-26Aug 2018

যেখানে রাজনীতিই নেই, সেখানে সমস্যা রাজনৈতিক হবে কেন?

আফসান চৌধুরী

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-08-20   সময়ঃ 01:41:49 পাঠক সংখ্যাঃ 44

দেশে মাঝে মধ্যেই ক্ষোভ বড় বড় বিক্ষোভ হয়ে উঠছে৷ তা ছড়িয়ে পড়ছে রাজপথে৷ কেন হচ্ছে এমন? ডয়চে ভেলের সঙ্গে এ বিষয়েই সবিস্তারে কথা বলেছেন শিক্ষক-সাংবাদিক আফসান চৌধুরী৷  

ডয়চে ভেলে: দেশে কিছুদিন ধরে হঠাৎ হঠাৎ বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করছে, এর কারণ কী?

আফসান চৌধুরী: বিক্ষোভ বিক্ষোভই৷ এটা ছোট-বড় হয় না৷ ক্ষোভ থেকেই তো বিক্ষোভ৷ আমাদের দেশে এখন একটা সংকটাপন্ন অবস্থা নিশ্চয়ই চলছে৷ এর মধ্যে ক্ষোভটা এভাবেই প্রকাশ হয়৷ আমাদের সমস্যাগুলো হলো কাঠামোগত সমস্যা৷ এটা কিন্তু রয়েই যাচ্ছে৷ আমার মতে, জনপ্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয়টি বারবার আসে৷ এসব কারণে আমাদের কাছে মনে হয়, ছোট বিক্ষোভ বড় হচ্ছে৷ তবে এসব বিক্ষোভের অধিকাংশই কিন্তু নগরকেন্দ্রিক৷ এটা স্মরণে রাখলেই বিষয়টা বুঝতে সুবিধা হবে৷

সরকারের উপর কি মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে?

CLICK IMAGE FOR AUDIO

বিষয়টা রাজনৈতিকভাবাপন্ন মানুষ এটাকে সরকারের উপর নিয়ে যাচ্ছে৷ আমরা যে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোটা দাঁড় করিয়েছি, সেটার সঙ্গে সরকারের কোনো বিষয় নেই৷

এই সরকার না, যে সরকারই ক্ষমতায় থাক, তারা এটা থেকে বের হতে পারবে না৷ এই সমস্যার সমাধান করা প্রায় অসম্ভব৷ এটা সারতে হলে দীর্ঘদিন লাগবে৷ এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে তাদের উপর দোষ দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে৷ এটা আমাদের রাজনীতিভাবাপন্ন মানুষের সীমাবদ্ধতা৷ আমাদের পরিবহন সমস্যা আর চাকরির সমস্যা এটা কোনো সরকার সমাধান করেনি৷ মধ্যবিত্তের চাকরির যে সমস্যা, তারা নিজেরাই সমাধান করার চেষ্টা করেছে৷ তারা বিদেশে গিয়ে কাজ করছে৷ এটা এখন শহরে প্রকট আকার ধারণ করেছে৷ এই আন্দোলনটাও মধ্যবিত্ত শ্রেণির৷ গ্রামের মানুষ ভালো আছে৷ উচ্চবিত্তরাও আরো বেশি টাকার মালিক হচ্ছে৷ মধ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেণি সংকটে পড়ে আছে৷ এর সঙ্গে সরকারের কোনো কিছু নেই৷ থাকলে এটা রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে সমস্যা আছে৷

এক ধরনের পরাধীনতা কি এর সঙ্গে জড়িত বলে আপনার মনে হয়?

আমি ৪৫ বছরের বেশি সাংবাদিকতা করি৷ কোনোদিন মনে হয়নি আমরা স্বাধীন৷ আসলে আমরা যে ব্যবস্থাটা করছি, সেটা অ্যাডহক৷ আমার মনে আছে, স্বাধীনতার দুই-তিন বছর পর অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ যখন বাজেটে গ্যাসের দাম বাড়ালেন, তখন অনেক মানুষ প্রতিবাদ করেছিলেন৷ এখন খবর হচ্ছে, আমাদের যে গ্যাস আছে সেটা দিয়ে চলবে আর ৮/৯ বছর৷ আমরা কোনোদিন ভাবিইনি আমাদের গ্যাস শেষ হতে পারে৷ তাহলে বিকল্প জ্বালানি কী হতে পারে তা আমরা কোনোদিন ভাবিনি৷ যদি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হতো তাহলে এর একটা ব্যবস্থা হতো৷ এবার যে আন্দোলনটা হলো, সেটার মধ্যে আমরা রাজনীতি দেখি৷ আসলে আমাদের যদি কোনো পরাধীনতা থাকে, তাহলে সেটা হলো ভাবনার পরাধীনতা৷ সমস্যা সাধানের প্রচেষ্টা আমাদের মধ্যে খুবই সীমাবদ্ধ৷

 

আগেও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।৷কিন্তু এভাবে বিক্ষোভ হয়নি৷ বিক্ষোভ এখন কেন এত বড় আকার ধারণ করল?

কিছুদিন আগে যে ছেলেগুলো ধরা পড়ল, তারা তো নিরাপদ সড়কের আন্দোলন করতে যায়নি৷ তার আগে যেসব ছাত্র রাস্তায় এসেছিল, তারা নিরাপদ সড়কের আন্দোলন করছিল৷ কিন্তু কথা হচ্ছে, সরকার তো সড়কের সমস্যার সামাধান করছে না৷ সরকার বলতে আমি রাজনৈতিক সরকার বোঝাচ্ছি না, প্রশাসনিক সরকারের কথা বলছি৷

আমি অভিজ্ঞতা থেকে মনে করি, এই সমস্যার সমাধান এই সরকার না, কোনো সরকারই এসে এর সমাধান করতে পারবে না৷ যে অর্থনৈতিক মডেলের উপর দেশ চলছে, সেখানে আইন করে এর সমাধান করা যাবে না৷ আমার মনে আছে, ২০১৫ সালেই আইন হয়ে আছে৷ আসলে আইন দিয়ে কী হবে যেখানে আইনের শাসন এত দুর্বল? সামনে যে আন্দোলন হবে, সেটাও বড় হবে৷ মানুষ মনে করে, আন্দোলন করে আমি সব পেয়ে যাব৷ আসলে কী পাবে তা সে জানে না৷ ছাত্ররা যে ৯ দফা দিয়েছে, সেটা করতে হলে ২০ বছর দরকার৷ আসলে সমাধানের জন্য ইচ্ছে, দক্ষতা দরকার৷ আমার মনে হয় না সেই ইচ্ছে কারো আছে৷

সরকার তো অনেক কাজ হাতে নিয়েছে, এক ধরনের মনযোগ তো তাদের আছে...

এগুলো হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন৷ অবকাঠামোতে সরকারের মনযোগ বেশি৷ চীন ও ভারত তো অবকাঠামোতে বেশি টাকা দিচ্ছে৷ এটা তো কণ্ট্রাকটারি ব্যবসা৷ দরকার হলো গণপরিবহনে নজর দেয়া৷ এটা করতে হলে গোটা দেশের উন্নয়ন দরকার৷ ট্রান্সপোর্ট সেক্টরে বিনিয়োগ কাদের, যাদের কালো টাকা আছে৷ এখানে কাজ করতে হলে বিআরটিএ'র রুজিতে আঘাত পড়বে৷ অনেকের স্বার্থে লাগবে৷ তাহলে সারাদেশের একটা সংস্কারে হাত দিতে হবে৷ সব বাসের ফিটনেস থাকতে হলে তাদের কী পরিমান বিনিয়োগ বাড়াতে হবে৷ এখন সব নিয়মমতো চললে তাদের আয়ে কতটা হাত পড়বে? শ্রমিকদের দক্ষ করার জন্য আমরা তো ব্যবস্থা নিচ্ছি না৷ দক্ষ শ্রমিককে নিয়োগ করতে আপনার যত টাকা দিতে হতো, তার চেয়ে কম টাকা দিয়ে আপনি অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে সস্তায় লাভ করে নিচ্ছেন৷ এই কারণে এখানে বারবার বিক্ষোভ হবে, কখনো ছোট, কখনো বড়৷

আসলে শ্রমিককে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে কী লাভ৷ তারা কী পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করে সেটা আমি দেখেছি৷ ওরা মদ খায়, নেশা করে, এমন অনেক অভিযোগ দেয়া হবে৷ আসলে এটা গোটা খাতেরই সমস্যা৷ সবাই বলছে, মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই৷ কী হবে মন্ত্রী পদত্যাগ করলে? সবাই বলছে, চালকের ফাঁসি চাই৷ কী হবে এমন পাঁচজন চালকের ফাঁসি হলে? আসলে যতক্ষণ না মানুষ মরছে, ততক্ষণ আমরা এটা কোনো সমস্যাই মনে করি না৷ 

বিক্ষোভ নিয়ে আমরা সব সময়ই ষড়যন্ত্রের কথা শুনি, এ সম্পর্কে যদি কিছু বলেন...

যতদিন রাজনীতি আছে, ততদিন বিক্ষোভ নিয়ে যড়যন্ত্রের আলোচনা হবে৷ আমাদের দেশে রাজনীতির যে অবস্থা আর পরিবহন খাতে এই কাঠামো একই রকম৷ দুটোই অপ্রতিষ্ঠিত, দুটোই ইনফরমাল৷ এবার বেশি এসেছে সামাজিক যোগাযাগের মাধ্যমের কারণে৷ আসলে স্বচ্ছভাবে তথ্যের অভাবেই গুজব ডালপালা মেলে৷ আমি একটা লেখা লিখেছি, ছাত্ররা রাস্তায় নেমে যখন লাইসেন্স চেক করা শুরু করল, সেটা কিন্তু আইনের বরখেলাপ৷ আমরা সবাই খুশি হলাম৷ দেখলাম, পুলিশ লাইসেন্স ছাড়া চলে৷ কিন্তু আপনি যদি আইনের কথা বলেন, তাহলে ওরা যতই দেখিয়ে দিক, তারপরও এটা বেআইনি৷ এরপর পুলিশের সঙ্গে হেলমেটবাহিনী নামলো, সেটাও বেআইনি৷ দুই পক্ষই কিন্তু আমরা বেআইনি কাজগুলো করছি৷ তারপর আমরা ধমক দিয়ে বলছি, এটা করা যাবে না৷

আজকেই আমার এক ছাত্র এসে আমাকে বলল, স্যার, রাস্তায় পুলিশ আমাকে থাপ্পর দিয়েছে৷ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, প্রতিবাদে আমরা আজ কেউ পরীক্ষা দেইনি৷ পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে৷ আসলে একটার সঙ্গে আরেকটার সম্পর্ক৷ বিষয়টাকে আমরা রাজনৈতিক করে ফেলি৷ আসলে দেশে রাজনীতিই নেই, সেখানে কোনো সমস্যা রাজনৈতিক হতে যাবে কেন? আসলে কোটা আন্দোলন বলা হচ্ছে সরকারবিরোধী আন্দোলন৷ আসলে আমি দেখি, এটা সরকারে যাওয়ার আন্দোলন৷ তারা সবাই সরকারের অংশ হতে চায়৷ আসলে কোনো কিছুই রাজনৈতিক নয়৷

 

প্রতিবাদ, বিক্ষোভে যেভাবে ভূমিকা রাখে ফেসবুক

জনসমর্থন পেতে সহায়ক ফেসবুক

আপনি কোনো একটি ইস্যুর প্রতি জনসমর্থন চাচ্ছেন? কিংবা চাচ্ছেন সেই ইস্যুর প্রতি একাত্মতা প্রকাশকারীদের রাজপথে জড়ো করতে? একটি ফেসবুক ইভেন্ট এই কাজ সহজ করে দিতে পারে৷ ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণ আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল এভাবেই, এক ফেসবুক ইভেন্টের মাধ্যমে৷

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ