১৬ অক্টোবর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ৩৭সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১০সেপ্ট–১৬সেপ্ট ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 37 issue: Berlin, Monday 10Sep-16Sep 2018

ফেসবুক লাইভে বিএনপির প্রতীকী অনশন

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি দেশে ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে'

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-09-12   সময়ঃ 00:03:36 পাঠক সংখ্যাঃ 29

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও কারামুক্তির দাবিতে ঢাকায় দুই ঘণ্টার প্রতীকী অনশন করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা, যা ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের ফেসবুক পেজে লাইভ করা হয়েছে৷

বুধবার সকাল ১০টায় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে মাদুর বিছিয়ে অনশনে বসেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা৷ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে মওদুদ আহমদ, আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, বিএনপিপন্থি বু্দ্ধিজীবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদসহ অনেকে বক্তব্য দেন৷

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি দেশে ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে' আনতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান তাঁরা৷

সকাল থেকে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত আরটিভির প্রতিবেদক রুবেল ফেসবুক লাইভে বিএনপির এই অনশন কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, ‘‘এই কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত৷ খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে তারা এই কর্মসূচি দিয়েছিলেন৷''

দীর্ঘ দিন রাজনৈতিক দলের সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত রুবেলের মতে,  সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় বিএনপির সামনে এখন দুটি চাপ রয়েছে আর চাপ দুটি হলো,‘‘ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং অন্যদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া৷''

তিনি জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার রাতে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ওপর দল পরিচলনার ভার দিয়ে অ্যামেরিকায় চলে গেছেন৷ তাঁর নেতৃত্বেই প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়৷

 

সালমান তারেক শাকিল নামের আরেক সাংবাদকি ফেসবুক লাইভে জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচন নিয়ে দুই পর্বে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি৷ তারই অংশ হিসেবে বুধবারের এই প্রতীকী অনশন৷

দলীয় প্রধানের মুক্তি দাবিতে এক সপ্তাহের মধ্যেই বিএনপির আরো কর্মসূচি দেখা যাবে বলে মনে করেন তিনি৷

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন খালেদা জিয়া৷ শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর চলাচলে সমস্যা হওয়ায়অপর একটি দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কারাগারের মধ্যেই আদালত বসানো হয়েছে৷

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশতখালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তার মুক্তিরদাবি জানিয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা৷

ফেসবুক লাইভেই বক্তব্য দিতে শোনা যায় অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদকে৷

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘‘দেশে আজ গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত৷ যে গণতন্ত্রের জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালের একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এবং জনগণ তাঁদের সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এনেছিল, সেই গণতন্ত্র আজ ভেস্তে গেছে৷''

অনশন কর্মসূচি ও ফেসবুক লাইভের শেষ পর্যায়ে ডয়চে ভেলের প্রতিনিধি হারুন উর রশীদ স্বপন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর কাছে জানতে চান, কিভাবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার কথা ভাবছে বিএনপি৷

জবাবে নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা এই অবৈধ সরকারের কাছে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আর চাইব না৷ কারণ, আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে এখন আইনের শাসন নেই৷ আজকে আইনের শাসন না থাকার কারণে আমাদের নেত্রী সম্পূর্ণভাবে এই অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্যাতনে-আক্রোশে বন্দী হয়ে রয়েছে৷''

একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব বলে মনে করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর কণ্যা নিপুন৷

বাংলাদেশের গণতন্ত্র আর খালেদা জিয়ার মুক্তি ‘একই সুতায় গাঁথা‘ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে৷

‘‘আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে৷''

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, আহমেদ আজম খান, রুহুল আলম চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, আমানউল্লাহ আমান, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালীসহ দলে সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন৷

ডয়চে ভেলের এ ফেসবুক লাইভটির সঞ্চালনা করেছেন হারুন উর রশীদ স্বপন৷ ক্যামেরায় ছিলেন সমীর কুমার দে৷

এএইচ/এসিবি

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ